জন্ম-মৃত্যু-স্থিতি-লয় ইত্যাদি প্রসঙ্গে আস্তিক ও নাস্তিকদের ধ্যান-ধারণা, চিন্তা-চেতনা এবং জীবনাচরণে রয়েছে গগনচুম্বী ব্যবধান। আস্তিক, বিশেষত ইসলাম ধর্মের অনুসারীরা কায়মনোবাক্যে স্বীকার করেন, জন্ম-মৃত্যু, শুভ-অশুভ ইত্যাদি সবকিছুর একমাত্র নিয়ন্ত্রক বিশ্ব প্রতিপালক মহান আল্লাহ। পক্ষান্তরে নাস্তিক বা বস্তুবাদী এবং অন্য ধর্মাবলম্বীদের সিংহভাগ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের জন্য নানা কল্পিত শক্তির আধারকে প্রভুজ্ঞান করে থাকেন। এভাবেই সেই প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে বিশ্বচরাচরে পৌত্তলিকতাসহ নানা দেব-দেবীর অর্চনার সূত্রপাত হয়েছে। পাশ্চাত্য সমাজের বহুল প্রচলিত হ্যালোইনও তেমন একটি ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে উদ্ভূত হয়েছে।
হ্যালোইন শব্দটি মূলত অল হ্যালোজ এইভ (সকল হ্যালো বা সন্ন্যাসীর বিদায় সায়াহ্ন) মানে অল হ্যালোজ বা অল সেইন্টস (সন্ন্যাসী) ডের অপরাহ্ণ থেকে উদ্ভূত। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, মৃত্যুর পর স্বর্গে স্থান অর্জনকারী জানা বা অজানা খ্রিষ্টান গির্জাগুলোর সকল সন্ন্যাসীকে অল সেইন্টস দিবসে প্রগাঢ় ও আরাধনার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। এর পেছনে অবশ্য অনেকগুলো উৎসও রয়েছে। সপ্তম শতাব্দীতে চতুর্থ পোপ বনিফেস মূলত ১৩ মে অল সেইন্টস ডে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। নিবেদিতপ্রাণ বিদেহী পুণ্যাত্মাদের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা নিবেদনার্থে অষ্টম শতাব্দীতে ২ নভেম্বর অল সেইন্টস ডে উদ্্যাপন করা হয়।
আত্মার সদগতি ও সঠিক দিকনির্দেশনার খাতিরে কোনো কোনো অঞ্চলের লোকজন অল হ্যালোজ সায়াহ্নে শ্মশানে কিংবা জানালায় মোমবাতি জ্বালিয়ে থাকে। বিশেষ প্রার্থনা এবং প্রদীপ প্রজ্বালন কর্মকাণ্ড হ্যালোইনে দৈত্য-দানবের হাতে নিহতদের স্মরণে নতুন মাত্রার সংযোজন করে। বৃহত্তর ক্যাথলিক অধ্যুষিত দেশগুলোতে সকল সন্ন্যাসী এবং পুণ্যাত্মাদের ধর্মীয় ছুটির দিবসগুলোতে বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, ইউরোপ এবং লাতিন আমেরিকার অনেক অঞ্চলে ১ ও ২ নভেম্বর জনগণ গোরস্থানে সশরীরের হাজির হয়ে নিজেদের মৃত স্বজনদের আত্মার সদগতির জন্য প্রার্থনা করে। মেক্সিকোর খ্রিষ্টধর্ম-বহির্ভূত ডায়া ডে লস মুরটস (মৃতদের দিবসের) সঙ্গে খ্রিষ্টান ছুটির দিবসের অবশ্য কোনো যোগসূত্র নেই। মেক্সিকোর এই বিশেষ অনুষ্ঠানমালা উপলক্ষে প্রতিবছর ৩১ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত মেক্সিকানরা ফুল, বাতি, বর্ণাঢ্য ছবি, ফলমূল-খাবার দিয়ে চিত্ত চমৎকারী বেদি সাজায় এবং স্বজনহারারা