যখন আমি একা থাকি, তখন নানা ভাবনার ভিড় মাথার মধ্যে জট পাকায়। কিলবিল করে মস্তিষ্কের কোষগুলো। তখন আমি টেবিলে মাথা দিয়ে বসে থাকি। ঘরের মধ্যে আমার একটাই প্রিয় জায়গা, সেটা হচ্ছে আমার পড়ার টেবিল। এখানে আমি আমার অবসরের বেশির ভাগ সময় কাটাই। কিছুই করতে ইচ্ছে না করলে পাশের শেলফ থেকে কোনো একটা বই টেনে নিই। টেবিল-লাগোয়া শোয়ার খাট, সেখানে ধপাস করে শুয়ে বইয়ে চোখ বুলাই। কিছুক্ষণ বই পড়ি। কিন্তু বইয়ের মধ্যে ডুবে যেতে পারি না। অক্ষরগুলো চোখের সামনে নাচানাচি করে, কিন্তু মগজে প্রবেশ করে না। কী লিখেছে লেখক, বুঝতে পারি না। নির্বাক হয়ে থাকে বইয়ের ঘটনাসমূহ। চঞ্চল মুহূর্তে আমি লিখতেও পারি না। টানা দশ মিনিটের বেশি লিখতে পারি না কখনো। উঠে হাঁটাহাঁটি করি, না হয় ফোনে চোখ বুলাই। কোনো মেসেজ দিল কি না কেউ দেখি। কখনো নির্বিকার থাকি। নির্বিকার হয়ে যাওয়া আমার অভ্যাস। এ জন্য অনেকেই আমাকে ভুল বোঝে। যারা আমাকে বোঝে না তারা কষ্ট পায়, মনে করে আমি ইগনোর করছি। আসলে তা নয়। আমি এমনই। ভুতুড়ে স্বভাবের। তাই আমি কিছুই নিজের করে নিতে পারিনি। কেউ আমার হয় না। আমিও কারও হতে পারি না। তখন নিজেকে আমার অসহায় মনে হয়।
স্ত্রী-সন্তানদেরও মনে হয় অনেক দূরের। মনে হয়, পৃথিবীতে কেউ কারও নয়। তার পরও একটা বন্ধন মানুষকে বেঁধে রাখে-মায়ার বন্ধন। মায়া জিনিসটা খুব খারাপ। এই রকম মুহূর্তে আমি কোরআনের কোনো একটা আয়াত পড়ি। যেমন আয়াতুল কুরসি থেকে পড়ি-আল্লাহু লা-ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম, লা-তা’খুযুহু সিনাতুঁ ওয়া লা নাউম। একটা অজানা অস্থিরতায় পেয়ে বসে আমাকে। পেরেশান লাগে। তখন মনে মনে সুরা পড়ি-হাসবিয়াল্লাহু লা-ইলাহা ইল্লা হুয়া, আলাইহি তাওয়াক্কালতু ওয়া হুয়া রব্বুল আরশিল আযীম। বা কোনো একটা প্রিয় গান শুনি। তখন মনটা শান্ত হয়ে যায়। বন্ধুরা অনেক গান পাঠায় আমাকে, সেগুলো শুনি। বা কারও কারও এক লাইন, দুই লাইনের কোনো পোস্ট পড়লেও মন ভালো হয়ে যায়। আমার এই অস্থির মুহূর্ত কেউ দেখতে পায় না। এসব দেখানোর জিনিস নয়। মানুষের অদেখা যত কষ্ট আছে, সব নিজেকে একা বহন করতে হয়। এসব কষ্টের ভাগ কেউ নেবে না। ভাই নেবে না, বোন নেবে না, বন্ধু নেবে না, প্রেমিক নেবে না, স্ত্রী নেবে না, স্বামী নেবে না, ছেলে নেবে না, মেয়ে নেবে না। মন এবং শরীরের কষ্ট একা একা ভোগ করতে হয়। শুধু সুখের ভাগ দিতে হয় অন্যকে। সুখ একা একা ভোগ করা যায় না। সুখের দিনে অনেককেই পাশে পাওয়া যায়। দুঃখে কেউ পাশে থাকে না। যে থাকে, সে অনন্য।
