হাউজ ও সিনেটে নিয়ন্ত্রণ হারাল রিপাবলিকানরা; মেয়াদের শেষ দুই বছরে কঠিন পরীক্ষায় প্রেসিডেন্ট, সমঝোতার আগ্রহ
কংগ্রেস ডেমোক্র্যাটদের, বড় ধাক্কায় ট্রাম্প
শহীদুল ইসলাম
প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৮:০১
•
অনলাইন সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ অর্জন করেছে ডেমোক্র্যাটরা। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর মধ্য দিয়ে বড় রাজনৈতিক ধাক্কা খেলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। টেক্সাস, ক্যানসাস ও আইওয়ার মতো রিপাবলিকান শক্ত ঘাঁটিতেও ডেমোত্র্যাটদের জয় ওয়াশিংটনের ক্ষমতার ভারসাম্য পাল্টে দিয়েছে। হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প বহাল থাকলেও আইনসভায় তাঁর দলের একক নিয়ন্ত্রণের অবসান ঘটতে যাচ্ছে।
রাত ২টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সব আসনের ফল নিষ্পত্তি হয়নি। ফলে দুই কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা শেষ পর্যন্ত কত বড় হবে, তা জানতে আরও ফলের অপেক্ষা রয়েছে। তবে নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ায় এখন আলোচনার কেন্দ্রে ট্রাম্পের বাকি মেয়াদ, প্রশাসনের ওপর কংগ্রেসের নজরদারি এবং দুই দলের মধ্যে সম্ভাব্য রাজনৈতিক সংঘাত।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই অবশ্য কংগ্রেসের নতুন ক্ষমতার বিন্যাস কার্যকর হচ্ছে না। জানুয়ারিতে নবনির্বাচিত সদস্যরা দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতৃত্ব, কমিটির নিয়ন্ত্রণ ও আইন প্রণয়নের অগ্রাধিকার নতুনভাবে নির্ধারিত হবে। তখন ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছরে প্রশাসন পরিচালনার রাজনৈতিক পরিবেশও বদলে যাবে।
ডেমোক্র্যাটদের সাফল্যের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, তাদের জয় প্রচলিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। যেসব অঙ্গরাজ্যে সাম্প্রতিক নির্বাচনে রিপাবলিকানদের অবস্থান শক্ত ছিল, সেখানেও দলটি গুরুত্বপূর্ণ আসন হারিয়েছে।
নির্বাচনের আগে সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ছিল ৫৩টি। ডেমোক্র্যাট ও তাঁদের সঙ্গে থাকা স্বতন্ত্র সদস্যদের সম্মিলিত আসন ছিল ৪৭টি। ভাইস প্রেসিডেন্ট রিপাবলিকান হওয়ায় ৫০-৫০ সমতা যথেষ্ট ছিল না; নিয়ন্ত্রণ ফেরাতে ডেমোক্র্যাটদের প্রয়োজন ছিল নিট চারটি আসন বাড়ানো।
সেই কঠিন সমীকরণ বদলে যায় একের পর এক রিপাবলিকান আসনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ে। নর্থ ক্যারোলাইনা, সাউথ ক্যারোলাইনা, ওহাইও, টেক্সাস, ক্যানসাস ও আইওয়ার ফল সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জর্জিয়াতেও নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ আসন ধরে রাখে ডেমোক্র্যাটরা।
এই ফল রিপাবলিকানদের জন্য শুধু আসন হারানোর ঘটনা নয়। এত দিন তুলনামূলক নিরাপদ বলে বিবেচিত এলাকাগুলোতেও ভোটারদের অসন্তোষ যে নির্বাচনী শক্তিতে পরিণত হতে পারে, এবারের ভোট তার স্পষ্ট উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ জয়টি আসে আইওয়া থেকে। সেখানে রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য অ্যাশলি হিনসনকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট জশ টুরেক। অবসরে যাওয়া রিপাবলিকান সিনেটর জনি আর্নস্টের আসনে এই জয় উচ্চকক্ষে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথ নিশ্চিত করে।
অঙ্গরাজ্য আইনপ্রণেতা ও সাবেক প্যারালিম্পিয়ান টুরেকের জয় আইওয়ার রাজনৈতিক অবস্থানের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম অঙ্গরাজ্যটিতে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেট নির্বাচনে জয় পেলেন।
আইওয়ার ফল দেখিয়েছে, জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবারের ব্যয়সংক্রান্ত উদ্বেগও নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার গতিপথ বদলে দিতে পারে। রিপাবলিকানদের দখলে থাকা একটি আসন ছিনিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে টুরেক সেই অসন্তোষকে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ভোটে রূপান্তর করতে সক্ষম হয়েছেন।
ক্যানসাসে রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালকে পরাজিত করেছেন মেথডিস্ট যাজক অ্যাডাম হ্যামিল্টন। ১৯৩২ সালের পর অঙ্গরাজ্যটিতে এই প্রথম কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেট নির্বাচনে জয় পেলেন। দীর্ঘ বিরতির পর পাওয়া এই সাফল্য এবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের অগ্রযাত্রার অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