পরস্পরকে নিমন্ত্রণ করে। মূলত হ্যালোইন থেকে খানিকটা ভিন্নধর্মী হলেও ধর্মীয় বিভিন্ন কর্মকাণ্ড-মুখরোচক ভোজ ইত্যাদির মাধ্যমে স্বজনেরা মৃতদের আত্মার সদগতি কামনা করে থাকেন। এমনকি হাড়-কাঁপানো শীতের প্রচণ্ডতা এবং দৈত্যদের ভয় দেখানোর জন্য জনগণ পাহাড়ের শীর্ষে আরোহণ করে ও আগুন জ্বালায়। জিন-ভূত-দৈত্য-দানব-ডাইনি ইত্যাদি যেন তাদের চিনতে না পারে, সেই আশায় জনগণ নানা ধরনের মুখোশও পরিধান করে। বিয়ে-শাদি, স্বাস্থ্য, মৃত্যু ইত্যাদি বিষয়াদিরও বিচার স্যামহাইন যুগে বিশেষ অনুকূলীয় ও কল্যাণকর ছিল বলে ধারণা করা হয়।
সনাতনী বর্ণনানুসারে প্রাচীন আয়ারল্যান্ডের কেলট জাতিদের স্যামহিয়ান অনুষ্ঠানমালার সঙ্গে হ্যালোইনের সম্পর্ক রয়েছে। সমসাময়িক বর্ষপঞ্জির আনুমানিক ধারণানুসারে নভেম্বরে শীত মৌসুমের সূত্রপাত, পশুগুলোকে চারণভূমিতে আনা হতো এবং ভূমির নতুন কার্যকাল নবায়ন করা হতো বিধায় নভেম্বরেই নব বছরের শুভ সূচনা হতো। আরও ধারণা করা হয়, স্যামহাইনের বিদায়ের প্রাক্কালে জীবিত এবং মৃত নিষ্পাপদের মধ্যকার বিভেদ সৃষ্টিকারী জাগতিক সীমানারেখা অপসৃত হতো এবং প্রেতাত্মারা গোটা বিশ্ব চষে বেড়াত। তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী, মৃতদের আত্মাগুলো নিজেদের পরিত্যক্ত বাড়িঘর দর্শনে আসত এবং সারা বছর যারা মারা গেছে তাদের আত্মারাজি অন্য বিশ্ব ভ্রমণ করত। কোনো কোনো বর্ণনানুসারে, প্রথম শতাব্দীতে রোমানরা ব্রিটেনের কেল্টস দখল করার পর তারা মৃতদের স্মরণে এবং গাছগাছড়া, বনলতার দেবী পোমোনার ঐতিহ্যবাহী তাদের নিজস্ব ধর্মীয় অনুষ্ঠান ফেরালিয়ার আমদানি করেছিল। বলার অপেক্ষা রাখে না, খ্রিষ্ট ধর্মের উৎস এবং ধর্মীয় ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় পৌত্তলিক বা নাস্তিকতার আদি ভিত্তির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনার্থে আমেরিকাসহ বিশ্বের অনেক দেশে ৩১ অক্টোবর হ্যালোইন অবকাশ দিবস উদ্্যাপন করা হয়। ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকার সিংহভাগ এলাকায় বর্তমানে ধর্মীয় বিষয়াদির স্থলে ভূরিভোজ, দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা, রং-বেরঙের মুখোশ, জ্যাক-ও-ল্যান্টারনস নামে কথিত কুমড়োর ভাস্কর্য এবং ট্রিক-অর-ট্রিট হ্যালোইন অনুষ্ঠানমালার স্থান দখল করেছে। এ ছাড়া অলহ্যালোটাইড (ল্যাটিন : পিরিয়ড অব থ্রি ডেজ মানে তিন দিবস সময়কাল) নামক একটি খ্রিষ্টান ট্রিডামের সূচনাকালও চিহ্নিত করা হয় হ্যালোইন দ্বারা। উল্লেখ্য, ৩১ অক্টোবর সায়াহ্ন অল হ্যালোজ ইভ (অর্থাৎ মহাপাতকী দৈত্য-দানব-অশরীরী-ডাইনি ও প্রেতাত্মাদের দ্বারা সংঘটিত প্রলয়ংকরী ধ্বংসযজ্ঞের সায়াহ্ন) থেকে ১ (অল সেইন্টস ডে—সকল সন্ন্যাসী দিবস) এবং ২ নভেম্বরের (অল সোলস ডে বা সকল আত্মার দিবস) প্রলয়ংকরী ধ্বংসযজ্ঞে সকল হ্যালো বা সাধু-সন্ন্যাসী ও জীবিতরা ধরাধাম থেকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। মূলত তাদের আত্মার সদগতি কামনায় এবং তাদের স্মরণার্থে হ্যালোইন উদ্্যাপন করা হয়।
