শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

নস্টালজিয়ার ধ্রুপদি মূর্ছনা

নস্টালজিয়ার ধ্রুপদি মূর্ছনা

বিজ্ঞাপন
দিমা নেফারতিতি

পহেলা বৈশাখের সকাল,
কিচেনে তখন কাজু কিশমিশ দিয়ে
পনিরের কোরমার মহাকাব্য,
সর্ষে বেগুন, ডিমের পুরভরা আলুর চপ,
জলপাইয়ের চাটনি।
ওদিকে ইন্সট্যান্ট পটে ঘিয়ের সাদা পোলাওয়ের বুকে
দ্যুতি ছড়াচ্ছে সোনালি সোনালি বেরেস্তা।
টেবিলে গুড়ের পায়েস আর গাজরের হালুয়া পেস্তা - আমন্ড সাথে নিয়ে হাসছে অপ্সরার মতো।
কিন্তু সব ছাপিয়ে আমার কানে বাজছিল কেবল
আমার মায়ের কণ্ঠস্বর।

আম্মা যেন আমার কিচেনে এসেছেন,
রকিং চেয়ারটায় বসে, চায়ের কাপ হাতে নিয়ে
মিষ্টি করে বলছেন,
‘দিমা, কোরমা নামাবার আগে একটু ঘি ছড়িয়ে দিও। মাটন কিমাতে ধনেপাতা দিও। গাজরের হালুয়া নাড়তে থাকো অনেকক্ষণ ধরে।’

তারপর...
দুপুরে রোদে যখন ফড়িং নাচছিল ড্যান্ডালিওনের ঝাড়ে
ভেতরে রোদের আল্পনা এসে পড়ছিল উইন্ডচাইমের ক্রিস্টালগুলোয়।
সেন্টার টেবিলে থরে থরে সাজিয়ে রাখলাম সমস্ত ডিশ।
জেনিফার এল সবার আগে, এরপর একে একে এল
লিন্ডা, সারাহ, ইলারিয়া। মুখর হলো আমার লিভিং রুম।

বৈশাখের প্রথম দিনে
আমেরিকান বান্ধবীদের পাতে বেড়ে দিলাম
আমার মায়ের রেসিপির ট্র্যাডিশনাল বাঙালি খাবার।
খেতে খেতে ওরা বলল, “ইটস ইয়াম্মি। ইওর মাম’স রেসিপি ইজ দ্য বেস্ট।”
তখন সবার ভিড়ে আমি কেবল দেখছিলাম আম্মার মুখটা।
আর আম্মার সেই অপূর্ব সুন্দর হাসিটা।

আম্মা রান্নায় জয়ত্রী, জয়ফল, শাহী জিরা, আলু বোখারা; বহুমাত্রিক মসলার সাথে দুটো বিশেষ মসলা মেশাতেন সব সময়। আম্মার সেই অসাধারণ মসলা দুটির নাম ছিল,  ভালোবাসা এবং শিল্প।
আমাদের জন্য ঐতিহ্য এবং শিল্পের মেলবন্ধনে রান্না করা ছিল, আম্মার প্যাশন।
আর আমার প্যাশন, আম্মার রেসিপিতে আম্মাকে খুঁজে ফেরা।

আমার প্রবাসের কিচেনে আমি যখন রান্না করি,
আম্মার স্মৃতির পাপড়িরা উড়তে থাকে আমার চারপাশে।
মসলার ঘ্রাণ আর নস্টালজিয়ার ধ্রুপদি মূর্ছনায় ভেসে,
আমি রান্না করি আর মাকে খুঁজে ফিরি।

দূরের ওই নীল আকাশ থেকে আম্মা কি তা দেখতে পায়?

ঠিকানা/এনআই

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Developed by SolveEz