এইসব যখন ভাবি, তখন মাথাটার ভোম্বল দশা হয়। তখন নিজের যাবতীয় ভুল আর ব্যর্থতার কথাও মনে চলে আসে। আমার কারণে যারা কষ্ট পেয়েছে তাদের কথা ভাবি, যাদের কষ্ট দিয়েছি তাদের কথা ভাবি। বন্ধুদের কথা ভাবি। তাদের কথা শুনি মন দিয়ে। শেয়ার করি নিজেকে। এবং আশ্চর্য হয়ে ভাবি, পৃথিবীতে কোনো একজন মানুষ বা কোনো একটা সংসারই সুখের নয়। যারা আমার চেনা মানুষ, যাদের সঙ্গে আমার সখ্য, তাদের কথা মন দিয়ে শুনে এটা আমার মনে হয়েছে। কষ্টে থাকা মানুষ, যারা আমার লেখা পড়তে ভালোবাসে, লেখার সঙ্গে একাত্মতাবোধ করে, তাদের সঙ্গে আমার একটা নৈকট্য গড়ে উঠেছে। তারা আমাকে দেখেনি ঠিকই, কিন্তু একটা বিনা সুতোর সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। সেখানে সুখ-দুঃখের কথা হয়। তখনই বুঝতে পারি, দুঃখী মানুষের সংখ্যাই বেশি। এটা ঠিক, পৃথিবীতে নিরবচ্ছিন্ন সুখ বা দুঃখ বলে কিছু নেই। সুখের সময় মানুষ নিজেকে চিনতে পারে না বলে মানুষ সুখ নিয়ে বুঁদ হয়ে থাকে। কিন্তু যখন সুখকে হটিয়ে দুঃখ হানা দেয়, তখন মানুষ নিজেকে চিনতে পারে। প্রতিটা মানুষের জীবনেই রয়েছে কিছু অব্যক্ত যন্ত্রণা, যা সে কখনো প্রকাশ করেনি। কিছু অকথিত কষ্ট রয়েছে, না-পাওয়া রয়েছে, যা সে প্রকাশ করতে পারে না। সংসারে রয়েছে নানা জটিলতা, সংঘাত, সংকট, অভাব, লড়াই, অবিশ্বাস, টানাপোড়েন। এক ঘরে থেকেও যেন কেউ কারও চেনা নয়, কেউ কারও হতে পারেনি। সংসার হয়ে ওঠে কখনো কখনো পাহাড়ের মতো ভারী। তাই তো মানুষ সংসার ত্যাগ করে। কেউ সুখে সংসার ভাঙে না। ভাঙা যত সহজ, গড়া তত সহজ নয়। যে ভাঙতে পারে না, তাকে দীর্ঘ যন্ত্রণাময় সংসারের ঘানি টেনে যেতে হয়। এটাকেই সে তার নিয়তি হিসেবে মেনে নেয়। সংসার একটা অভ্যাস আসলে, যেখানে কোনো প্রেম নেই, ভালোবাসা নেই, দেহমিলনে সুখ নেই। শুধুই একটা জীবনযাপন। কিন্তু সবকিছুর পরও মায়া জিনিসটা বড্ড গোলমেলে। ওটাই আটকে রাখে। বাইন্ধা রাখে...। আমার বন্ধু লুই বলেছিল, ‘জসিম, প্রকৃত ভালোবাসা কখনো একঘেয়ে হয় না। ক্লান্ত করে না। প্রতিদিন নতুন করে বাঁচতে শেখায়। দেখো না, আমার বয়স আশি। স্ত্রী মারা গেছে তিরিশ বছর, কিন্তু তার স্মৃতি আঁকড়ে আমি একা একা বেঁচে আছি।’
