বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

​আমেরিকার নষ্টচরিত রাজাধিরাজদের প্রায়শ্চিত্তের সাতকাহন

​আমেরিকার নষ্টচরিত রাজাধিরাজদের প্রায়শ্চিত্তের সাতকাহন

বিজ্ঞাপন
উর্বশী মেনকারা আজীবন পুরুষের চিত্তবিক্ষেপের কারণ হয়ে থাকে। এটি নিছক ভাববিলাস কিংবা হেঁয়ালিপূর্ণ উক্তি বা চিত্তচমৎকারী ঢঙের লোকপ্রবচন নয়। এ সত্যেরই ভূরি ভূরি প্রমাণ রয়েছে অসংখ্য রাজ্য-সাম্রাজ্যের উত্থান-পতন এবং কিংবদন্তিদের চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার বাস্তবতায়। আবার কাম-ক্রোধ-লোভ-মোহ-মাৎসর্য ইত্যাদি আশরাফুল মাখলুকাত হিসেবে স্বীকৃত বনি আদম তথা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। পক্ষান্তরে বংশবিস্তারের অবিচ্ছেদ্য ধারাবাহিকতায় বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গে আকর্ষণ এবং অবাধ যৌনসম্ভোগ প্রাণিজগতের অবিচ্ছেদ্য বৈশিষ্ট্য হলেও সমাজবদ্ধ জীব মানুষের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। কারণ যৌনসম্ভোগের প্রশ্নে মানুষকে ধর্ম-সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুসৃত নিয়মকানুন যথাসাধ্য মেনে চলতে হয়। ব্যত্যয়ের ক্ষেত্রে সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার ভীমরুলের চাকে খোঁচা পড়ে, জগৎজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার বিষবাষ্প উদগিরণ শুরু হয়। ফলে বিশেষ উদ্ভাবনী শক্তিসম্পন্ন ও কিংবদন্তিতুল্য রাজাধিরাজদের জনপ্রিয়তায় ধস নামে এবং তখতে-তাউস রাতারাতি ধপাস করে ভূপাতিত হয়। তাই প্রাচীন গ্রিসের অবরুদ্ধা রানি হেলেনকে উদ্ধারের কাজে ব্যবহৃত উডেন হর্স অব ট্রয়ের (ট্রয়ের কাঠের ঘোড়া) দাপটে ট্রয়ের লন্ডভন্ড হওয়ার কাহিনি ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে যায়নি। অনুরূপভাবে নিজ কন্যা জানকী বা সীতার রূপে আসক্ত রাক্ষসরাজ রাবণের মর্মন্তুদ পরিণতি এবং মর্ত্যরে স্বর্গপুরী সোনার লঙ্কার শ্মশানে পরিণত হওয়ার ঘটনাবলি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মন থেকে মুছে যায়নি। পাশাপাশি হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর পরম পুণ্যবতী পত্নী বিবি ছায়েরার প্রতি মিসরের কামুক রাজাধিরাজ ফেরাউনের লালসার হাত বাড়ানোর করুণ পরিণতি এবং পরিশেষে নিজ দাসী, মতান্তরে নিজ কন্যা হাজেরাকে সেবাদাসী হিসেবে বিবি ছায়েরাকে উপহার দেওয়ার ইতিহাসও বিশ্ব মুসলিমের অজানা নয়।

