মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ :

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

বিজ্ঞাপন
ইমিগ্রেশন থেকে বিয়ে, পারিবারিক সম্পর্ক থেকে বিচ্ছেদ, দুর্ঘটনা থেকে ক্ষতিপূরণ। আমেরিকায় জীবনের প্রায় প্রতিটি বাঁকেই জড়িয়ে আছে আইন। এই আইনি বাস্তবতার আড়ালে কত মানুষের স্বপ্ন, অসহায়ত্ব, কান্না আর বেঁচে থাকার গল্প

আমেরিকায় পায়ে পায়ে আইন: স্বপ্নের দেশে মানুষের অদৃশ্য লড়াই

আমেরিকায় পায়ে পায়ে আইন: স্বপ্নের দেশে মানুষের  অদৃশ্য লড়াই

আমেরিকায় পায়ে পায়ে আইন: স্বপ্নের দেশে মানুষের অদৃশ্য লড়াই। ছবি- এআই

বিজ্ঞাপন
আমেরিকায় পা রাখার পর একটা বিষয় খুব ভালোভাবে বুঝতে শুরু করেছি, এখানে মানুষের জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে কোনো না কোনোভাবে আইন জড়িয়ে আছে। আপনি কীভাবে এ দেশে এসেছেন, কোথায় থাকছেন, কী কাজ করছেন, কাকে বিয়ে করছেন, কার সঙ্গে সংসার করছেন, এমনকি সংসার ভেঙে গেলে কীভাবে আলাদা হচ্ছেন, সবকিছুরই একটা আইনি প্রক্রিয়া আছে। দুর্ঘটনায় পড়লে ক্ষতিপূরণের প্রশ্ন, কর্মক্ষেত্রে সমস্যা হলে আইনি অধিকার, আবার বৃদ্ধ বয়সে নিজের সন্তানের সঙ্গে বসবাস করলেও কখনো কখনো অধিকার আদায়ের জন্য আইনের আশ্রয় নিতে হয়।
ল’ ফার্মে কেস ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতে গিয়ে প্রতিদিন মানুষের জীবনের নানা গল্পের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছি। কিছু গল্প শুনে অবাক হতে হয়, কিছু গল্প ভাবিয়ে তোলে, আর কিছু গল্প এমনভাবে হৃদয়ে আঘাত করে যে পেশাগত দায়িত্বের জায়গায় থেকেও আবেগ সামলে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
চলুন একটি ছোট্ট ঘটনা দিয়ে শুরু করি।
একদিন একজন বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষের সঙ্গে দেখা জ্যাকসন হাইটসের একটা রেস্টুরেন্টে। বললেন, “বাবা, একটা সিঙাড়া খাওয়াবেন?” খুব সাধারণ একটি চাওয়া। স্বাভাবিকভাবেই জানতে চাইলাম, “চাচা, আপনি কী করেন? কোথায় থাকেন?”
প্রশ্নটি করতেই মানুষটির চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়তে শুরু করল। আমি কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম। বললাম, “চাচা, আমি দুঃখিত আপনাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য। কাইন্ডলি শুনতে পারি, কী হয়েছে আপনার?”
তিনি বলতে শুরু করলেন, দুই-তিন বছর আগে তাঁর ছেলে তাঁকে বাংলাদেশ থেকে নিউইয়র্কে নিয়ে এসেছে। ভেবেছিলেন, ছেলের কাছে থাকবেন, নাতি-নাতনিদের সঙ্গে সময় কাটাবেন, জীবনের শেষ সময়টা একটু নিশ্চিন্তে কাটবে। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, ছেলে তাঁকে হাতখরচের জন্য একটি ডলারও দেয় না। নিজের প্রয়োজনের সামান্য কিছু চাওয়ারও সুযোগ নেই। অথচ তিনি শুনেছেন, তাঁর নামে হোম কেয়ার সেবার মাধ্যমে পরিবার আর্থিক সুবিধা পাচ্ছে!
কথাগুলো বলতে বলতে মানুষটি কাঁদছিলেন।
আমি তাঁর সব অভিযোগের সত্যতা জানি না। জানার সুযোগও হয়নি। কিন্তু তাঁর চোখের পানিটুকু মিথ্যা ছিল না। আমার মনে হচ্ছিল, যে মানুষটি একসময় নিজের সংসার গড়েছেন, সন্তানকে বড় করেছেন, হয়তো নিজের সবটুকু দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ তৈরি করেছেন, আজ সেই মানুষটিই জীবনের শেষ সময়ে এসে একটি সিঙাড়া খাওয়ার ইচ্ছা পূরণ করতে গিয়ে অন্যের মুখাপেক্ষী।
আমেরিকায় আসার স্বপ্ন কি এমন ছিল তাঁর?