কিছুদিন গেলেই মাথার মধ্যে কেবল বাংলাদেশ ঘুরপাক খেতে থাকে। মনে হয়, কত যুগ ধরে দেশে যাই না। অথচ প্রতিবছরই নিয়ম করে যাই দেশে। বছর বছর দেশে যাওয়া সত্যি ব্যয়বহুল একটা কাজ। প্লেনের টিকিটই শেষ কথা নয়; এর সঙ্গে অনেক আনুষঙ্গিক খরচ জড়িয়ে আছে। সব বিল অগ্রিম পরিশোধসহ বাড়ি ভাড়া আছে। একবার শপিং করে নিয়ে যাওয়া, আবার শপিং করে নিয়ে আসা। অনেকেরই পাওনা ছুটির চেয়ে বেশি ছুটি নিতে হয়। তখন উইদাউট পে হয়। কারও কারও পুরোটাই উইদাউট পে। প্রায়ই শুনতে পাই, যারা বিদেশের কষ্টের আয়ের টাকা দিয়ে আত্মীয়-পরিজনের জন্য গিফট নিয়ে যান, কিন্তু তারা নাকি তাতে খুশি হন না। বলে, ‘এগুলা কী আনছে! এসব তো ঢাকায়ই পাওয়া যায়!’ একবার আমার এক আত্মীয় জিয়া ভাই আমাকে বলেছিলেন, ‘আমি বাড়ির লোকদের বলে দিই, তোরা আমাকে দেখতে চাস, না জিনিসপত্র চাস? জিনিসপত্র চাইলে পাঠিয়ে দেব, আমি আসব না। আমি আসলে কিছু আনতে পারব না।’ এটা হয়তো কথার কথা। সবাই চায় প্রিয়জনের মুখে হাসি ফোটাতে। কতটুকু হাসি ফোটে জানি না। কিন্তু দেওয়ার মধ্যেই আনন্দ। সবাই নিশ্চয় একরকম নয়। কেউ কেউ আছে, সামান্য জিনিসেই অনেক খুশি হয়। বিদেশে যারা থাকেন, তাদের কেউ নিজে না যেতে পারলে অন্যের হাতে দিয়ে দেয়, রিকোয়েস্ট করে তার কিছু জিনিস নিয়ে যেতে। প্রবাসীদের এই যে আকুলতা নিজের দেশ আর পরিজনের জন্য, এর কোনো তুলনা হয় না। আমি এক জায়গায় বেশি দিন থাকতে পারি না। আমার অস্থির লাগে। মন ছুটে যায়। বরিশালের স্নিগ্ধ সকাল, মনোরম বিকেল আর নরম তুলতুলে রাত কেবলই ডাকে। সামনেই বইমেলা। এ বছর বইমেলার জন্য যথেষ্ট প্রস্তুতি নিতে পারিনি। আশা করছি, দুটো বই বের হবে। লেখালেখির জন্য যতটুকু মনোনিবেশ করার দরকার ছিল, তা করতে পারিনি। কখনোই পারি না। এ বছর আরও পারিনি। বিদেশে থাকলে আরও এটা হয়। লিখতে বসেছি, হঠাৎ জেসমিন ডাকবে, ‘এই, খেতে আসো, খাবার ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে।’ একটু পর আবার বলবে, ‘আসো না কেন?’ বা হয়তো লিখছি, বলবে, ‘চলো, বাজারে যেতে হবে।’ আমি বলি, ‘কাল যাব নে।’ তখন ঝাঁজিয়ে উঠে বলবে, ‘তাহলে কালকে খাইয়ো।’ নিরবচ্ছিন্ন সাহিত্যচর্চার সুযোগ বেশি পাওয়া যায় না। জীবনধারণ যেখানে মুখ্য, সেখানে সাহিত্যের কীই-বা মূল্য। তার পরও সুযোগ পেলেই লিখি। নিজের আনন্দের জন্য লিখি। লিখতে ভালো লাগে, তাই লিখি। বই প্রকাশের চিন্তা নিয়ে লিখি না। লিখতে লিখতে বই প্রকাশ হয়ে যায়। অনেকেই বলে, ‘আপনি কখন লেখেন! এত সময় কোথায় পান?’
