মৃত্যুর মিছিলে বিষাদের খবর শুনতে শুনতে আরও একটি করুণতম বিষাদবার্তা ছড়িয়ে পড়ল। দুই চোখে লেগে থাকা ভোরের হাওয়ায় বিন্দু বিন্দু শীতের হিমেল পরশে চোখ গেল ফেসবুকের ওয়ালে! চোখের চাহনি আটকে গেল! আমি কি কোনো ভুল দেখছি? নাকি সত্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অজস্র মায়াময় ছবি।
ভুল তো আমাদের পদে পদে লেগে থাকে জোঁকের মতো। নাহ! এখানে ভুল নেই। এই বিষাদের খবর মিথ্যে নয়। সমস্ত ধোঁয়াশা কাটিয়ে প্রকৃত সত্যটিকেই সবাই বুঝতে পেরেছে, নিয়তির চলমান ঘটনার মহিমা ছড়ানো মিষ্টি কন্যা তাসিন নেই। অত্যন্ত মেধাবী ও মননশীলতার অপরিমেয় বুদ্ধিমত্তার স্বল্পভাষী এমন মিষ্টি মুখ ছিল তার। তার ভেতরকার ধ্রুপদি নৃত্যের কলাকুশলতার ভরতনাট্যম নৃত্যকলার শুদ্ধসংগীতের লাবণ্য ছড়ানো শৈলীসমৃদ্ধির পূর্ণতা ইস্পাতকঠিন গ্রেটার শহর নিউইয়র্কে শুধু বাংলাদেশি কমিউনিটিতেই। মূলধারার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পথ ধরে অগ্রসরমান বিপার নতুন প্রজন্মের মেধাবী পারফরম্যান্স যারা করেন, তাদের অন্যতম ছিল ‘তাসিন ফেরদৌস’।
নশ্বর পৃথিবীর এই অনিশ্চিত জীবনের হৃদয়বিদারক উদাহরণ হয়ে থাকবে তাসিনের আকস্মিক চলে যাওয়া। মাত্র ৩৫ বছর বয়স নিয়ে স্বামী, সন্তান, মা ও বাবাসহ অসংখ্য প্রিয়জনকে রেখে চিরবিদায় নিলেন নিউইয়র্কের মেধাবী নৃত্যশিল্পী, শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক ‘তাসিন ফেরদৌস’।
মাত্র এক সপ্তাহ আগেই স্বামী এড্রিয়ান ও শিশুপুত্র লুকাসকে নিয়ে কুইন্সে নিজেদের সদ্য কেনা নতুন বাড়িতে উঠেছিলেন তাসিন। নতুন বাড়ি, নতুন পরিবেশ, নতুন করে সংসার সাজানোর কত স্বপ্ন, কত পরিকল্পনা, কিন্তু সেই স্বপ্নের সংসার আর সাজানো হলো না। নতুন বাড়িতে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হতে না হতেই চিরদিনের জন্য থেমে গেল তাসিনের জীবন। একটি সাজানো সংসারের স্বপ্ন মুহূর্তেই পরিণত হলো গভীর শোক আর অপূরণীয় শূন্যতার দুঃসহ যন্ত্রণার বিদায় পর্বে।
তাসিন ছিল নিউইয়র্কের সুপরিচিত নৃত্যশিল্পী, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পারফর্মিং আর্টস (বিপা)-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক এ্যানি ফেরদৌস এবং বিশিষ্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট ও ট্রাভেল এজেন্সির স্বত্বাধিকারী জাফর ফেরদৌসের একমাত্র কন্যা।
গত ১৮ অক্টোবর (২০২৬) রোববার নিউইয়র্কের জ্যামাইকা হাসপাতালের একটি শীতল কক্ষে ভোরের শান্তসকালে চিরকালের জন্য পৃথিবী ছেড়ে চলে গেল (!) বিপার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক এ্যানি ফেরদৌস ও মৃদুভাষী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব প্রিয় জাফর ভাইয়ের মিষ্টি কন্যা তাসিন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে রেখে গেছেন স্বামী এড্রিয়ান, শিশুপুত্র লুকাস, মা-বাবা, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী।
