অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতির কারণে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের (জেএমসি) কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে নিউইয়র্ক সিটির বিল্ডিং ডিপার্টমেন্ট। ৬ নভেম্বর শুক্রবার জুমার নামাজের আগে এ ব্যবস্থা নেওয়ায় শত শত মুসল্লি সেখানে নামাজ আদায় করতে পারেননি।
ফায়ার ডিপার্টমেন্টের তদন্তে জেএমসির সম্প্রসারণাধীন ভবনে অগ্নিনির্বাপণের স্বয়ংক্রিয় স্প্রিংকলার ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টি উঠে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ করা হয়।
নিউইয়র্ক সিটির ফায়ার ডিপার্টমেন্টের স্পেশাল ইন্সপেকশন ইউনিটের ফায়ার প্রটেকশন ইন্সপেক্টর থমাস ফোর্ড ঠিকানাকে জানান, কয়েকটি অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁরা পরিদর্শনে আসেন। স্প্রিংকলার ব্যবস্থা না থাকায় মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকি রয়েছে। এটি স্থাপন না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে।
ফোর্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, স্প্রিংকলার স্থাপনের কাজ শেষ করে ফায়ার ডিপার্টমেন্টকে জানালে পুনরায় পরিদর্শন করা হবে। নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর কার্যক্রম চালুর সুযোগ হবে।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটির প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় কে নেবে, সেটিও বিবেচনা করতে হবে। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাঁদের দায়িত্ব। তিনি বলেন, “একজন মুসল্লি আজ বেঁচে থাকলে কাল তিনি প্রার্থনায় যোগ দিতে পারবেন।”
এ বিষয়ে জেএমসির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার ঠিকানাকে বলেন, স্প্রিংকলার স্থাপনের কাজ চলছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে তাঁরা আশা করছেন। তবে তার আগেই শুক্রবার জুমার নামাজের আগে এসে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, ভবনের নির্মাণকাজ পূর্ণদমে চলছে এবং কর্তৃপক্ষ সতর্কতা অবলম্বন করছে। এখন পর্যন্ত সেখানে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মুসল্লিরা জুমার নামাজ আদায় করতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করে দেলোয়ার বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পুনরায় নামাজের কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে বলে তাঁরা আশাবাদী। এ সময় নিয়মিত মুসল্লিদের আশপাশের মসজিদে নামাজ আদায়ের পরামর্শ দেন তিনি।
জেএমসির চলমান সম্প্রসারণ প্রকল্পে নামাজ ও ধর্মীয় শিক্ষার জন্য জায়গা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে দ্বিতীয় তলার হিফজ বিভাগ তৃতীয় তলায় স্থানান্তর করে প্রায় ১৮০ জন অতিরিক্ত মুসল্লির নামাজের জায়গা তৈরি, ভবনের পুরোনো ও নতুন অংশের সংযোগ উন্নয়ন এবং লিফট স্থাপনের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সম্প্রসারণের অবশিষ্ট কাজের জন্য গত ২৪ অক্টোবর আয়োজিত তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে প্রায় ১০ লাখ ডলারের অনুদান ও প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়।
ঠিকানা/শই
নিউজটি শেয়ার করুন