আমি একটু আয়েশি ধরনের মানুষ। তবে প্রয়োজনে সবই করি। যখন যেটা করা দরকার, সেটা হয়তো করি না। কিন্তু আমার কিছুতেই এমনটা হওয়ার কথা ছিল না। টিকে থাকার জন্য অনেক লড়াই-সংগ্রাম করা মানুষ, কিন্তু তার মধ্যেও একধরনের আয়েশি ভঙ্গি আছে। আমি যখন শূন্য পকেটে পথে পথে ঘুরেছি, আজ রাতে কী খাব তার কোনো নিশ্চয়তা ছিল না, তখনো আমি চিন্তিত হয়ে পড়িনি। টেনশনে আমার ঘুম নষ্ট হয়নি। কোনো দৌড়ঝাঁপ করিনি। কারও কাছে হাতও পাতিনি। আমি কখনো জানপ্রাণ লড়ে কিছু পেতে চাইনি। প্রকৃতি সব সময় আমার সহায় হয়েছে। অনিবার্য বিপদের হাত থেকেও আমি অনেকবার রক্ষা পেয়েছি প্রকৃতির কৃপায়। জীবনে কিছুই অনিবার্য নয়। এটা না পেলে বাঁচব না, ওটা না পেলে জীবন বৃথা হয়ে যাবে-তা মনে হয় না কখনো আমার। জীবনে মানুষ অনেক কিছুই পাবে না, তাই বলে জীবন বৃথা হয়ে যাবে না। জেসমিন আমার স্ত্রী না হয়ে অন্য কেউও হতে পারত। কিন্তু কেউই হয়নি। হয়েছে জেসমিন। কোথা থেকে চিলের মতো ছোবল মেরে আমার দখল নিয়েছিল। অন্য কেউ হলে যে জীবন ভিন্ন কিছু হতো, তার কোনো গ্যারান্টি নেই। যখন থেকে আমার সাধ্য হয়েছে, তখন কেউ কিছু চাইলে আমি ফিরিয়ে দিইনি সহজে। সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি করতে। অন্যদের জন্য সুপারিশ করেছি। সামান্য উপকার হবে, এ জন্য আমি কারও পা ধরতেও দ্বিধা করি না। কিন্তু আমি নিজের জন্য সহজে কিছু চাইতে পারি না। কারও কাছে কিছু চাইতে আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। যখন আমার সকালের নাশতা খাওয়ার পয়সা ছিল না, তখনো আমি কারও কাছে কিছু চাইনি। নিজেকে আবার নতুন করে শুরু করতে পারলে কতই-না ভালো হতো! আবার নতুন করে গড়ে তোলা। পুরোনো সব মুছে ফেলে নতুন শুরু। শৈশব বা তারুণ্যের মোটাদাগের ভুলগুলো ছিল হাস্যকর। এখনো এই এতটা বয়সেও কি ভুল করি না! করি। আগের মতোই করি। তাই তো চাইলেই আর নতুন করে সবকিছু শুরু করা সম্ভব নয়। যা পেছনে ফেলে এসেছি, তা আর ফিরবে না। যে ভুল করেছি, তা আর সংশোধন হবে না। এখন পর্যন্ত যাপিত জীবনে যা করেছি, মনে হয় সবকিছুই এলেবেলে। পরিকল্পিত বা গোছানো কিছু নয়। পরিকল্পনা করে আমি কিছু করতে পারি না। সে জন্য যে উদ্যম আর ইচ্ছাশক্তি দরকার, সেটারই অভাব আমার। আমি অনেক দরকারি কাজও করি না। আমার বন্ধুরা সব সময় বলে, আমাকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে বা আমাকে আরও উচ্চকণ্ঠ হতে হবে, পরিকল্পিত হতে হবে। আমার গলার স্বর নাকি শোনাই যায় না। ‘হ্যাঁ’, ‘হুম’, ‘ওকে’, ‘গুড’Ñএই জাতীয় এক শব্দের বাক্য পরিহার করে লম্বা বাক্য রপ্ত করতে হবে, কথা বলা শিখতে হবে। কিন্তু আমার অভাব বাক্যের। কথাহীনতার। আবার অনেক কিছু জেনে-বুঝেও নির্বিকার থাকার একটা রোগ আছে আমার। অতি আবশ্যক কাজও আমি করি না। হয়তো কাউকে ফোন করতে হবে, কারও