বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

ওপারের

ফিরোজ হুমায়ুন | প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৩২
ওপারের
বিজ্ঞাপন
বিকেলের ম্লান আলোয় পার্কের চেনা বেঞ্চিটায় আমি একা বসে আছি। আমি মাঝে মাঝেই পার্কের এই বেঞ্চটাতে এসে বসি। কিছুক্ষণ বসে থাকি, আকাশ দেখি। চারপাশে লোকজন দেখি। এখানে এলেই সেই পুরোনো স্মৃতিগুলো মনের দুয়ার দিয়ে স্কুল ছুটির পর বাচ্চাদের স্কুল গেট দিয়ে বের হওয়ার মতো হুড়হুড় করে বেরিয়ে পড়ে। কখনো আবার চোখ দিয়ে দু’ফোঁটা অশ্রু ঝরে পড়ে।
তোমাদের দেওয়া সাফল্যের পরিমাপে আমি একশতে একশ। কিন্তু জীবনের পরিমাপে আমি একশতে শূন্য। কারণটা বলছি।
আমার বয়স এখন ৩৬। এই বয়সেই আমি একজন ইন্ডাস্ট্রিলিস্ট। কিন্তু জীবনযুদ্ধে আমি একেবারেই ফেইলিওর, একেবারে ছন্নছাড়া। একাকিত্বের যন্ত্রণায় জর্জরিত আর মহাশূন্যতাই ভরা। ফুলের বাগানের মতো সবুজ আর রঙিন আমারও একটা জীবন ছিল একদিন। ইউনিভার্সিটিতে পড়তে পড়তে সহপাঠী একজনের সঙ্গে প্রথমে বন্ধুত্ব, তারপর প্রেম হয়। তবে প্রেমটা আমি করিনি, সেই করেছে। তারপর আমরা একজন আরেকজনকে পাগলের মতো ভালোবাসতাম। বন্ধুরা ঠাট্টা করে বলত লাইলি-মজনু। তারপর পড়াশোনা শেষ, এরপর ভালো একটা চাকরি পেলাম। বিয়ে করে সংসারী হব ভেবেছিলাম। ছন্নছাড়া এই জীবন থেকে মুক্তি চেয়েছিলাম। আর তখনই দেখা দিল বিপত্তি। আমি এতিমখানায় মানুষ হয়েছি। জানি না কে আমার বাবা-মা। আমার প্রেমিকার বাবা-মা অনেক বড়লোক। কেন তারা একজন মা-বাবাহীন এতিমের সঙ্গে বিয়ে দেবে তার মেয়েকে? আর আমার প্রেমিকাও তার বাবা-মার অমতে কিছুতেই বিয়ে করবে না। সে তার বাবা-মাকে হারাতে রাজি ছিল না। খুব কমন ব্যাপার। আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম। জীবনের প্রতি প্রচণ্ড বিতৃষ্ণা জন্মে গেল। সেখান থেকেই জন্ম নিল প্রচণ্ড ক্ষোভ। আমাকেও বড়লোক হতে হবে। আমাকে অনেক পয়সা ইনকাম করতে হবে। আমাকেও সমাজের উঁচু স্ট্যাটাস মেনটেইন করতে হবে। সেই থেকে হয়ে গেলাম একটা রোবট। চাকরি ছেড়ে বিজনেস শুরু করলাম। তারপর শুধু উপরে ওঠার পালা। পয়সার দিক থেকে এখন আমি অনেক টাকার মালিক। অনেক ধনী কিন্তু মনের দিক থেকে একেবারে নিঃস্ব। একেবারে পথের ভিখারি।
তাই মাঝে মাঝে এখানে আসি নিজেকে খুঁজে পেতে। পার্কে বসে চারপাশে মানুষজনকে দেখি। এই সময়টা একান্তই আমার নিজস্ব। এই সময় আমি কোনো রকম ডিস্টার্ব পছন্দ করি না। এই সময় পার্কের এই দিকটায় কোনো ভিড় থাকে না। আজও নেই। শুধু ওই সামনের বেঞ্চে বসে আছে একটি মেয়ে। কতই-বা হবে বয়স ২৫/২৬ কিংবা তার থেকেও কম। হঠাৎ চোখে পড়ল মেয়েটি ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। মেয়েটির খুব মায়াবী চেহারা, ছিপছিপে গড়ন। বিলে যেমন পদ্মফুল ফুটে থাকে, তেমনি দেখাচ্ছে তাকে পার্কের এই পরিবেশে। আগের কালের কলকাতার সিনেমার নায়িকাদের মতো। মেয়েটির কোনো দিকে কোনো খেয়াল নেই। কে আসছে কে যাচ্ছে, কোনো দিকেই তার কোনো খেয়াল নেই। উদ্দেশ্যহীনভাবে আকাশের দিকে তাকিয়ে আর মাঝে মাঝে চোখ মুছছে। আমার মেয়েটির জন্য কষ্ট হচ্ছে। মেয়েদের সঙ্গে কোথায় যেন নিজের মিল খুঁজে পেলাম। আজ থেকে দশ বছর আগে যেদিন আমার প্রেমিকার বিয়ে হয়েছিল, সেদিনও আমি এই পার্কের বেঞ্চে বসে এরকম কেঁদেছিলাম। তাই মনে হলো মেয়েটির সঙ্গে আমার ভীষণ মিল। আর সে কথা মনে করে মেয়েটির প্রতি সহানুভূতির প্রচণ্ড আবেগ অনুভব করছিলাম।
যাব নাকি?