আমরা যখন আমেরিকায় আসার গল্প শুনি, তখন সাধারণত দেখি সুন্দর বাড়ি, গাড়ি, ভালো চাকরি, ডলারের আয় আর উন্নত জীবন। কিন্তু সেই ছবির বাইরে আরও একটি আমেরিকা আছে। সেখানে আছে একাকিত্ব, পারিবারিক অবহেলা, সম্পর্কের টানাপোড়েন, আর্থিক নির্ভরশীলতা এবং কখনো কখনো নিজের অস্তিত্ব নিয়েই অসহায় হয়ে পড়া মানুষের গল্প।
স্বপ্নের দেশ, কিন্তু সবার স্বপ্নের পরিণতি এক নয়।
এখানে সম্পর্কেরও আইনি ঠিকানা আছে।
আমেরিকায় ল নিয়ে কাজ করতে এসে বুঝেছি, শুধু ইমিগ্রেশন নয়, মানুষের ব্যক্তিগত সম্পর্কের সঙ্গেও আইন গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।
কেউ বিয়ে করছেন ভালোবাসার মানুষটিকে নিয়ে নতুন জীবন শুরু করতে। কেউ আবার বিয়ের মাধ্যমে বৈধ অভিবাসনের সুযোগ পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন। কারও সংসার সুন্দরভাবে চলছে, আবার কারও বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই শুরু হচ্ছে বিচ্ছেদের প্রস্তুতি। কেউ সন্তানের হেফাজত নিয়ে লড়ছেন, কেউ ভরণপোষণ নিয়ে, আবার কেউ বছরের পর বছর একসঙ্গে থাকার পরও নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন।
কখনো এমন পরিস্থিতিও সামনে আসে, যেখানে একটি বিয়ের পেছনে ভালোবাসার চেয়ে ইমিগ্রেশন সুবিধা পাওয়ার প্রত্যাশা বড় হয়ে ওঠে। আবার অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত সম্পর্কের মধ্যেও ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার জটিলতা পরিবারকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেয়।
একটি বিয়ে এখানে শুধু দুটি মানুষের সম্পর্ক নয়, অনেক সময় এর সঙ্গে যুক্ত হয় অভিবাসন, আর্থিক দায়িত্ব, সন্তান, সম্পত্তি এবং ভবিষ্যৎ জীবনের নানা আইনি বিষয়।
আবার যখন সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়, তখন শুধু দুটি মানুষ আলাদা হন না; অনেক সময় ভেঙে যায় একটি পরিবারের স্বপ্ন, সন্তানের নিরাপত্তাবোধ এবং বহু বছরের সাজানো জীবন।
দুর্ঘটনাও কখনো কারও জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়!
আমেরিকায় দুর্ঘটনা, ব্যক্তিগত আঘাত কিংবা কর্মক্ষেত্রে ক্ষতির ঘটনায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আইনি সুযোগ রয়েছে। এ ধরনের ঘটনা নিয়েও মানুষের নানা অভিজ্ঞতা সামনে আসে প্রতিনিয়ত।
কেউ গাড়ি দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিচ্ছেন। কারও কর্মক্ষমতা কমে গেছে। কেউ নিজের চিকিৎসা ব্যয় এবং হারানো আয়ের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য আইনি লড়াই করছেন। আবার কোনো কোনো ঘটনায় ক্ষতিপূরণ বাবদ বড় অঙ্কের অর্থ পাওয়ার খবরও শোনা যায়।
কখনো মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণের গল্পও সামনে আসে। এসব গল্প শুনে অনেকের মনে হয়, আমেরিকায় দুর্ঘটনা মানেই বুঝি বড় অঙ্কের টাকা পাওয়ার সুযোগ।
কিন্তু বাস্তবতা এত সহজ নয়। প্রতিটি দুর্ঘটনার পরিস্থিতি আলাদা। ক্ষতির ধরন, চিকিৎসার নথি, দায় নির্ধারণ, বিমা এবং প্রযোজ্য আইনের ওপর নির্ভর করে আইনি প্রক্রিয়া। ক্ষতিপূরণ পাওয়া যেমন নিশ্চিত নয়, তেমনি এর পেছনে দীর্ঘ সময়, চিকিৎসার কষ্ট এবং আইনি লড়াইও থাকতে পারে।
একজন মানুষ হয়তো কয়েক লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন, কিন্তু সেই অর্থ দিয়ে কি তাঁর আগের সুস্থ জীবন ফিরে এসেছে? দুর্ঘটনার পর যে শারীরিক যন্ত্রণা, মানসিক চাপ কিংবা কর্মক্ষমতা হারানোর কষ্ট তাঁকে বয়ে বেড়াতে হচ্ছে, তার মূল্য কি অর্থ দিয়ে মাপা যায়?
ইমিগ্রেশনের অপেক্ষায় কত মানুষের কত রাত!