ওহাইওতে রিপাবলিকান জন হাস্টেডকে হারিয়ে সিনেটে ফিরছেন শেরড ব্রাউন। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ছেড়ে যাওয়া আসনটি এবার ডেমোক্র্যাটদের দখলে গেল। টেক্সাসে রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটনকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট জেমস টালারিকো।
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ওহাইও ও টেক্সাস-দুই অঙ্গরাজ্যেই বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প। দুই বছরের ব্যবধানে সেখানে গুরুত্বপূর্ণ সিনেট আসন হারানো রিপাবলিকানদের জন্য বড় সতর্কবার্তা। একই সঙ্গে এসব জয় দেখিয়েছে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটের মানচিত্র মধ্যবর্তী নির্বাচনেও অপরিবর্তিত থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
মেইন রাজ্যেও ধাক্কা খেয়েছেন রিপাবলিকানরা। দীর্ঘদিনের সিনেটর সুসান কলিন্স ডেমোক্র্যাট ট্রয় জ্যাকসনের কাছে পরাজয় স্বীকার করেছেন। অঙ্গরাজ্য সিনেটের সাবেক প্রেসিডেন্ট জ্যাকসনের জয় উচ্চকক্ষে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে।
সিনেটের পাশাপাশি প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউজেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে ডেমোক্র্যাটরা। পেনসিলভানিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে রিপাবলিকানদের পরাজয়সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জয় এই ফলের পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
হাউজের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের ফলে আইনসভার নিম্নকক্ষের কার্যসূচি নির্ধারণে ডেমোক্র্যাটদের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হবে। কোন বিল আলোচনায় আসবে, কোন বিষয়ে শুনানি হবে এবং প্রশাসনের কোন সিদ্ধান্ত নিয়ে তদন্ত করা হবে, এসব ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন এবং নতুন নেতৃত্বের অধীনে কার্যকরভাবে কাজ করা পৃথক চ্যালেঞ্জ। ডেমোক্র্যাটদের নিজেদের সদস্যদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখতে হবে। বিশেষ করে অর্থনীতি, সরকারি ব্যয়, অভিবাসন ও পররাষ্ট্রনীতির মতো বিষয়ে দলের ভেতরের ভিন্ন অবস্থান সমন্বয় করা নেতৃত্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
নির্বাচনী প্রচারে জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির দাম এবং সরকারি দুর্নীতি নিয়ে অসন্তোষ বড় জায়গা করে নেয়। প্রতিদিনের বাজার, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচের চাপ ভোটারদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।
এসএসআরএস পরিচালিত বুথফেরত জরিপের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, প্রায় প্রতি ১০ জন ভোটারের ৯ জন জীবনযাত্রার ব্যয়কে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বা বড় বিবেচ্য বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। জরিপে দেশের গতিপথ নিয়েও ব্যাপক অসন্তোষ উঠে এসেছে।
অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের বাইরে পরিবারগুলো নিজেদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা দিয়ে সরকারের সাফল্য বিচার করে। আয় দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানো যাচ্ছে কি না, মাস শেষে সঞ্চয় থাকছে কি না এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বস্তি আছে কি না—এ ধরনের প্রশ্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের জন্য বড় পরীক্ষায় পরিণত হয়।
এবার সেই পরীক্ষায় রিপাবলিকানদের বড় মূল্য দিতে হয়েছে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের ওপর কংগ্রেসের আরও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ চাওয়ার বিষয়টিও ভোটারদের মনোভাবে উঠে এসেছে।
রিপাবলিকানদের বিপর্যয়ের মধ্যে নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়া এবং ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। রয়টার্সের প্রতিবেদনে তাঁর এই অবস্থানের কথা উঠে এসেছে।
তবে সমঝোতার আগ্রহ প্রকাশ করলেই ভবিষ্যতের রাজনৈতিক বিরোধ দূর হয়ে যায় না। সরকারি অর্থায়ন, সীমান্তনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, কর এবং প্রশাসনিক তদন্তের মতো প্রশ্নে হোয়াইট হাউজ ও কংগ্রেসের নতুন নেতৃত্বের অবস্থান কতটা কাছাকাছি আসে, তার ওপর সম্পর্কের গতিপথ নির্ভর করবে।
