শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

আমেরিকার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের বিশেষ উদ্যোগ

নিউইয়র্ক ও আমেরিকা গঠনে অবদান রাখা অভিবাসী, কৃষ্ণাঙ্গ ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ইতিহাস উদযাপন
আমেরিকার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের বিশেষ উদ্যোগ

বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনকে সামনে রেখে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল একাধিক জনসম্পৃক্ত সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। দেশের ইতিহাস ও জাতীয় পরিচয় গঠনে নিউইয়র্ক সিটির গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু প্রায়শই উপেক্ষিত অবদানকে তুলে ধরতেই এসব কর্মসূচি আয়োজন করা হচ্ছে।

সিটি কাউন্সিলের উদ্যোগে আয়োজিত আমেরিকা ২৫০ কর্মসূচিগুলোতে বিশেষভাবে সম্মান জানানো হবে অভিবাসী জনগোষ্ঠী, কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান, আদিবাসী জনগণ এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নিউইয়র্ককে সমৃদ্ধ করা বিভিন্ন সম্প্রদায়কে। শিল্পকর্ম, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সাহিত্য পাঠ এবং ঐতিহাসিক প্রদর্শনীর মাধ্যমে তাদের অবদান ও সংগ্রামের কাহিনি তুলে ধরা হবে।

নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিন বলেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নিউইয়র্ক সিটি এমন একটি শহর যেখানে বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ সুযোগের সন্ধানে এসে নিজেদের সম্প্রদায় গড়ে তুলেছেন এবং আমেরিকার ভবিষ্যৎ নির্মাণে ভূমিকা রেখেছেন। এমন সময়ে যখন কিছু মহল কৃষ্ণাঙ্গ ও অভিবাসী জনগোষ্ঠীর অবদানকে খাটো করে দেখার চেষ্টা করছে, তখন নিউইয়র্ক সিটি তাদের গল্প ও অবদানকে সম্মানের সঙ্গে তুলে ধরার পথ বেছে নিয়েছে।

দ্য লেগ্যাসি কুইল্ট প্রজেক্ট প্রদর্শনী-২২ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সিটি হলের কাউন্সিল চেম্বারে অনুষ্ঠিত হবে দ্য লেগ্যাসি কুইল্ট প্রজেক্ট প্রদর্শনী। মিউজিয়াম অ ফুড এ্যান্ড ডিঙ্ক ( মোফাড) এর সহযোগিতায় আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে আফ্রিকান-আমেরিকানদের খাদ্যসংস্কৃতি ও আমেরিকান রন্ধনশৈলীতে অবদান তুলে ধরা হবে।

৪০৬টি হাতে তৈরি ব্লকের সমন্বয়ে নির্মিত এই কুইল্টে আফ্রিকান-আমেরিকান শেফ, উদ্যোক্তা এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের অবদান তুলে ধরা হয়েছে। চার শতাব্দী ধরে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য সংস্কৃতিতে কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর প্রভাবকে এতে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

উই দ্য সিটি: পোয়েট্রি ইন দ্য পার্ক -২৫ জুন সকাল ১১টায় সিটি হল পার্কে অনুষ্ঠিত হবে বহুভাষিক কবিতা পাঠের অনুষ্ঠান ‘উই দ্য সিটি: পোয়েট্রি ইন দ্য পার্ক’। দ্য পাবলিক থিয়েটার-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার প্রতীক স্টাচু অব লিবার্টি-এর পাদদেশে উৎকীর্ণ বিখ্যাত কবিতা দ্য নিউ কলোসাস বিভিন্ন ভাষায় পাঠ করা হবে।

স্প্যানিশ, ম্যান্ডারিন, ইয়িদ্দিশ, হাইতিয়ান ক্রেওল, রুশসহ নিউইয়র্কের বিভিন্ন ভাষাভাষী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা নিজেদের মাতৃভাষায় কবিতাটি পাঠ করবেন। এর মাধ্যমে শহরের সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত বৈচিত্র্য উদযাপন করা হবে।

‘উই দ্য সিটি’ ডিজিটাল প্রজেকশন এর বিষয়ে বলা হয়, ১ থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত দ্য নিউইয়র্ক হিস্ট্রোরিক্যাল, নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশন-এর সহযোগিতায় আয়োজিত হবে ‘উই দ্য সিটি’ শীর্ষক ডিজিটাল শিল্প প্রদর্শনী।

এই প্রকল্পের আওতায় অভিবাসী নিউইয়র্কবাসীদের জীবন, সংগ্রাম ও অবদানের ঐতিহাসিক ছবি এবং গল্প শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় প্রদর্শন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে মিউজিয়াম অব মর্ডান আর্ট, স্ট্যাটান আইল্যান্ড মিউজিয়াম ও বঙ্কস চিলড্রেন্স মিউজিয়াম লিংকএনওয়াইসি কিয়স্ক এবং নিউইয়র্কের তিনটি পাবলিক লাইব্রেরি ব্যবস্থার বিভিন্ন শাখা।

কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানদের বিপ্লবী যুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। এর আগে ২০ জুন নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি স্পিকার ড. নানতাশা উইলিয়ামস এর উদ্যোগে মিউজিয়াম অব দ্য সিটি অব নিউইয়র্ক এবং পিবিএস-এর সহযোগিতায় ডিকলারেশন্স: ব্ল্যাক আমেরিকানস এ্যান্ড দ্য রেভোলেশনারী ওয়ার প্রামাণ্যচিত্রের বিশ্বপ্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়।

প্রামাণ্যচিত্রটিতে আমেরিকান বিপ্লবের সময় স্বাধীনতা, নাগরিকত্ব ও সামাজিক স্বীকৃতির জন্য সংগ্রাম করা চারজন কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। প্রদর্শনীর পর দর্শকরা নির্মাতা ও গবেষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং দ্য ওকুপাইড সিটি: নিউইয়র্ক এ্যান্ড দ্য আমেরিকান রোভেলেশন প্রদর্শনী পরিদর্শনের সুযোগ পান।

ড. নানতাশা উইলিয়ামস বলেন, আমেরিকার ২৫০তম বার্ষিকী আমাদের সামনে জাতির ইতিহাসকে আরও পূর্ণাঙ্গ ও সৎভাবে তুলে ধরার সুযোগ এনে দিয়েছে। আদিবাসী জনগোষ্ঠী থেকে শুরু করে অভিবাসী, কৃষ্ণাঙ্গ ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের শ্রম, সংস্কৃতি ও সংগ্রামই নিউইয়র্ক এবং যুক্তরাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে তাদের গল্প ইতিহাসের ফুটনোট হয়ে না থেকে আমেরিকার মূল ইতিহাসের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

সিটি কাউন্সিলের চিফ ইকুইটি অফিসার সায়মন এ. জোন্স বলেন, আমেরিকার ইতিহাস সঠিকভাবে বলতে হলে কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান, অভিবাসী এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের অবদানকে স্বীকার করতেই হবে। এই উদ্যোগ সেই ইতিহাসকে সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

সিটি কাউন্সিলের কর্মকর্তারা আশা করছেন, ‘আমেরিকা ২৫০’ কর্মসূচি নতুন প্রজন্মকে দেশের বহুমাত্রিক ইতিহাস, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং বৈচিত্র্যের গুরুত্ব সম্পর্কে আরও সচেতন করে তুলবে এবং আমেরিকার গল্পে সকল সম্প্রদায়ের অবদানকে যথাযথ মর্যাদায় তুলে ধরবে।

ঠিকানা/এসআর

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Developed by SolveEz