শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ :
• সরকারের ১ বছর পর দেখা যাবে প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যর্থ : হাসনাত আব্দুল্লাহ • গ্রাম পুলিশের মহাসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী • দেশের সরকার ব্যবস্থার অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন জামায়াত আমিরের • ক্ষত মুছে নতুন জীবনের সূচনা, গাজায় ২৫০ দম্পতির গণবিয়ে • ফ্রিতে ওমরাহ করার বিশাল সুযোগ, আবেদন করবেন যেভাবে • তৃতীয় টেস্টেই প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পেয়ে গেলেন তাওহিদ হৃদয় • ৭ নভেম্বরের চেতনায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী • ইরানের পরমাণু প্রকল্পের তথ্য দিলে  ২ কোটি ডলার পুরস্কার দেবে যুক্তরাষ্ট্র • প্রতিদিন একই খাবার খাওয়ার অভ্যাস শরীরে যেসব প্রভাব ফেলতে পারে • জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

ক্ষত মুছে নতুন জীবনের সূচনা, গাজায় ২৫০ দম্পতির গণবিয়ে

ক্ষত মুছে নতুন জীবনের সূচনা, গাজায় ২৫০ দম্পতির গণবিয়ে

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সহায়তায় অনুষ্ঠিত হলো ২৫০ ফিলিস্তিনি দম্পতির গণবিয়ে। ছবি : এএফপি

বিজ্ঞাপন
চারপাশে কেবলই ধ্বংসস্তূপ আর স্বজন হারানোর হাহাকার। ফুটপাতে সাঁটানো প্লাস্টিকের তাঁবু আর ধূলিমলিন বাতাসে ভেসে বেড়ায় যুদ্ধের বিষাদ। ঠিক এমনই এক বিভীষিকাময় বাস্তবতার মাঝেই ফুটে উঠল এক টুকরো রঙিন আলো।চারপাশের ধ্বংসের চিহ্নকে পেছনে ফেলে নতুন জীবন গড়ার অঙ্গীকারে এক হলেন ২৫০ জোড়া ফিলিস্তিনি তরুণ-তরুণী। জীবনের এত ক্ষত আর বেদনার মধ্যেও তারা শোনালেন বেঁচে থাকার গান, নতুন স্বপ্ন আর ভালোবাসার গল্প। খবর রয়টার্সের। 

স্থানীয় সময় শুক্রবার (৬ নভেম্বর) গাজা সিটির ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের ‘সি ক্লাব’ প্রাঙ্গণ সেজে উঠেছিল এক অন্য রূপ। যুদ্ধকবলিত গাজার রাস্তায় সাধারণত এখন দেখা যায় সামরিক যান আর অ্যাম্বুলেন্স। কিন্তু আজ দৃশ্যপট ছিল ভিন্ন। ফিলিস্তিনের জাতীয় পতাকা, তাজা ফুল আর লাল ফিতায় সাজানো গাড়ির দীর্ঘ শোভাযাত্রা গাজা সিটির ধ্বংসপ্রাপ্ত রাস্তা দিয়ে এগিয়ে যায়। গাড়ির হর্ন আর স্বজনদের উল্লাসে কিছুক্ষণের জন্য থমকে গিয়েছিল গাজার বুকচাপা আর্তনাদ।

এই অভূতপূর্ব গণবিয়ের আয়োজন করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘অপারেশন শিভালরাস নাইট ৩’। তাদের সঙ্গে সার্বিক সহায়তায় ছিল সাক্‌র বিন মোহাম্মদ আল কাসিমি চ্যারিটেবল অ্যান্ড হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন। চলমান যুদ্ধ আর চরম আর্থিক সংকটের কারণে গাজার তরুণদের পক্ষে বিয়ের খরচ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। বাস্তুচ্যুত এই তরুণদের জীবনের স্বাভাবিকতা ফেরাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।

আয়োজক কমিটি জানায়, এই গণবিয়ের জন্য আবেদন জমা পড়েছিল ১১ হাজার ৬২২টি। বাছাই শেষে ১ হাজার ৩৩৫ জন তরুণ যোগ্য বলে বিবেচিত হন। পরে লটারির মাধ্যমে ২৫০ জন বরকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়।

জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিনেও তরুণদের মুখে ছিল না স্বজন হারানোর কষ্ট ঢাকার উপায়। জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের বর সাইদ আল-নাজ্জার জানান, ইসরায়েলি হামলায় তাদের পৈতৃক বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এখন তিনি শরণার্থী শিবিরের একটি তাঁবুতে বাস করেন। লটারিতে নাম ওঠার পর আনন্দের অশ্রু মুছে তিনি বলেন, এই আনন্দ শুধু আমার বা এই ২৫০ জন বরের নয়। এই আনন্দ পুরো গাজাবাসীর।

আরেক বর মোহাম্মদ কুয়াইদিরের গল্পটাও একই রকম। যুদ্ধের তাণ্ডবে বাড়িঘর হারিয়েছেন তিনিও। নতুন বাসা ভাড়া নেওয়ার মতো অর্থ তাঁর কাছে নেই। তাই নতুন স্ত্রীকে নিয়ে তিনি উঠবেন একটি সাধারণ তাঁবুতে। তবে কষ্টের মাঝেও তিনি জানান, এই গণবিয়ে তাদের কঠিন সময়ের মধ্যেও নতুন করে বেঁচে থাকার সাহস জুগিয়েছে।

বরের তালিকায় ছিলেন তরুণ মুনির আল-তাতারিও। যুদ্ধের ভয়াবহ দিনে তিনি হারিয়েছেন নিজের জন্মদাত্রী মা ও বহু নিকটাত্মীয়কে। বিয়ের পোশাক গায়ে জড়িয়ে মায়ের কথা মনে করে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। তিনি বলেন, মায়ের খুব ইচ্ছা ছিল আমার বিয়ে দেখার। কিন্তু এত অবরোধ আর যুদ্ধের মধ্যেও আমরা উৎসব করব। নিজেদের হৃদয়ে আশার আলো জ্বালিয়ে রাখব।

চারপাশের ধ্বংসাবশেষ আর বেঁচে থাকার কঠিন লড়াইয়ের মাঝেও অনুষ্ঠিত এই গণবিয়ে যেন পুরো গাজাবাসীকে এক নতুন বার্তা দিল। সমস্ত ক্ষতের ওপর দাঁড়িয়েও জীবন থেমে থাকে না, ভালোবাসার শক্তিতে গাজা আবারও নতুন করে জেগে উঠবে।

ঠিকানা/এএস
বিজ্ঞাপন

নিউজটি শেয়ার করুন


সর্বশেষ আপডেট

 
© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Developed by SolveEz