এদিকে সময়ের অগ্রযাত্রায় আধুনিক বিশ্বের নতুন তিলোত্তমা যুক্তরাষ্ট্রের কিছু সংখ্যক প্রেসিডেন্ট, জনপ্রতিনিধি এবং বিচারকের যৌন অসদাচরণ ও কেলেঙ্কারির ঊর্মিমালা দেশের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বের সাগরতটে আছড়ে পড়েছে। [সংগত কারণেই বলতে হচ্ছে : যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে পরস্পরের দেহ স্পর্শ, পরস্পরের চুমু খাওয়া ইত্যাদি দৈহিক কর্মকাণ্ডকে সেক্স হিসেবে সংজ্ঞায়ন করা হয়েছে। আর নৈতিকতা বা শোভনতার বাহ্যিক কিংবা প্রকৃত লঙ্ঘনের মাধ্যমে সুখ্যাতির ক্ষতি বা ধ্বংসকে স্ক্যান্ডেল হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।] আমেরিকার কয়েকজন নষ্টচরিত প্রেসিডেন্টের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি নিচে প্রদত্ত হলো :
ডোনাল্ড ট্রাম্প : নিউইয়র্কে জন্মগ্রহণকারী রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৬ সালের নির্বাচনে ভাগ্যের বরপুত্র হিসেবে আমেরিকার রাজনীতিতে হঠাৎ ধূমকেতু হিসেবে আবির্ভূত হন। অবশ্য ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে হোয়াইট হাউসে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ এবং পর্ন তারকা ড্যানিয়েল স্টর্মির সঙ্গে অবৈধ প্রণয়সহ নানা অভিযোগে ট্রাম্পকে সর্বদা গলদঘর্ম হতে হয়েছে। বিশেষত, ২০২১ সালে হোয়াইট হাউস ত্যাগের পর ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে পর্ন তারকা ড্যানিয়েল স্টর্মিকে ব্যক্তিগত আইনজীবী কোহেনের মাধ্যমে মুখ বন্ধ রাখার শর্তে হাশ মানি প্রদানের ফৌজদারি মামলায় তার দুর্ভোগ তুঙ্গে উঠেছিল। ওই মামলায় ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী কোহেন আইনজীবীর সনদ হারিয়েছেন এবং কয়েক বছর কারাভোগও করেছেন। আর যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একমাত্র প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প যৌন কেলেঙ্কারি ও ফৌজদারি মামলায় স্বয়ং ৩৪টি কাউন্টে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এ ছাড়া লেখক ই জিন ক্যারলকে যৌন নির্যাতনের অপরাধে আদালত ট্রাম্পকে ৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করেন। সৌভাগ্যক্রমে প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুনরায় শপথ গ্রহণের পর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নিউইয়র্ক সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞ বিচারক হুয়ান মার্চেন ট্রাম্পকে ওই মামলা থেকে শর্তহীন অব্যাহতি প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট হিসেবে শাসনতান্ত্রিক সুরক্ষার কারণে ট্রাম্পকে সাজা দেওয়া থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগ তুলেছে। অভিযোগনামা অনুসারে ১৯৮০-এর দশকে এপস্টেইনের মাধ্যমে পরিচিত হওয়ার পর তৎকালীন ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী উর্বশীকে ট্রাম্প জোর করে যৌন মিলনে বাধ্য করতে চেয়েছিল। ২০১৯ সালের জবানবন্দি দীর্ঘদিন নথিতে কালো কালিতে ঢেকে রাখার চেষ্টা করা হলেও সম্প্রতি প্রকাশ হয়ে পড়ায় বেচারা ট্রাম্প চরম নাকানি-চুবানি খাচ্ছেন।

বিল ক্লিনটন : ৪২তম প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম জেফারসন ক্লিনটনকে গোবরে পদ্মফুল বললে অত্যুক্তি হবে না। ১৯৪৬ সালের ১৯ আগস্ট জন্ম নেওয়ার চার মাসের মাথায় কার দুর্ঘটনায় তার পিতার মৃত্যু হয়। ১৫ বছর বয়সে বিলি তার বিপিতার নাম অনুসারে নিজের নাম রাখেন বিল ক্লিনটন। ক্যাথলিক ধর্মবিশ্বাসী বিল ক্লিনটন পরিণত বয়সে হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং একমাত্র কন্যা চেলসির জন্ম দেন। প্রথিতযশা আইনজীবী এবং ডাকসাইটে ডেমোক্র্যাট ক্লিনটনকে অনেকে বুবা ছদ্মনামে অভিহিত করে থাকেন। ৪৫ বছর বয়সে বিল ক্লিনটন ১৯৯৩-১৯৯৬ এবং পরবর্তীতে ১৯৯৬-১৯৯৯ সালের জন্য প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। ওভাল অফিসে ইন্টার্ন মনিকা লিউনস্কির সঙ্গে ওরাল সেক্সের দরুন সৃজনশীল প্রতিভার অধিকারী ডেমোক্র্যাটিক দলীয় প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনকে চরম নাকানি-চুবানি খেতে হয়েছিল। শপথ নিয়ে মিথ্যা বলার দায়ে সিনেটে ৫৫ জন সিনেটর ক্লিনটনের পক্ষে এবং ৪৫ জন সিনেটর বিপক্ষে ভোট দেওয়ায় ক্লিনটন অভিশংসনের হাত থেকে ১৯৯৮ সালে বেঁচে যান। তবে আরকানসাস স্টেট ৫ বছরের জন্য ক্লিনটনের আইনজীবীর সনদ বাতিল করেছিল। অধিকন্তু ওই কেলেঙ্কারির জের ধরে স্ত্রী হিলারির সঙ্গে ক্লিনটনের বিচ্ছেদেরও উপক্রম হয়েছিল।

