যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থীদের বার্ষিক ফি জমার সময়সীমা মনে করিয়ে দিতে নতুন অনলাইন টুল চালু করেছে দুটি অভিবাসী অধিকার সংগঠন। ‘অ্যাসাইলাম সিকার অ্যাডভোকেসি প্রজেক্ট’ (এএসএপি) ও ‘ওয়েসিস লিগ্যাল সার্ভিসেস’ যৌথভাবে চালু করেছে ‘অ্যাসাইলাম.ইনফো’ নামের এই সেবা। এর মাধ্যমে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের (ইউএসসিআইএস) কাছে বিচারাধীন আশ্রয়ের আবেদন রয়েছে—এমন ব্যক্তিরা বার্ষিক ফি জমার সময়সীমা সম্পর্কে সতর্কবার্তা পাবেন।
গত ২৯ অক্টোবর সংগঠন দুটি জানায়, ২০২৫ সালে প্রণীত ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল’-এর আওতায় বার্ষিক আশ্রয় ফি চালু করা হয়েছে। নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে ফি জমা না দিলে আবেদন প্রত্যাখ্যান এবং কাজের অনুমতি বাতিলের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে আদালতের একটি আদেশের কারণে আপাতত ফি না দেওয়ার কারণে আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যান ও ওয়ার্ক পারমিট বাতিলের কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।
নতুন টুলটি প্রতিদিন ইউএসসিআইএসের ফি-সংক্রান্ত তথ্য পর্যবেক্ষণ করবে। ফলে আবেদনকারীরা সময়সীমা সম্পর্কে আগাম সতর্কতা পাবেন। সংগঠন দুটির অভিযোগ, বিপুলসংখ্যক আশ্রয়প্রার্থীকে ফি জমার বিষয়ে যথাযথ নোটিশ দেওয়া হয়নি। এতে অনেকেই নির্ধারিত সময় নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
ওয়েসিস লিগ্যাল সার্ভিসেসের নির্বাহী পরিচালক অ্যাডাম রায়ান চ্যাং বলেন, জটিল অর্থ পরিশোধের নিয়মের কারণে কোনো আশ্রয়প্রার্থীর অভিবাসন মামলা ঝুঁকিতে পড়া উচিত নয়। নতুন টুলের মাধ্যমে প্রায় ১০ লাখ আশ্রয়প্রার্থীর কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
এএসএপির সহ-নির্বাহী পরিচালক স্বপ্না রেড্ডি বলেন, অনেক আশ্রয়প্রার্থী ফি দিতে আগ্রহী হলেও সময়সীমা নিয়ে উদ্বিগ্ন। নতুন সেবাটি তাঁদের সেই উদ্বেগ কমাতে সহায়তা করবে।
সংশ্লিষ্ট মামলায় ইউএসসিআইএস আদালতকে জানিয়েছে, আদালতের আদেশ কার্যকর হওয়ার আগে ২ লাখ ২৭ হাজার ১৮৬টি আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যানের ঝুঁকিতে ছিল। তবে আদালতের স্থগিতাদেশ থাকলেও বার্ষিক ফি আদায় অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠন দুটি।
আশ্রয়প্রার্থীরা ধংুষঁস.রহভড় ওয়েবসাইটে গিয়ে টুলটিতে নিবন্ধন করতে পারবেন। তবে এটি আইনি পরামর্শের বিকল্প নয়। নিজের মামলার অবস্থা ও ফি জমার বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে ইউএসসিআইএসের সরকারি নির্দেশনা যাচাই এবং প্রয়োজনে অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠন দুটি।