তাসিনের আকস্মিক অকালমৃত্যুতে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং বাইরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া।
যে বয়সে নিজের সন্তানকে বড় করে তোলার স্বপ্ন দেখার কথা, নতুন বাড়িতে সংসার গুছিয়ে নেওয়ার কথা, নিজের মেধা ও সৃজনশীলতাসহ আমাদের শিকড়সন্ধানী সমাজকে সুন্দর ও সমৃদ্ধ করার কথা, তখনই ঘটে গেল নশ্বর পৃথিবী থেকে বিদায়ের ঘণ্টাধ্বনি।
শুনেছি, মাত্র কয়েক দিন আগেই স্বামী এড্রিয়ান ও মাত্র চার বছরের পুত্র লুকাসকে নিয়ে নিউইয়র্কের কুইন্সে নিজের সদ্য কেনা নতুন বাড়িতে উঠেছিলেন তাসিন। এই বাড়িটি ঘিরে নতুনভাবে সংসার সাজানোর কত মোহনীয় স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু চাইলেই সব মানুষের স্বপ্ন পূরণ হয় না। তাসিনের নিখুঁত মোহনীয় স্বপ্নের সংসার সাজানো হলো না। জীবনের সকল চাওয়া-পাওয়ার অধরা স্বপ্নের পুষ্পিত অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে চিরকালের জন্য থেমে গেল তাসিনের জীবন ও সোনার সংসার। মুহূর্তেই পরিণত হলো গভীর শোক ও বেদনায় নিগড়ের অপূরণীয় শূন্যতায়। যেখানে হাসিমাখা আনন্দ আর ভালোবাসায় পৃথিবীর বুকে কত আলো ছড়ানোর কথা ছিল। সেখানে নিমেষেই নেমে এসেছে গভীর বেদনা ও শোকের ছায়া। স্বামী এড্রিয়ানের জীবনে নেমে এল অপূরণীয় শূন্যতা। শিশুপুত্র লুকাসের মায়ের স্নেহ আর ভালোবাসার সিক্ততায় থেমে যাওয়া নিঃশেষিত গল্পের প্রাণবন্ত আস্বাদনের আলো নিভে গেল—মায়ের জীবনের সমাপ্তির ছায়াপথ।
নিউইয়র্কের শিল্পভুবন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সুপরিচিত মুখ এ্যানি ফেরদৌসের আদুরে কন্যা সদা হাস্যময়ী ‘তাসিন’ ছিল নিউইয়র্কের বাংলাদেশি সাংস্কৃতিক ভুবনে আলো ছড়ানোর সম্ভাবনাময়ী উজ্জ্বল মুখ। মা এ্যানি ফেরদৌসের হাত ধরে ছোটবেলা থেকেই এই মেধাবী মেয়েটির সাংস্কৃতিক জীবনের সূচনা। নিউইয়র্কের ঐতিহ্যবাহী বাংলা সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পারফর্মিং আর্টস’—বিপার সঙ্গে যার সম্পর্ক শৈশব থেকেই। শিশুকাল থেকে স্কুলে পড়াশোনার পাশাপাশি বিপার শিক্ষার্থী হিসেবে নৃত্যকলা ও নৃত্যশিল্পের যাত্রা শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে তার মনন ও সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে শিক্ষক হিসেবে যুক্ত হয় বিপার সঙ্গে। প্রবাসের নতুন প্রজন্মের নিকট বাংলা সংস্কৃতি, নৃত্য এবং নিজস্ব ঐতিহ্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে বিপা অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আমাদের হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় নিবেদিত কর্মী হিসেবে দীর্ঘদিনের সাফল্যের ফসল ছিল তাসিন। তার এই অকালপ্রয়াণে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল। বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রভূত সম্ভাবনার উজ্জ্বল নক্ষত্র সদা হাস্যময়ী তাসিনের আকস্মিক মৃত্যুতে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের শিল্পী, সংগঠক, শিক্ষক, সামাজিক কর্মী এবং পরিবারের ঘনিষ্ঠজনেরা তার অকালপ্রয়াণে শোক প্রকাশ করছেন। বিপার সঙ্গে শৈশব থেকে তাসিনের বেড়ে ওঠা, যে প্রতিষ্ঠানে তিনি শিক্ষার্থী থেকে শিক্ষক হয়েছেন। সেই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মানুষদের কাছে স্মৃতিতে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