ডে ফর গ্লোবাল ফুড : জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রচার-প্রসার ও উৎকর্ষ এবং সময়ের অগ্রগতির সঙ্গে মানুষের চিন্তা-চেতনা এবং মনন রাজ্যেও পরিবর্তনের ঢেউ আছড়ে পড়ে। তাই ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ এবং মৃতদের আত্মার সদগতি কামনা থেকে হ্যালোইনের সূচনা হলেও মধ্যযুগে এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন অনুষঙ্গের সংযোগ-বিয়োগ ঘটে। মূলত মধ্যযুগেই অল হ্যালোজ ইভ এবং সেইন্টস ডে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। ওই সংস্কারের ফলে প্রোটেস্ট্যান্টদের জীবনধারা থেকে অপরিহার্য ধর্মীয় অবকাশ বিদায় নেয়। তবে ব্রিটেনে অদ্যাবধি ধর্মীয় অবকাশ দিবস হিসেবে হ্যালোইন উদ্্যাপনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। সবিশেষ প্রণিধানযোগ্য, আমেরিকান উপনিবেশে গোড়ার দিকে অন্যান্য অনুষ্ঠানের মতো হ্যালোইন উদযাপনও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ছিল। অবশ্য অষ্টাদশ শতাব্দীতে হ্যালোইনের অনুষঙ্গের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ শস্য কর্তনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান উদ্্যাপন শুরু হয়। উনবিংশ শতাব্দীর সূচনালগ্নে আয়ারল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ অভিবাসী নিজস্ব কৃষ্টি-সংস্কৃতি-ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধসহ আমেরিকায় স্থায়ী বসতি গড়তে শুরু করে। অনবদ্য কারণে বিশেষত আমেরিকান শিশু-কিশোর-তরুণ-তরুণীর নিকট হ্যালোইন অন্যতম প্রধান জাতীয় উসবের স্থান দখল করে নেয়। সংগত কারণেই উল্লেখ করতে হয়, ডে ফর গ্লোবাল ফুড (বিশ্ব খাদ্য দিবস) যুক্তরাষ্ট্রে যুব সম্প্রদায় সম্পৃক্ত এবং পরিচালিত একটি দীর্ঘকালীন জনকল্যাণকর ক্যাম্পেইন বা কর্মসূচি। ট্রিক-অর-ট্রিট ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে যুবসমাজ এই কর্মসূচির তহবিল সংগ্রহ করে থাকে। তাই হ্যালোইনকে বিশ্ব খাদ্য দিবসে পরিণত করতে (গ্লোবাল ফুড) বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে ইউনিসেফ (ইউনাইটেড ন্যাশনস চিলড্রেন’স ফান্ড) শিশু-কিশোরদের বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত ও আগ্রহান্বিত করছে। ফিলাডেলফিয়ার একজন শিক্ষিকা এবং তার স্বামী ১৯৪৭ সালে এই মহতী উদ্যোগের শুভসূচনা করেন। তারাই ইউনিসেফের