বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

সাউথ ক্যারোলাইনায় বাংলাদেশি কমিউনিটির বনভোজন সম্পন্ন

সাউথ ক্যারোলাইনায় বাংলাদেশি কমিউনিটির বনভোজন সম্পন্ন

বিজ্ঞাপন
আহমেদ সাকলায়েন : বাংলাদেশি কমিউনিটি অব সাউথ ক্যারোলাইনার বার্ষিক বনভোজন ও মিলনমেলা গত ২৪ অক্টোবর শনিবার লেক্সিংটনের পাইন আইল্যান্ড স্টেট পার্কের মনোরম লেকের পাশে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবছরের মতো এবারও কমিউনিটির বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণে বনভোজনস্থল পরিণত হয় একখণ্ড বাংলাদেশে।
সপ্তাহজুড়ে কর্মব্যস্ততা, আর ছুটির দিনে গ্রোসারি ও রান্নার ব্যস্ততায় যাঁদের সময় কাটে, তাঁদের জন্য দিনটি ছিল নিঃসন্দেহে আলাদা। সকাল ১১টার পর থেকেই বনভোজনস্থলে আসতে শুরু করেন অতিথিরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে কোলাহলও। ঝালমুড়ি আর চা খেতে খেতে ছোট ছোট দলে আড্ডায় মেতে ওঠেন অনেকে। শিশু-কিশোরেরাও খুঁজে নেয় নিজেদের খেলার সঙ্গী।
লেকের স্বচ্ছ পানিতে নীল আকাশের ছায়া। সেই আকাশেই দেখা মেলে বাংলার চিরায়ত রঙিন ঘুড়ির। আব্দুল্লাহ এম. খানের উদ্যোগে আনা ঘুড়িটি ওড়ানোর ব্যবস্থা করেন আরশাদুজ্জামান সুমন। পুরুষদের কেউ ক্যারম খেলায়, কেউবা দেশ-বিদেশের রাজনীতি নিয়ে আলোচনায় ব্যস্ত ছিলেন। নারীরা মেতে ওঠেন খোশগল্পে ও ছবি তোলায়।
সাউথ ক্যারোলাইনায় বাংলাদেশি কমিউনিটির বনভোজন সম্পন্ন
মধ্যগগনের সূর্য পশ্চিমে হেলে পড়তেই আসে খাবারের ডাক। এবার খাবারের আয়োজন ছিল পটলাক পদ্ধতিতে। শাহানা হাসানের তত্ত্বাবধানে কমিউনিটির অভিজ্ঞ রাঁধুনিদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয় বিভিন্ন পদ। সবাই সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের পছন্দমতো খাবার তুলে নেন।
খাবার শেষে শুরু হয় খেলাধুলার পর্ব। শিশুরা মেতে ওঠে বিস্কুট দৌড় প্রতিযোগিতায়। বিশেষ আকর্ষণ ছিল শিশুদের ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’ পর্ব। নানা সাজে এতে অংশ নেয় তারা। কেউ সেজেছিল বাংলার গ্রামের বধূ, কেউ পরি, কেউ হ্যালোইনের সাজে; কেউবা স্পাইডারম্যান, আবার কেউ মুক্তিযোদ্ধা।
সমানসংখ্যক নারী ও পুরুষের দুটি দলের মধ্যে সুতা দিয়ে হাতের স্পর্শ ছাড়াই হ্যাঙ্গার পাসিং খেলা হয়। দুই দলের সমর্থকদের উচ্ছ্বাস আর করতালির মধ্যে নারীদের দল বিজয়ী হয়।
খেলাধুলার পর্ব শেষে আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা ড. জিয়া হাসান ও শাহানা হাসান অংশগ্রহণকারীদের হাতে ফুল তুলে দেন। বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তিদের দেওয়া হয় পদক। কমিউনিটির পরিচিত মুখ সোহরাব হোসেন এ বছর ইউএস আর্মির মেজর পদ থেকে অবসর নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর বিশেষ অবদানের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে একটি বিশেষ ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। ক্রেস্ট গ্রহণ করে সম্মানিত করায় ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান সোহরাব হোসেন।
আয়োজকদের একজন আব্দুল হাকিম বলেন, “কমিউনিটির সবার সঙ্গে দেখা, কুশল বিনিময় এবং একসঙ্গে আনন্দ করার সুযোগ তেমন হয় না। তাই বছরের এই বিশেষ আয়োজনের সুযোগ এলে চেষ্টা করি, যেন তা সুন্দর ও সার্থক হয়।”
তিনি মনে করেন, এ ধরনের আয়োজন কমিউনিটির মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য বাড়ায়। পাশাপাশি শিশু-কিশোরেরা আমাদের সংস্কৃতি, পোশাক, আয়োজন ও খাবারের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়।
অবশেষে শুরু হয় ফেরার পালা। বিদায়ের আগে সবাই বছরের স্মৃতি ধরে রাখতে তোলেন গ্রুপ ছবি।


 

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Developed by SolveEz