সত্যিই বিস্ময়ের ব্যাপার। দেখতে দেখতে এই মেয়েটি কীভাবে সর্বোচ্চ মেধা ও সম্মানের শীর্ষে পৌঁছাতে নীরবেই প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছে। নতুন প্রজন্মের ভেতর থেকে বেড়ে ওঠা এই মেয়েটির মেধা ও মনন-চেতনার বিকাশে তার সৃজনশীল কার্যক্রম এবং সাংস্কৃতিক সচেতনতার স্ফুলিঙ্গ উন্মোচিত হয়ে উঠেছিল। শুনেছি, নিউইয়র্কের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুটো মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের পর তাসিন শিক্ষকতা করত। যতটুকু জানতাম, সর্বদাই ভালো কাজের সঙ্গেই তার সম্পৃক্ততা ছিল।
কিন্তু মৃত্যু তো এমনই, যার স্বাদ সবাইকে গ্রহণ করতে হবে।
‘কুল্লু নাফসিন জায়েকাতুল মাউত’ ‘All Humans are mortal’ ‘মানুষ মরণশীল’। অর্থাৎ ‘প্রত্যেককে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।’
মৃত্যু নিয়ে মহান আল্লাহ আরও বলেন, ‘তোমরা যেখানেই থাকো না কেন; মৃত্যু কিন্তু তোমাদেরকে পাকড়াও করবেই। যদি তোমরা সুদৃঢ় দুর্গের ভেতরেও অবস্থান করো, তবুও (মৃত্যু তোমাকে বরণ করে নিতেই হবে)।’
ফ্রান্সিস বেকন বলেন, ‘জন্ম হওয়া যতটা স্বাভাবিক মৃত্যু ততটাই স্বাভাবিক।’
আসলে এটি চিরায়ত। অনিবার্য পরিণতি। আমাদের কিছুই ছিল না। একবিন্দু রক্তকণা থেকে সৃষ্ট অতঃপর মায়ের কোল থেকে একেবারে খালি হাতে আগমন। আমাদের জন্ম হয়েছে খালি হাতে। পৃথিবীতে কত বিত্ত-বৈভবের অধিকারী এমনকি পুরো পৃথিবীকে হাতের মুঠোয় নিয়েও একদিন নিঃস্ব নিস্তব্ধ নীরবে একেবারে খালি হাতে চলে যাওয়ার মধ্য দিয়েই মৃত্যুর মহাযাত্রায় পাড়ি দিতে হবে।
পৃথিবীতে বেঁচে থাকাটা কঠিন কিন্তু চিরন্তন সত্যটি হলো ‘মৃত্যু’।
মৃত্যু নিয়ে হজরত আলি (রা.) বলেন, ‘মানুষের কিসের এত অহংকার। যার শুরু একফোঁটা রক্তবিন্দু দিয়ে আর একদিন শেষ হয়ে মিলিয়ে যাবে মৃত্তিকায়।’
মনটা খুব খারাপ। অনেক স্মৃতির আকরে আমার কাছে মনে হয়, সবকিছু বিষাদময়। মনে হয়, এমনই হঠাৎ সবকিছু ভেঙে পড়ে। তখন সবই নিয়ন্ত্রণহারা হয়ে যায়। মুহূর্তে শীর্ণতায় ভরা দীর্ণ অবয়বে আমরা পৃথিবীর নিকষ অন্ধকারে ডুবে আছি। তাসিন তো এখন নশ্বর থেকে অবিনশ্বরে। অনাদিকাল সকলের মতো সেও আমাদের থেকে শত সহস্র যোজন দূরে। আমরা দোয়া করা ছাড়া আর কী করতে পারি? আসলে মানুষ নিয়ত অসহায়। নিঃসঙ্গতার বিষাদময়তায় অনেক বেশি অসহায়। মনটা কাতর ও বিচলিত হয়ে যায়।
মহান আল্লাহ পাক যেন এই বিষাদময় শোক কাটিয়ে ওঠার সুযোগ করে দেন। সবাইকে সুস্থ, সুখী ও সুখময় করে তোলেন। অকূলের কূল, মহাস্রষ্টা, মহামহিম আল্লাহ আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন।
তাই তো আমার একটি কবিতার মতো বলি :
‘হাজার স্খলনের মাঝে
নিশান্তের অবসিত আবেশে
শান্ত মাটির ভারী বুকে ক্লান্তির ছায়াপাত!