জন ফিটজগারল্ড কেনেডি : গুপ্তঘাতকের গুলিতে নৃশংসভাবে খুন হওয়া ৩৫তম প্রেসিডেন্ট জন ফিটজগারল্ড কেনেডি ১৯১৭ সালের ২৯ মে ম্যাসাচুসেটসের ব্রুকলিনে যোসেফ কেনেডি এবং রোজ ফিটজগারল্ডের সংসারে জন্মগ্রহণ করেন। সাড়াজাগানো পাবলিক অফিশিয়াল কেনেডি জ্যাকুলিন বুভিয়ারের সঙ্গে সংসার পাতার পর ২ পুত্র এবং ১ কন্যার জন্ম দেন। রোমান ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বী ডেমোক্র্যাট কেনেডি ৪৩ বছর বয়সে ৩৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ১৯৬১-৬৩ সালের জন্য শপথ গ্রহণ করেছিলেন। জেএফকে, জ্যাক ছদ্মনামে সারা বিশ্বে পরিচিত কেনেডি ১৯৬৩ সালের ২২ নভেম্বর গুপ্তঘাতকের গুলিতে প্রাণ হারান। ডেমোক্র্যাটিক দলীয় প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির বিরুদ্ধে ১৯৬২-৬৩ সালে মেরিলিন মনরো, জুডিথ ক্যাম্পবেল এক্সনার এবং ইন্টার্ন মিমি আলফোর্ডসহ বহুসংখ্যক উর্বশীর সঙ্গে যৌন মিলনের অভিযোগ উঠেছিল।

উড্রো উইলসন : যোসেফ উইলসন এবং জেনেট উইলসনের পুত্র ২৮তম প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন ‘স্কুলমাস্টার ইন পলিটিক্স’ ছদ্মনামে সমধিক প্রসিদ্ধ ছিলেন। ১৮৫৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর ভার্জিনিয়ার স্টাউনটনে জন্মগ্রহণকারী উড্রো উইলসন পেশাগত দিক থেকে একজন স্বনামধন্য অধ্যাপক এবং প্রেসবাইটেরিয়ান ধর্মাবলম্বী ছিলেন। ই অ্যাক্সসন ই গাল্টের সঙ্গে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হওয়ার পর তিনি ৩ কন্যার জন্ম দেন। ডেমোক্র্যাট অ্যাফিলিয়েটেড উড্রো উইলসন ৫৬ বছর বয়সে ২৮তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ১৯১৩-১৯২১ কার্যকালের জন্য শপথ গ্রহণ করেছিলেন এবং ১৯২৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি মারা যান। উইলসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, ১৯০৭ সালে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট থাকাকালে সাক্ষাৎ পাওয়া মেরি এলেন হালবার্টের সঙ্গে তার গোপন অভিসার ছিল।

গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড : প্রথম দফা ১৮৮৫-১৮৮৯ কার্যকালে ২২তম এবং পরবর্তীতে ১৮৯৩-১৮৯৭ কার্যকালে ২৪তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সংযোজন করেন গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড। তিনি ১৮৩৭ সালের ১৮ মার্চ নিউজার্সির ক্যাল্ডওয়েলে জন্মগ্রহণ করেন। রিচার্ড ক্লিভল্যান্ড এবং আনে নীল দম্পতির সন্তান ক্লিভল্যান্ড পরিণত বয়সে ফ্রান্সেস ফলজমের সঙ্গে সংসার রচনা করেন এবং ২ পুত্র ও ৩ কন্যার জন্ম দেন। লব্ধপ্রতিষ্ঠ আইনজ্ঞ ক্লিভল্যান্ড প্রেসবাইটেরিয়ান ধর্মবিশ্বাসী এবং ডেমোক্র্যাট অ্যাফিলিয়েটেড ছিলেন। ৪৭ বছর বয়সে ২২তম প্রেসিডেন্ট এবং ৫৫ বছর বয়সে ২৪তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণকারী গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড ১৯০৮ সালের ২৪ জুন অন্তিম শয়নে শায়িত হন। গ্রোভার ক্লিভল্যান্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, মারিয়া ক্রফটস হালপিনের জঠরে ১৮৭৪ সালে জন্মগ্রহণকারী অস্কার ফলসন ক্লিভল্যান্ডের জন্য বিধবা মারিয়াকে গ্রোভার চাইল্ড সাপোর্ট দিয়ে থাকেন। পরিস্থিতির চাপে ক্লিভল্যান্ড অস্কারের জন্মদাতার দায়িত্ব মেনে নেন। নির্বাচনে ক্লিভল্যান্ড জয়ী হলেও কলঙ্ক তার পিছু তাড়া করেছিল।