কথা বলব নাকি?
নাহ, দরকার নাই।
আবার মনে হলো মেয়েটি এত সুন্দর, এত মায়াবী, মুখে হাসি থাকার কথা। সেখানে কান্না। কখন যে উঠে পড়েছি নিজের অজান্তে। উদ্দেশ্যহীনভাবে আস্তে আস্তে হেঁটে গেলাম ওর পাশে।
—একটু বসতে পারি এখানে?
—পার্কে এত জায়গা থাকতে আপনাকে এখানেই বসতে হবে কেন? মেয়েটি উত্তর দিল খুব ঝাঁজালো গলায়। তারপর অনিচ্ছা সত্ত্বেও বলল, বসুন। বলেই অন্যদিকে তাকিয়ে রইল।
—জানেন, এই পৃথিবীতে এক নম্বর প্রবলেম কী?  আপনি হয়তো বলবেন, ক্ষুধা। না না, ভুল উত্তর। এক নম্বর প্রবলেম হলো একাকিত্ব। এটা আমার কথা না। এটা মাদার তেরেসার কথা। আমার নিজের কাছেই অপরিচিত লাগছে আমাকে। আমি খুব স্বল্পভাষী। এভাবে কথা বলা আমার স্বভাবে নেই। আর আমি তাই করছি। এখন বকবক করেই চলছি।
—তাই বুঝি আপনি এখানে এসেছেন আমার একাকিত্ব ঘোচাতে। আবার সেই ঝাঁজালো গলা।
—হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন। সত্যি বলব?
—হ্যাঁ, বলুন। মেয়েটি কোনো ইন্টারেস্ট দেখাল না।
—দূর থেকে আপনাকে দেখে যা মনে হয়েছে তা অকপটে বলতে চাই।
—হ্যাঁ বলুন।
—মনে হয়েছে আপনার ওই মুখে কান্না খুব বেমানান। ওই মুখে হাসি থাকলে এই সারা পৃথিবী হাসবে।
মেয়েটি আমার উল্টাপাল্টা কথা শুনে ফিক করে হেসে দিল। কান্নাভেজা চোখে হাসি, সে এক অপূর্ব দৃশ্য।  মনে হলো বৃষ্টিভেজা আকাশে একটা সূর্য।
—তাই বুঝি?
—হ্যাঁ তা-ই।
তারপর আমি কথা বলেই যাচ্ছি। মেয়েটা শুধু শুনছে আর শুনছে।
—জানেন, দুঃখ আর একাকিত্ব দুই বন্ধু। যদি আপনি একাকিত্বকে জোরে একটা লাথি মারতে পারেন, তবে দুঃখ বাপ বাপ করে পালিয়ে যাবে।
—ভেরি ইন্টারেস্টিং। দুঃখ পালিয়ে যাবে?
—হ্যাঁ, যেতে বাধ্য।
মেয়েটি আস্তে আস্তে ওপেন হচ্ছে। আস্তে আস্তে কথা বলা শুরু করছে। আস্তে আস্তে নরমাল হচ্ছে।
—আপনার কথাগুলো দিয়ে গল্প-উপন্যাস লেখা যায়। বাস্তব জীবনে চলে না। আপনারা যারা সুখে আছেন, তাদের মুখে ওসব কথা শোনা যায়।
—সুখ আর দুঃখ একটা অনুভূতি মাত্র। এর চাবিকাঠি আপনার হাতে। আপনি কোনটা বেছে নেবেন, তা আপনার ব্যাপার। আপনি আপনার দুঃখ ঝেড়ে ফেলে যদি উঠে দাঁড়ান, তবে দুঃখ পালিয়ে যেতে বাধ্য।
—কেমন করে?