বিক্ষুব্ধ সমাজের মানুষগুলো মেতে আছে কৃপণতায়
ওদের সংকীর্ণতার নির্মম চাপে নিঃস্ব হয়ে আছি
জীবনের অনুকম্প উদারতার মূল্য দিল না কেউ!’
আসলে পৃথিবীর সংকীর্ণ চিন্তার কোনো মানুষ যদি মূল্যায়ন নাও করেন, স্মৃতির অ্যালবামে ঠিকই অনেক মানুষ মহত্ত্বের নিপুণ আলোতে বেঁচে থাকেন। তাসিনও অনন্তকাল ধরে অবিনশ্বরে জায়গা করে নিয়েছে। একদিন আমরাও সেই চিরন্তন ভুবনে ফিরে যাব। পৃথিবীর কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয়। তবু যেন সজীব সুন্দর জীবন্ত মানব ছায়ায় আমার অজুত স্মৃতির শ্রদ্ধাশীল মানুষ কবি ও বুদ্ধিজীবী আহমদ ছফার ভাষায় :
‘আমার কথার উপর কথা
সাজিয়ে চলার পৃথিবীতে
তুমি শেষহীন আকাশ
এবং অনেক সজীবতায় হৃদয়ের নীলাম্বর।’
হ্যাঁ! মানুষের আত্মা অমর। শারীরিক কিংবা দৈহিক মৃত্যু হলেও পৃথিবীতে মানুষের জন্য বিশেষ অবদানের জন্য অবিনশ্বর অমরত্বই মানুষকে পৃথিবীতে বাঁচিয়ে রাখে। আমাদের প্রত্যাশা, অকালে হারিয়ে যাওয়া এই উদীয়মান শিল্পী, মেধাবী ও মননশীল সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব তাসিনও চিরকাল মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।
ঠিকই তো আবারও বলি। বারবার বলি :
‘মৃত্যুর অনন্ত রহস্য শুধু অনুদঘাটিত থাকবে।
মানুষের জীবন নদীর বাঁকে বাঁকে কত আশাবোধ হৃদয়ে অপূর্ণ থাকে, কিন্তু মরে যাবে না।
কখনো আমি বুঝতে পারব না যে, শ্বাস-প্রশ্বাসের ধুকধুকানিতে হৃৎপিণ্ডের শব্দ
একদিন কোনো প্রকার লাল সংকেত ছাড়াই মৃত্যুর সারণিতে দেখা হয়ে যাবে।’
তবু কিছু মানুষের জন্য স্রষ্টার নিকট দোয়া ও শুভাশিষ থাকে। আমাদের হৃদয়ের অকুণ্ঠ প্রেম ও স্নেহমাখা ভালোবাসার কত আকুতি থাকে। যেমনটি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের ভাষায় :
‘যদি এ আমার হৃদয়-দুয়ার
বন্ধ রহে গো কভু
দ্বার ভেঙে তুমি এসো মোর প্রাণে,
ফিরিয়া যেয়ো না প্রভু।’
অতএব, প্রিয় মানুষদের টানে শ্রদ্ধা ও সম্ভ্রমে সর্বদাই যেন আমাদের হৃদয় দুয়ার সর্বদা খোলা থাকে।