আমেরিকার অভিবাসনপ্রত্যাশী মানুষের গল্পগুলো আরও বিচিত্র আর অদ্ভুত।
কেউ বৈধ ভিসায় এসে স্থায়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। কেউ পারিবারিক স্পনসরশিপের অপেক্ষায়। কেউ কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসনের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে আবেদন করছেন। কেউ বিনিয়োগের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ গড়তে চান। আবার কেউ সীমান্ত পেরিয়ে এসে অ্যাসাইলাম আবেদন করেছেন, নিজের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।
কারও মামলা কয়েক মাসে এগোয়, কারও বছরের পর বছর কেটে যায় অপেক্ষায়। কেউ কোর্টের তারিখের অপেক্ষায় থাকেন, কেউ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন। কারও পরিবারের সদস্য দেশে রয়ে গেছেন, কারও সন্তান জন্ম নিয়েছে আমেরিকায়, অথচ বাবা-মায়ের অভিবাসন পরিস্থিতি অনিশ্চিত।
একটি কাগজের জন্য কত মানুষের কত রাত নির্ঘুম কাটে, তা বাইরে থেকে বোঝা কঠিন। ওই মানুষগুলোর কাছে যখন শুনি, তখনই কেবল বুঝতে পারি কত কঠিন বাস্তবতার মধ্যে জীবন বহমান।
কেউ প্রতিদিন নিজের মেইলবক্স পরীক্ষা করেন। কেউ অনলাইনে মামলার আপডেট খোঁজেন। কেউ আইনজীবীর ফোনের অপেক্ষায় থাকেন। আবার কেউ একটি সাক্ষাৎকার বা শুনানির তারিখকে কেন্দ্র করে পুরো পরিবারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাজিয়ে রাখেন।
এখানে ডলারের পাশাপাশি মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান জিনিসটিরও হিসাব চলে, সেটি হলো সময়।
আইনের পথে সবাই, কিন্তু সবার লড়াই এক নয়!
আমার কাজের সুবাদে প্রতিদিন এমন সব মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হয়, যাঁদের প্রত্যেকের জীবন আলাদা। কেউ এসেছেন ইমিগ্রেশন বিষয়ে পরামর্শ ও আইনি সহায়তার প্রত্যাশায়। কেউ দুর্ঘটনার পর নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চান। কেউ বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়ায়, কেউ পারিবারিক জটিলতায়, আবার কেউ ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।
একটি বিষয় প্রায় সবার মধ্যেই দেখি, প্রত্যেকে কোনো না কোনোভাবে নিজের জন্য একটু নিরাপদ জীবন খুঁজছেন।
কেউ গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায়, কেউ কাজের অনুমতির জন্য, কেউ নিজের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে, আবার কেউ দীর্ঘদিনের সংসার ভেঙে যাওয়ার পর নতুন করে বাঁচার পথ খুঁজছেন।
কেউ হয়তো আইনের সুযোগ সম্পর্কে জানেন, কেউ জানেন না। কেউ সঠিক সময়ে আইনজীবীর সহযোগিতা পান, কেউ ভুল তথ্যের কারণে আরও জটিলতায় পড়েন। আবার কেউ মানুষের কথায় প্রভাবিত হয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন, যার পরিণতি সামলাতে হয় দীর্ঘদিন।
এখানে একটি বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ, আইনকে জানতে হবে এবং আইন মেনেই নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। শুধু অন্যের অভিজ্ঞতা শুনে নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। কারণ একটি মামলার সঙ্গে আরেকটি মামলার মিল থাকলেও আইনি বাস্তবতা এক নাও হতে পারে।
ডলারের দেশে মানুষের মূল্য কতটুকু?
আমেরিকায় এসে অনেকেই অর্থনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। সেই স্বপ্নের পেছনে প্রতিদিন ছুটছেন মানুষ। কেউ একাধিক কাজ করছেন, কেউ রাত জেগে পড়াশোনা করছেন, কেউ ব্যবসা দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন। কেউ দেশে পরিবারের জন্য টাকা পাঠাচ্ছেন, কেউ নিজের ভবিষ্যৎ গড়ছেন।