—এই যে দুঃখ আপনাকে পেয়ে বসেছে। সে আস্তে আস্তে আপনাকে গ্রাস করেছে। আপনি দুঃখকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। সে আপনার ধারেকাছে ঘেঁষবে না। মেয়েটি এবার মনোযোগ দিয়ে আমার কথা শুনছে। মেয়েটি এখন কনফিউজড। সে আস্তে আস্তে আমাকে বিশ্বাস করতে শুরু করেছে। মেয়েটির ভেতর পরিবর্তন আমি লক্ষ করছি।
—আপনার পরিচয়?
—আমি আপনার মতোই একজন। আর তাই আপনাকে আমি বুঝতে পারছি। বছর দশেক আগে আপনার মতোই ওই বেঞ্চটাতে বসে আপনার মতোই হু হু করে কেঁদেছি। কেউ এগিয়ে আসেনি। আর আসবেই-বা কে? আমি তো এতিমখানায় বড় হয়েছি। তারপর আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়িয়েছি এবং দুঃখকে লাথি দিয়ে ওই আকাশে পাঠিয়ে দিয়েছি। এবার সত্যি মেয়েটি তাকে বিশ্বাস করতে শুরু করেছে।
—আপনার কথা শুনে ভালো লাগছে। আপনি আমার পাশে থাকলে আমিও পারব।
আমার নিজের কাছে আশ্চর্য লাগছিল যে আমার কথাগুলো তাকে এত মুগ্ধ করেছে, সে এখন পজিটিভলি চিন্তা করছে। আমার নিজের কাছেও নিজেকে অনেক ভালো লাগছে যে জীবনে এর মতো ভালো কাজ বোধ হয় আমি আর কোনো দিন করিনি।
সেই থেকে শুরু। তার পর থেকে এইখানে এই পার্কে ঘন ঘন দেখা। এর মাঝে একটা ঘটনা ঘটল। হঠাৎ দেখি মেয়েটা আর আসছে না। নিজেকে খুব অসহায় লাগছিল। মেয়েটির কোনো ঠিকানা কোনো কিছুই আমার কাছে নেই। শুধু মেয়েটির নাম জানি—মিলি পারভীন। আমার সেক্রেটারিকে বললাম, প্রতিটা হসপিটালে খোঁজ নাও। একে খুঁজে বের করো।
তারপর তার দেখা পাওয়া গেল সিটি জেনারেল হসপিটালে, সে ভর্তি হয়েছে। সব কাজ বাদ দিয়ে, সব ব্যস্ততা বাদ দিয়ে ছুটে গেলাম মেয়েটির কাছে। গিয়ে দেখি, মেয়েটিকে ডিসচার্জ করে দিচ্ছে। কিন্তু কোনো কারণে ডিসচার্জ আটকে আছে। তার অনেক বড় পেমেন্ট বাকি। তার এত বড় পেমেন্ট দেওয়ার সামর্থ্য নেই। আমি সব পে করে দিলাম। শুধু তা-ই নয়, তাকে বললাম, এরপর যদি সে আবার ভর্তি হয়, তখনো এই অ্যাকাউন্টে চার্জ করতে। কিন্তু হসপিটাল অথরিটিকে বললাম, মেয়েটি যেন কোনোভাবেই জানতে না পারে। তাকে বলা হোক, তাকে ফ্রি করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মেয়েটি ঠিক বুঝতে পেরেছিল এর পেছনে আমার হাত আছে।
আমাদের মাত্র তিন মাসের পরিচয়। অনেকবার তার সম্বন্ধে জানতে চেয়েছি। প্রতিবারই মিলি আমাকে বারণ করেছে। বলেছে, সময় হলে আমি সবকিছু বলব। আর আমিও জোরাজুরি করিনি। আমি নিজেও ভেবে পাই না আমাদের দুজনার মাঝে কী সম্পর্ক? বন্ধুত্ব, না প্রেম, না অন্য কিছু। চিন্তা করি, আমরা কি দুজন দুজনকে ভালোবাসি? না, কোনো উত্তর জানা নেই। তবে আমরা দুজনে কাছে আসার জন্য পাগল হয়ে থাকি। মিলির শর্ত অনুযায়ী সপ্তাহে আমাদের মাত্র একদিন দেখা হতো। মিলি যে আমার কী ছিল, তাও জানতাম না। মনে হতো, ও আমার বড় আপনজন। ওকে খুশি করতে পারলে আমার মনটা খুশিতে ভরে উঠত। কিন্তু ইদানীংকালে ওকে যেন মনে হয় অসুস্থ। একটা কালো চাদর জড়িয়ে আসত, মাথা ঢেকে রাখত। শুধু মুখটা দেখতে পেতাম। ওর সঙ্গে দেখা হলে আমার মুখে খই ফুটত। আর ও শুধু শুনত আর হাসত। ওকে কোনো কিছু জিজ্ঞেস করলে এড়িয়ে যেত। শুধু বলত, বলব বলব, সব বলব। আপনার কাছে কিছুই লুকাব না।
আমি এত ব্যস্ত মানুষ। কিন্তু ওর সঙ্গে দেখা করা ছিল আমার টপ প্রায়োরিটি। আমি মিলির কাছে এলে আমার কী যে হয়ে যায়, আমি ছোট বাচ্চার মতো হয়ে যাই। ও যা বলে তা-ই শুনি। ওর কাছে এলে ওকে খুশি করার জন্য কত কী যে বলি, যা আমার জীবনে আমি কখনো বলিনি। ঠিক বুঝতে পারি না আমি কি ওকে ভালবাসি?