মানবতার কবি, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম মৃত্যুর অনন্ত মহাপ্রয়াণের কথা চিরকাল ও মহাকালে অমরত্বের অনুভবের আলোকধারায় উল্লেখ করে বলেন :
‘মৃত্যুর যিনি মৃত্যু, আমি শরণ নিয়াছি তাঁর।
নাই নাই মোর চিত্তে, ওরে মৃত্যুর ভয় আর।
তাঁহার নামের অমৃত সুধায়
ভরিয়াছে প্রাণ কানায় কানায়,
পান করে মৃত সঞ্জীবন (হ’ল) মধুময় সংসার।’
তবুও জগৎ সংসারে থেকেও নজরুল আরও বলেন :
‘মৃত্যুর যিনি মৃত্যু আমি শরণ নিয়াছি তাঁর
নাই নাই মোর চিত্তে,
ওরে মৃত্যুর ভয় আর।’
নিউইয়র্কের বাংলা সংস্কৃতির উজ্জ্বল ধারায় বিপার উত্তরাধিকার হিসেবে এরই মধ্যে তাসিন বিপার সেক্রেটারি নির্বাচিত হয়েছিলেন। নিউইয়র্কসহ বাইরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অনেক শুভানুধ্যায়ী ফিউনারেল ও জানাজায় অংশগ্রহণ করেছেন।
‘তাসিন’ সবার কাছে কতটা প্রিয়, সেটি তার স্বল্পায়ু জীবনের পাতায় পাতায় ফুটে উঠেছে। একইভাবে ২৩ অক্টোবর ২০২৬ পবিত্র শুক্রবার মনোরম শান্ত সকালে নিউইয়র্কের ঐতিহ্যবাহী কবরস্থান ‘মাউন্ট অলিভ্যাট সেমিটারি’তে অগণিত শুভাকাঙ্ক্ষী ও শুভানুধ্যায়ীদের ভিড়ে ফুলের সমারোহের নিবিষ্ট মোহনীয়তায় ভরে গিয়েছিল তাসিনের সমাধি। অনেকের মতো আমিও স্তব্ধ নীরবতায় মনে হয়েছিল অপরূপ মনোরম মুগ্ধতার পুষ্পোদ্যানে নীরবে দাঁড়িয়ে রইলাম। সবার চোখের পাতায় বিন্দু বিন্দু অশ্রুজল।
সকালের মিষ্টি রোদের অমোঘ ঝলকে পুরো সমাধিস্থল কানায় কানায় ভরে গিয়েছিল।
যেখানে হৃদয় মুকুরে আবারও রবীন্দ্রনাথের অমোঘ বাণীটি পুনঃপুন প্রস্ফুটিত হয়েছে :
‘ওগো আমার এই জীবনের
শেষ পরিপূর্ণতা,
মরণ, আমার মরণ, তুমি
কও আমারে কথা।’
সত্যিই যে নক্ষত্রের আলোর মতো শিল্প-সাহিত্যের জাগরণের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের অবারিত দ্বার উন্মোচনের মাধ্যমে এই মেয়েটির উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ তিলে তিলে গড়ে তোলা হচ্ছিল; তারই মহাপ্রয়াণ! অবিনশ্বরের পথে চিরকালের তরে, অনন্ত বিদায়বেলায় কবিগুরুর একটি বিখ্যাত লাইন দিয়ে শেষ করব :
‘ফিরবে না তা জানি
আহা, তবু তোমার পথ চেয়ে জ্বলুক প্রদীপখানি।’
লেখক : কবি ও প্রাবন্ধিক।