কিন্তু এই ছুটে চলার মধ্যে মানুষ কখনো কখনো নিজের কাছের মানুষগুলোকেই হারিয়ে ফেলেন অনেকাংশেই।
একজন বাবা হয়তো ছেলের ভবিষ্যৎ গড়তে নিজের জীবনটাই উৎসর্গ করেছেন, অথচ বৃদ্ধ বয়সে এসে ছেলের কাছেই অবহেলিত। একজন মা হয়তো মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখতে গিয়ে নিজের কষ্ট লুকিয়ে রাখছেন। আবার কোনো স্বামী বা স্ত্রী বছরের পর বছর একসঙ্গে থাকার পর আদালতে দাঁড়িয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন।
বাইরে থেকে এসব ঘটনা শুধু একটি মামলা, একটি আবেদন কিংবা একটি আইনি প্রক্রিয়া। কিন্তু প্রতিটি ফাইলের পেছনে থাকে একজন মানুষ, একটি পরিবার, কিছু অপূর্ণ স্বপ্ন এবং অনেক না-বলা কথা।
ল ফার্মে কাজ করতে গিয়ে আমার কাছে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি উপলব্ধি হয়, তা হলো, একটি কেস কখনো শুধু কাগজপত্রের সমষ্টি নয়। এর পেছনে থাকে মানুষের জীবন।
শেষ পর্যন্ত মানুষ একটু নিশ্চিন্তে বাঁচতে চায়!
আমেরিকায় আইন আছে, আইনি অধিকার আছে, অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিষ্ঠান আছে। কিন্তু সেই অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা এবং সঠিক আইনি সহযোগিতা পাওয়ার সুযোগও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে নতুন অভিবাসীদের জন্য প্রয়োজন সঠিক তথ্য। ইমিগ্রেশন, বিয়ে, পারিবারিক সম্পর্ক, কর্মক্ষেত্র, দুর্ঘটনা কিংবা সম্পত্তি, প্রতিটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা দরকার। ভুল তথ্য কিংবা অন্যের অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নিলে তার মূল্য অনেক সময় পুরো পরিবারকে দিতে হয়।
আমি পেশাগত দায়িত্বের জায়গা থেকে প্রতিদিন মানুষের এসব গল্পের কিছু অংশ দেখতে পাই। সব গল্পের শেষ জানি না, সব সমস্যার সমাধানও আমার হাতে নেই। কিন্তু প্রতিটি অভিজ্ঞতা প্রতিদিন আমাকে নতুন করে ভাবায়।
সেদিনের সেই বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষটির কথা এখনো মনে পড়ে। একটি সিঙাড়া খেতে চাওয়ার মধ্যে যে এতটা অভিমান, এতটা কষ্ট লুকিয়ে থাকতে পারে, তা হয়তো আগে কখনো এভাবে উপলব্ধি করিনি।
আমরা অনেকেই আমেরিকায় আসি ভালো থাকার আশায়। সন্তানকে ভালো রাখতে, পরিবারকে নিরাপদ রাখতে, নিজের ভবিষ্যৎ বদলাতে। কিন্তু জীবনের শেষ প্রান্তে এসে যদি একজন মানুষকে সামান্য হাতখরচের জন্যও চোখের পানি ফেলতে হয়, তাহলে আমাদের সাফল্যের সংজ্ঞা নিয়েও একবার ভাবা উচিত।
সবাই এখানে কোনো না কোনো লড়াইয়ে ব্যস্ত। কেউ কোর্টে, কেউ ইমিগ্রেশন অফিসে, কেউ আইনজীবীর চেম্বারে, কেউ হাসপাতালের বিছানায়, আবার কেউ নিজের ঘরের ভেতরেই একা।
আমেরিকায় সত্যিই পায়ে পায়ে আইন। কিন্তু আইনের এই দীর্ঘ পথচলায় আমরা যেন মানুষকে কিংবা মনুষ্যত্বকে ভুলে না যাই।
কারণ শেষ পর্যন্ত একজন মানুষের সবচেয়ে বড় চাওয়া হয়তো গ্রিন কার্ড, মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ কিংবা বড় বাড়ি নয়। কখনো কখনো তার চাওয়া শুধু একটু সম্মান, একটু নিরাপত্তা, পরিবারের ভালোবাসা আর নিজের মতো করে বেঁচে থাকার অধিকার।
স্বপ্নের দেশে প্রতিষ্ঠিত হওয়া বড় কথা, কিন্তু সেই প্রতিষ্ঠার পথে মানুষ হয়ে থাকাটাই বোধহয় তার চেয়েও বড় ব্যাপার।

মাইনুল ইসলাম: সাংবাদিক, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র।

 

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Developed by SolveEz