সঙ্গে দেখা করা জরুরি, সমবেদনা জানানো আবশ্যক, অভিনন্দন জানানো উচিত অথচ সেই কাজগুলো আমি করি না। আবার এমন সব কাজ করি, যা অনাবশ্যক; না করলেও হতো। কোনো অর্থ নেই, তাও করি। অপ্রয়োজনীয় জেনেও করি। সময়মতো কিছুই করি না। তাই সব সময় আমি পেছনে পড়ে থাকি। আমার সাথের মানুষেরা আমাকে পেছনে ফেলে তরতর করে এগিয়ে যায়। আমি তাকিয়ে তাকিয়ে দেখি। সে জন্য আমার কোনো খারাপ লাগে না বা এসব দেখে আমি যে উদ্যমী হয়ে উঠব, তাও না। আমি যেমন ছিলাম, তেমনই থেকে যাচ্ছি। আসলে স্বভাব সহজে বদলায় না। আমিও নিজেকে বদলাতে পারি না। জীবনে কেবল সংসার আর সন্তান লালন-পালনই শেষ কথা নয়। এই কথা আমার আজকাল প্রায়ই মনে হয়। সন্তানদের জন্য আমরা অনন্ত ত্যাগ করি। নিজের পাতের খাবার উঠিয়ে রাখি, সন্তানের অসুস্থতায় রাত জেগে বসে থাকি। কী না করি আমরা! সবই করি তাদের জন্য। নিঃস্ব পর্যন্ত হই। মায়েরা আরও বেশি সন্তানের জন্য ত্যাগ স্বীকার করে। নিজের কথা একবারও ভাবে না। তার পরও একদিন সন্তান দূরে চলে যায়, দূরের হয়ে যায়। বাবা-মায়ের কথা কালেভদ্রে মনে করে। আমার মাও আমার জন্য অনেক কষ্ট করেছেন। আমিও আমার সন্তানদের জন্য করেছি। আমি যেমন আমার মাকে ফেলে নিজের প্রয়োজনে দূরে চলে গেছি, তেমনি আমার সন্তানেরাও একদিন দূরে চলে যাবে। সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আমার খারাপ লাগলেও এসব নিয়ে আমার কোনো আদিখ্যেতা নেই। বাস্তবতাকে মেনে নিতে হবে। আমি কারও কাছে কখনো কিছু চাই না। সন্তানদের কাছেও না। আমি দিতে চাই, নিতে না। সন্তান লালন-পালন করা ছাড়াও জীবনে অনেক কিছু করণীয় আছে। প্রতিটা মানুষের উচিত নিজের জন্য বাঁচা। একবার হলেও নিজের জন্য বাঁচা। স্বাধীনভাবে বাঁচা। সবকিছু নিয়ে মিলেমিশে থাকার পরও নিজের সত্তা বিসর্জন না দেওয়া। আমি যে একটা আলাদা মানুষ, ভিন্ন একক-এই কথাটা ভুলে না যাওয়া এবং মানুষের জন্য কিছু করা। মানুষকে ভালোবাসা। আমি অতি সাধারণ একজন মানুষ, তার পরও আমি মানুষের অনেক ভালোবাসা পেয়েছি। তুলনাহীন সেই ভালোবাসা। যেখানে গিয়েছি, সেখানেই। এতটা পাওয়ার যোগ্য আমি নই। এসব নিয়েই আমি বাকি জীবন পার করতে চাই। আমি আমার মতো থাকতে চাই। আমাকে আমার মতো থাকতে দাও। কিন্তু মানুষ নিজের মতো বাঁচতে পারে না। মানুষের অনেক সীমাবদ্ধতা। অনেক দায়িত্ব আর টানাপোড়েন। সংসার মানুষের আয়ু ক্ষয় করে দেয়। মানুষ সংসার উপেক্ষা করতে পারে না বলে নিজের মতো বাঁচতে পারে না। মানুষের স্বাধীন সত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আবার প্রথম থেকে কি জীবন শুরু করা যায়! আর একবার যদি জীবন শুরু করার সুযোগ পেতাম, তাহলে ভুলগুলো শুধরে নিতাম। কোনো বন্ধনে জড়াতাম না, একাকী একজন হয়ে থাকতাম। নিজের মতো করে বাঁচতাম। কিন্তু সেই সুযোগ আর পাওয়া যাবে না। (চলবে)