জন্য ক্যান্ডির পরিবর্তে পরিত্যক্ত খাবার নিজ নিজ এলাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করার জন্য শিশু-কিশোরদের অনুপ্রাণিত করেন। অল্প দিনেই উদ্যোগটি সমগ্র আমেরিকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। সারা বিশ্বের আর্তমানবতার সেবায় এবং দুর্দশাগ্রস্ত শিশু-কিশোরদের শিক্ষা এবং অভুক্ত জনগোষ্ঠীর জন্য অনুদান সংগ্রহের নিমিত্তে বর্তমানে ট্রিক-অর-ট্রিটিং শিশু-কিশোররা কমলালেবুর ছোট ছোট বাক্স নিয়ে দ্বারে দ্বারে কড়া নাড়ে।
জ্যাক-ও-ল্যান্টার্ন : মুখ খানিকটা খোলা ও ফাঁপা ভেতরে প্রজ্জ্বলিত মোমবাতি সংবলিত জ্যাক-ও-ল্যান্টার্ন নামে পরিচিত খাঁজ করা কুমড়া হ্যালোইনের জনপ্রিয় প্রতীক। জানামতো ব্রিটিশ আইজলসে এর প্রবর্তন হয়েছিল। সেখানকার বাসিন্দারা কুমড়া বা অন্যান্য শাকসবজির চেয়ে শালগমকে বেশি পছন্দ করত। আর আয়ারল্যান্ডের জনশ্রুতি অনুসারে, জ্যাক-ও-ল্যান্টার্ন মূলত স্টিঞ্জি জ্যাক নামে এক ব্যক্তির কাহিনির সঙ্গে সম্পৃক্ত। কথিত আছে, আর্থিক সুবিধা আদায়ের জন্য জ্যাক এক ডেভিল বা শয়তানকে মদ্যপান করিয়েছিল এবং বিল পরিশোধের জন্য বলে-কয়ে তাকে মুদ্রায় পরিণত হতে রাজি করিয়েছিল। শয়তান মুদ্রায় পরিণত হওয়ার পর সে যেন পুনরায় শয়তানে পরিণত হতে না পারে, সে জন্য জ্যাক মুদ্রাটিকে সিলভার ক্রসের পাশে তার পকেটে পুরে ফেলল। জ্যাককে এক বছরের মধ্যে বিপর্যস্ত করবে না কিংবা তার প্রাণবায়ু ছিনিয়ে নেবে না—শুধু এই প্রতিশ্রুতিতেই জ্যাক শয়তানকে মুক্তি দিতে রাজি ছিল। এক বছর পর জ্যাক ডেভিল বা শয়তানের সঙ্গে আবার কৌশল খেলল। এবার শয়তানকে একটি গাছের শীর্ষে ফাঁদে আটকানোর লক্ষ্যে জ্যাক নতুন ফন্দি আঁটল এবং দৈত্যকে বলে-কয়ে গাছে আরোহণ করিয়ে বিশেষ ফাঁদে আটকাল। পরবর্তীতে শুধু দণ্ডদান কার্য ১০ বছর বিলম্বিত করার শর্তে জ্যাক শয়তানকে মুক্তি দিল। যাহোক, একপর্যায়ে শঠ জ্যাকেরও ভবলীলা সাঙ্গ হলো এবং স্বর্গ বা নরক কেউ জ্যাকের মরদেহকে স্থান দিল না। এ পর্যায়ে অন্ধকারে চরে বেড়ানোর অভিশাপপ্রাপ্ত জ্যাককে চলার পথ আলোকিত করার জন্য একটি প্রজ্জ্বলিত কয়লাখণ্ড প্রদান করা হলো। প্রজ্জ্বলিত আগুনের কয়লাটি জ্যাক একটি খাঁজকাটা শালগমের মাঝে রাখল। সময়ের অগ্রযাত্রায় জ্যাকের ভ্রাম্যমাণ প্রেতাত্মা মূলত জ্যাক অব দ্য ল্যান্টার্ন কিংবা জ্যাক ও ল্যান্টার্ন নামে পরিচিতি লাভ করেছে। তাই ধারণা করা হয়, অশুভ প্রেতাত্মা বা শয়তানের প্রলয়যজ্ঞ কিংবা ধ্বংসযজ্ঞের হাত থেতে পরিত্রাণ পেতে খাঁজকাটা শালগম কিংবা কুমড়া সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