গত সপ্তাহে ও খুব কম সময়ের জন্য এসেছিল। বেশির ভাগ সময় কী যেন চিন্তা করছিল। অন্যমনস্ক হচ্ছিল। প্রিপারেশন নিয়ে এসেছিলাম, আজ ওকে বলে দেব। কিন্তু বলা হলো না। চলে যাওয়ার পরে মনটা খুব খারাপ হয়েছিল এবং তখন ডিসিশন নিয়েছিলাম যে এর পরদিন আর ওয়েট করব না। তাকে বলে দেব। আর পারছি না।
দুদিন পর আজ হঠাৎ আমার সেক্রেটারি এসে বলল :
—স্যার, ভেরি আর্জেন্ট। সিটি হসপিটাল থেকে টেলিফোন করেছিল ডক্টর জামান। আপনাকে হসপিটালে যেতে বলেছে। মিলি পারভীন মুমূর্ষু অবস্থায় হসপিটালে।
শোনার সঙ্গে সঙ্গে হাত-পা অবশ হয়ে যাচ্ছিল। ছুটে গেলাম হসপিটালে। দেখি, ডাক্তার জামান আমার জন্য ওয়েট করছেন। বললাম :
—কোথায় মিলি? কী হয়েছে?
ডাক্তার জামান খুব শান্ত গলায় বললেন, আসেন, দেখাচ্ছি।
ওয়ার্ডের শেষ মাথায় নিয়ে গিয়ে সাদা চাদরে ঢাকা একটা বডি দেখিয়ে বললেন, এই তো মিলি। মিলি আপনার জন্য একটা চিঠি রেখে গেছে, আপনাকে দেওয়ার জন্য।
চিঠিটি ডাক্তার পকেট থেকে বের করে আমার দিকে বাড়িয়ে দেন। আমি দ্রুত চিটিটা নিয়ে খুলে পড়তে শুরু করি।
‘আজ আপনাকে তুমি বলেই বলছি।
আমি তোমাকে নিষেধ করেছিলাম আমার সম্বন্ধে জানতে। আমিও তোমার মতো দত্তক মায়ের কাছে বড় হয়েছি। যেদিন তুমি আমাকে প্রথম দেখেছ, আমি কাঁদছি। ওইদিন আমার মা মারা যান। এই পৃথিবীতে মা ছাড়া আমার কেউ ছিল না। ঠিক তার সপ্তাহখানেক আগে আমি জানতে পারি, আমার প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সার হয়েছে। ডাক্তার বলেছে, খুব বেশি দিন আর সময় নেই। আজ আমি বিদায় নিচ্ছি পৃথিবী থেকে। আমার জীবনে কোনো পুরুষ আসেনি। ভালোবাসা কেমন, তা আমি জানি না। কিন্তু প্রথম সপ্তাহেই বুঝেছিলাম, আমি তোমাকে ভালোবাসি। আমি তোমার চোখেও দেখেছিলাম ভালোবাসা। কিন্তু বেঁচে থাকতে সে কথাটা তোমাকে বলতে চাইনি। কারণ তাহলে তুমি আবার একা হয়ে যাবে, তাই। তাই আজ তা বলছি। আমি তোমাকে ভালোবাসি। আমি ওপারে তোমার জন্য অপেক্ষা করব। ওখানে আমাদের সংসার হবে অনন্তকালের জন্য। হয়তো জানো, ওপারে দুঃখ বলে কিছু নেই। তাই তোমাকে নিয়ে শুধু সুখের সাগরে ভাসব।
—মিলি।’
চিঠিটা পড়ে আমি অনেকক্ষণ কোনো শব্দ করতে পারিনি। আমার নিঃশ্বাসটা বন্ধ হয়ে আসছিল। আর মনে হচ্ছিল পৃথিবীর সব আলো একসঙ্গে নিভে গেছে। আমি চারপাশে শুধু অন্ধকার দেখছি...
শুধু মনে আছে—সেদিন বহু বছর পর আমি ছোট্ট শিশুর মতো হাউমাউ করে কেঁদেছিলাম।
কমেন্ট বক্স
© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Developed by SolveEz