শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

বাবা দিবসে লাল গোলাপের শুভেচ্ছা

বাবা দিবসে লাল গোলাপের শুভেচ্ছা

বিজ্ঞাপন
বাবা দিবস পালনের সূচনা ঘটে ১৯১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে। সোনোরা স্মার্ট ডড নামের এক মহিলার উদ্যোগেই এটি প্রথম পালিত হয়। তার বাবা উইলিয়াম স্মার্ট ছিলেন একজন সিভিল ওয়ার সৈনিক, যিনি স্ত্রীর মৃত্যুর পর একাই ছয় সন্তানকে লালন-পালন করেন। তার বাবার প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেই সোনোরা একটি দিবসের প্রস্তাব করেন, যা প্রথমবারের মতো পালিত হয় ‘বাবা দিবস’ হিসেবে। ধীরে ধীরে এটি বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ১৯৭১ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন বাবা দিবসকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি প্রদান করেন।
আগামী ২১ জুন বিশ্বজুড়ে উদ্্যাপিত হবে বাবা দিবস। বাবাদের প্রতি আমাদের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বাবা হলো পরম নির্ভরতা, বিশাল ছায়া, জীবন গড়ার প্রেরণা। বাবারা বড় বড় স্বপ্ন দেখেন বলেই সন্তানেরাও দেখে এক অনাবিল স্বপ্ন, বড় হওয়ার অদম্য সাহস। সোজা কথা, বাবার চেয়ে দায়িত্বশীল কোনো মানুষ এই পৃথিবীতে নেই। জীবনের কঠিন লড়াইয়ের সময় একমাত্র বাবাই পরম নিশ্চয়তা দেন। হে বাবা, তোমার মাঝে খুঁজে পাই এক অনন্য মানবিকতা।

ইদানীং লক্ষ করছি, দেশে-বিদেশে অনেক সন্তান বড় হয়ে তাদের জন্মদাতাকে ত্যাগ করছে। ছেলেমেয়েরা বড় হয়ে, শিক্ষিত হয়ে অতি সহজেই ভুলে যায় তাদের বাবার স্নেহ, মমতা ও ভালোবাসা। নিজের জীবনে ব্যস্ততায় কাটে সময়। দু’দণ্ড দাঁড়িয়ে কথা বলারও সময় নেই। এই প্রবাস-জীবনে ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে মিশে জীবন চলছে তো চলছে।
নবীন বাবারা তাদের প্রবীণ বাবাদের সঙ্গে যা করছেন, যদি একদিন সেই ঘটনা তাদের জীবনেও ফিরে আসে!

একটি গল্প শুনেছিলাম-এক সন্তান ঝুড়িতে করে তার বৃদ্ধ বাবা-মাকে জঙ্গলে ফেলে দিতে নিয়ে যায়। তার ছেলে জিজ্ঞাসা করে, ‘বাবা, দাদা-দাদি কোথায়?’ বাবা বলে, ‘বেড়াতে গিয়েছে।’ এই বলে ছেলেকে সান্ত্বনা দেয়। তখন ছেলে বলে, ‘বাবা, যে ঝুড়িতে করে তাদের বেড়াতে পাঠিয়েছ, সেই ঝুড়িটা নিয়ে এসেছ তো? আমি বড় হয়ে তোমাদেরও ওই ঝুড়িতে করে বেড়াতে পাঠাব।’

কোনো কাল্পনিক গল্প নয়, সত্যি ঘটনা।
বিশ্বের রাজধানী নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় আমাদের বাঙালি কমিউনিটিতেও অনেক বাবা-মাকে আপন সন্তান বাসা থেকে বের করে দিয়েছে। তারা শেল্টারে জীবনযাপন করছেন।
নিজের চোখে না দেখলে লিখতাম না।

জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের সামনে প্রতি শুক্রবার জুমার দিনে ভিক্ষার ব্যাগ নিয়ে হুইলচেয়ারে বসে থাকতে দেখেছি এক বৃদ্ধকে। জিজ্ঞাসা করতেই কেঁদে দিলেন। বললেন, ‘বাবা, আমার দুই ছেলে নিউইয়র্কে থাকে। সবাই ভালো অবস্থানে আছে। কিন্তু তাদের বাড়িতে আমার জায়গা নেই। টাকা-পয়সা দিয়েও কোনো সাহায্য করে না। সরকার থেকে যা পাই, তা দিয়ে কোনোমতে জীবনযাপন করছি। শেল্টারে আছি।’
অনেক পরিবার এ ধরনের পরিস্থিতির মধ্যে অত্যন্ত কষ্টে জীবন কাটাচ্ছেন, কিন্তু বলতে পারছেন না।
এমন অনেক ঘটনার নীরব সাক্ষী আমি নিজে। এ ধরনের অবস্থা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।

বাবা আর সন্তানের পরস্পরের মাঝে সর্বদা গড়ে উঠুক এক সুন্দর, অনাবিল সেতুবন্ধন। পরম শ্রদ্ধাবোধেই লালিত হোক প্রতিটি দিন।
পরিশেষে পৃথিবীর সকল বাবার প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা, ভক্তি ও অশেষ ভালোবাসা। যারা নিজের জীবন বিলিয়ে দেন সন্তানের হাসি আর আনন্দের জন্য, তাদের জন্যই আজকের এই লাল গোলাপের শুভেচ্ছা।
-নিউইয়র্ক

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Developed by SolveEz