কস্টিউম ও মাস্ক (বিশেষ ধরনের পোশাক ও মুখোশ) : সেই স্মরণাতীত কাল এবং মধ্যযুগ থেকেই কস্টিউম (বিশেষ ধরনের পোশাক) ও মাস্ক (মুখোশ) পরিধান হ্যালোইন ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। স্যামহাইন যুগের বাসিন্দারা বিশ্বাস করতেন, মৃতদের প্রেতাত্মারা রাত্রিকালে গোটা বিশ্ব চষে বেড়ায়। তাই প্রেতাত্মা এবং শয়তানদের প্রতারিত কিংবা বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে জনগণ পশুর চামড়া বা অন্য কিছুতে ছদ্মাবরণ করত। অবশ্য সময়ের অগ্রযাত্রায় কস্টিউম এবং মাস্ক পরিধানে নতুন ধ্যান-ধারণা সংযোজিত হয়। ফলে হ্যালোইন কস্টিউমে দৈত্য-দানব-শয়তান-ডাইনি-রূপকথায় বর্ণিত নিদ্রিত ব্যক্তিদের রক্তচোষণকারী ভূত ইত্যাদি ভীতি উদ্রেক দৃশ্যাবলির সঙ্গে বীরত্বব্যঞ্জক চিত্রাবলিও স্থান পায়।
ট্রিক অর ট্রিট : পুরাণের বর্ণনানুসারে সোল কেইস নামে কথিতদের জন্য গরিবদের খাবার সংগ্রহের উদ্যোগটি ব্রিটিশ সমাজব্যবস্থায় প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে অনুমোদন পেয়ে আসছে। ধারণা করা হয়, ব্রিটিশ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানাদি সংশ্লিষ্ট সনাতনী সমাজব্যবস্থার কথিত সোল কেইসের জন্য গরিবদের খাবার সংগ্রহ উদ্যোগ থেকেই প্রকৃত প্রস্তাবে হাল আমলের ট্রিক-অর-ট্রিট শব্দগুচ্ছ উদ্ভূত। হ্যালোইন উদযাপনকারী হইচইপূর্ণ অক্ষতিকর রঙ্গকৌতুকে মত্তরা ট্রিক অব ট্রিট অনুশীলনের জন্য জমকালো পোশাক ও নানা ধরনের মুখোশ পরিধান করে থাকে। তারা দ্বারে দ্বারে হানা দিয়ে ভয় দেখায় যে ক্যান্ডি জাতীয় কোনো ধরনের ট্রিট বা সামগ্রী প্রদান করা না হলে তারা তাদেরকে নিজের দিকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে আসবে। আর স্কটল্যান্ডবাসীর বর্ণনানুসারে, বহুল পরিচিত অল সেইন্টস ডে-তে শিশু-কিশোর এবং প্রাপ্তবয়স্ক গরিবরা মৃতদের আত্মার সদগতি কামনার বিনিময়ে স্থানীয় জনগণের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাবার ও অর্থ সংগ্রহ করত। অনুষ্ঠানটির গায়ে ধর্মীয় আলখেল্লা পরানোর পর মৃতদের আত্মার সদগতি কামনা তিরোহিত হয় এবং তদস্থলে ট্রিকস, সংগীত এবং হাসি-কৌতুক ইত্যাদি স্থান পায়। তারা জোর গলায় দাবি করেন, হাল আমলের ট্রিট অব ট্রিট অনুষঙ্গটি বস্তুত ওই প্রথা থেকে উদ্ভূত। সবিশেষ প্রণিধানযোগ্য, আয়ারল্যান্ডের আধো আধো মা মা বুলির ট্রিট অব ট্রিটে হ্যালোইন উদযাপনকারীরা দৈত্য-দানবের পোশাকে দেহাচ্ছাদিত করে খাবার এবং পানীয়ের বিনিময়ে নানা ধরনের অর্থহীন কর্মকাণ্ড করত। সময়ের অগ্রযাত্রায় হ্যালোইনের সঙ্গে কালো বিড়াল, বাদুড় ইত্যাদি প্রাণীর সংযোজন ঘটে। কুসংস্কারবাদীরা কালো বিড়াল এবং বাদুড়কে যাবতীয় অমঙ্গলের বার্তাবাহী জ্ঞান করে থাকে।
লেখক : সাবেক প্রধান শিক্ষক, গ্রন্থকার এবং সহযোগী সম্পাদক, ঠিকানা, নিউইয়র্ক।