ওয়ারেন গ্যামালিল হার্ডিং : জর্জ হার্ডিং এবং ফোবে ডিকারসনের পরিবারে ২৯তম প্রেসিডেন্ট ওয়ারেন গ্যামালিল হার্ডিংয়ের জন্ম হয় ১৮৬৫ সালের ২ নভেম্বর ওহাইওর করসিকায়। খ্যাতনামা পাবলিশার গ্যামালিল হার্ডিং বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ফ্লোরেন্স ডে ওলফের সঙ্গে। অথচ তাদের সংসারে কোনো নতুন মুখের আগমন ঘটেনি। ব্যাপটিস্ট ধর্মাবলম্বী হার্ডিংয়ের কোনো ছদ্মনাম ছিল না। আগাগোড়া রিপাবলিকান হার্ডিং ৫৫ বছর বয়সে ১৯২১-১৯২৩ কার্যকালের জন্য প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং ১৯২৩ সালের ২ আগস্ট অনন্তলোকে পাড়ি জমান। হার্ডিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ১৯২৩ সালে মৃত্যুবরণের পূর্বে ১৯১০-এর দশকে এবং ১৯২০-এর গোড়ার দিকে ক্যারি ফিলিপস এবং নান ব্রিটনের সঙ্গে তিনি বারবার যৌনসম্ভোগে মিলিত হয়েছিলেন। বহুল বিক্রি হওয়া ‘দ্য প্রেসিডেন্টস’ শীর্ষক গ্রন্থে ব্রিটন এই যৌন মিলনের কাহিনি বর্ণনা করেছেন। ব্রিটন দাবি করেন, ইউএস সিনেটর থাকাকালে হার্ডিং তার জঠরে কন্যা এলিজাবেথের জন্ম দিয়েছিলেন। ২০১৫ সালে জেনেটিক পরীক্ষায় ব্রিটনের দাবির সত্যতা প্রমাণিত হয়।

জেমস বুচানন : পেনসিলভানিয়ার স্টনি বেটারে ১৭৯১ সালের ২৩ এপ্রিল জেমস বুচানন এবং এলিজাবেথ স্পিয়ার দম্পতির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন জেমস বুচানন। স্বনামধন্য আইনজীবী বুচানন ছিলেন চিরকুমার। ওল্ড বাক ছদ্মনামে পরিচিত বুচানন ডেমোক্র্যাট অ্যাফিলিয়েটেড এবং এপিসকোপালিয়ান ধর্মবিশ্বাসী ছিলেন। ৬৫ বছর বয়সে তিনি ১৮৫৭ থেকে ১৮৬১ কার্যকালের জন্য ১৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং ১৮৬৮ সালের ১ জুন ইহলোক ত্যাগ করেন। ডেমোক্র্যাটিক দলীয় ইউএস সিনেটর, ডাকসাইটে কূটনীতিবিদ এবং পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জেমস বুচাননের বিরুদ্ধে দীর্ঘকাল ওয়াশিংটন ডিসিতে হোমোসেক্সুয়াল অ্যাফেয়ার্সে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছিল।

থমাস জেফারসন : ১৭৪৩ সালের ১৩ এপ্রিল ভার্জিনিয়ার শ্যাডওয়েলে জন্মগ্রহণ করেন আমেরিকার তৃতীয় প্রেসিডেন্ট থমাস জেফারসন। তার পিতার নাম পিটার জেফারসন এবং মাতার নাম জেনে র‌্যানডলফ। মার্থা স্কেলটনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর জেফারসন দম্পতি ১ পুত্র এবং ৫ কন্যার জন্ম দিয়েছিলেন। তুখোড় আইনজীবী জেফারসন ধর্মবিশ্বাসের দিক থেকে ছিলেন ডিইস্ট। রাজনৈতিক জীবনে তিনি ডেম-রিপাবলিকান অ্যাফিলিয়েটেড ছিলেন। ৫৭ বছর বয়সে ১৮০১ সালে এবং পরবর্তীতে ৬১ বছর বয়সে ১৮০৫ সাল থেকে ১৮০৯ সালের জন্য প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। ‘ম্যান অব পিপল’ বা ‘জনগণের মানুষ’ ছদ্মনামে সমধিক খ্যাত ছিলেন জেফারসন। ১৮২৬ সালের ৪ জুলাই তার পার্থিব জীবনের ইতি ঘটে। ডেমোক্র্যাটিক দলীয় প্রেসিডেন্ট জেফারসনের বিরুদ্ধে নিজ ক্রীতদাসী স্যালি হেমিংসের জঠরে ভ্রƒণ সঞ্চারের অভিযোগ উঠেছিল। হেমিংস ছিলেন প্রেসিডেন্ট জেফারসনের প্রয়াত স্ত্রী মার্থার বিমাতা বোন। স্বনামধন্য সাংবাদিক জেমস ক্যালেন্ডার সংবাদটি প্রকাশ করেছিলেন। অবশ্য অভিযোগ সম্পর্কে কিছুটা মতভেদও ছিল বলে জানা যায়।
লেখক : সাবেক প্রধান শিক্ষক, গ্রন্থকার ও সহযোগী সম্পাদক, নিউইয়র্ক।

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Developed by SolveEz