ট্রাম্পের সামনে এখন একই সঙ্গে দুটি রাজনৈতিক প্রয়োজন তৈরি হয়েছে। একদিকে তাঁকে নিজের সমর্থকদের কাছে নেতৃত্বের দৃঢ়তা দেখাতে হবে; অন্যদিকে প্রশাসনের প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত ও আইন পাসের জন্য বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনাতেও যেতে হতে পারে।
সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানো ট্রাম্পের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিচারক এবং মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ পদসহ যেসব মনোনয়নে সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন, সেগুলো এগিয়ে নিতে তাঁকে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান বিবেচনায় নিতে হবে।
নতুন সংখ্যাগরিষ্ঠ দল মনোনীত ব্যক্তিদের যোগ্যতা, অতীত কর্মকাণ্ড ও নীতিগত অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত শুনানি করতে পারবে। ফলে প্রশাসনের পছন্দের প্রার্থীদের অনুমোদন আগের তুলনায় কঠিন হতে পারে।
আইন প্রণয়নেও একই ধরনের সমঝোতার প্রয়োজন বাড়বে। কেবল রিপাবলিকান সদস্যদের সমর্থনের ওপর নির্ভর করে হোয়াইট হাউসের অগ্রাধিকার এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ সংকুচিত হবে। কোনো বড় প্রস্তাব পাস করতে হলে এমন ভাষা ও শর্ত খুঁজতে হবে, যা বিরোধী দলের অন্তত একটি অংশের কাছে গ্রহণযোগ্য।
এর ফলে কিছু প্রস্তাব সংশোধিত হতে পারে, কিছু দীর্ঘ আলোচনায় আটকে যেতে পারে এবং কিছু প্রস্তাব ভোটাভুটির পর্যায়েই না-ও পৌঁছাতে পারে।
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় প্রশাসনিক জবাবদিহির ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসবে। দুই কক্ষের কমিটিগুলোর নেতৃত্ব পেলে তাঁরা প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে শুনানি আয়োজন, তথ্য ও নথি চাওয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
সরকারি অর্থ ব্যয়, নীতি বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার জন্য এসব প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ। এত দিন বিরোধী দল হিসেবে যেসব বিষয়ে ডেমোক্র্যাটরা অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন, নতুন কংগ্রেসে সেগুলোর কিছু অগ্রাধিকার পেতে পারে।
তবে কোনো তদন্ত শুরু হওয়া মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। তদন্তের ফল নির্ভর করবে প্রাপ্ত নথি, সাক্ষ্য ও সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার ওপর। একইভাবে কংগ্রেস ও প্রশাসনের মধ্যে তথ্য সরবরাহ নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে তা আদালত পর্যন্ত গড়ানোর সম্ভাবনাও থাকবে।
কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলেও ডেমোক্র্যাটদের হাতে সরকারের সব ক্ষমতা চলে যাচ্ছে না। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের ভেটো ক্ষমতা এবং নির্বাহী কর্তৃত্ব বহাল থাকবে। ফলে ডেমোক্র্যাটরা নিজেদের পছন্দমতো আইন পাস করলেই তা কার্যকর হয়ে যাবে না।
এই বাস্তবতায় উভয় পক্ষের ওপর সমঝোতার চাপ বাড়বে। বিশেষ করে সরকারি অর্থায়ন ও ঋণসীমার মতো বিষয়ে দীর্ঘ অচলাবস্থা তৈরি হলে তার প্রভাব সরকারি কার্যক্রম এবং সাধারণ মানুষের জীবনে পড়তে পারে।
ডেমোক্র্যাটদের জন্যও নির্বাচনী বিজয়ের পর প্রত্যাশার চাপ বাড়বে। ভোটাররা তাঁদের কাছে শুধু ট্রাম্পের বিরোধিতা নয়, জীবনযাত্রার ব্যয় ও অন্যান্য বাস্তব সমস্যার সমাধানে দৃশ্যমান উদ্যোগ চাইবেন। কিন্তু বিভক্ত সরকারের মধ্যে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে হবে রাজনৈতিক দর-কষাকষি ও প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা মেনেই।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের এই ফল ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরাচ্ছে না। তবে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের একক নিয়ন্ত্রণের অবসান তাঁর বাকি মেয়াদের রাজনৈতিক হিসাব বদলে দিয়েছে। জানুয়ারির পর হোয়াইট হাউজের প্রতিটি বড় উদ্যোগের সামনে শক্তিশালী বিরোধী নেতৃত্বের উপস্থিতি থাকবে। ফলে আগামী দুই বছরে ওয়াশিংটনের রাজনীতি এগোবে তিনটি সমান্তরাল ধারায়, প্রশাসনের ওপর কঠোর নজরদারি, প্রয়োজনীয় বিষয়ে সমঝোতার চেষ্টা এবং মতপার্থক্যের জায়গায় প্রকাশ্য সংঘাত।
ডেমোক্র্যাটদের জন্য এখন পরীক্ষা হলো নির্বাচনী সাফল্যকে কার্যকর নেতৃত্বে রূপ দেওয়া। আর ট্রাম্পের জন্য চ্যালেঞ্জ, বিরোধী দলের নিয়ন্ত্রণে থাকা কংগ্রেসের সঙ্গে কাজ করে নিজের বাকি মেয়াদের অগ্রাধিকার কতটা বাস্তবায়ন করতে পারেন। ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলেছে; সেই পরিবর্তন সাধারণ মানুষের জীবনে কী ফল আনে, সেটিই হবে পরবর্তী বড় প্রশ্ন।