বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

বিজ্ঞাপন
মার্কিন নির্বাচনে অর্থের মহাযুদ্ধ

ইলন মাস্কের ৪৪ কোটি ৬০ লাখ ডলারেও রক্ষা হলো না রিপাবলিকানদের

ইলন মাস্কের ৪৪ কোটি ৬০ লাখ ডলারেও রক্ষা হলো না রিপাবলিকানদের

ছবি সংগৃহীত

বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এবার শুধু রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক লড়াই হয়নি, পর্দার আড়ালে চলেছে বিলিয়নিয়ার, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলোর অর্থের মহাযুদ্ধ। মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম ব্যয়বহুল এই নির্বাচনে শীর্ষ অর্থদাতাদের কাছ থেকে ডেমোক্র্যাটদের প্রায় দ্বিগুণ অর্থ পেয়েও শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি।

নির্বাচনের সবচেয়ে বড় অর্থদাতা বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী, টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক। রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনকারী রাজনৈতিক সংগঠনগুলোতে তিনি দিয়েছেন প্রায় ৪৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার। আধুনিক মার্কিন নির্বাচনী ইতিহাসে একক ব্যক্তির রাজনৈতিক অনুদানের ক্ষেত্রে এটি একটি রেকর্ড।

অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের প্রধান অর্থদাতাদের মধ্যে ছিলেন বিলিয়নিয়ার বিনিয়োগকারী জর্জ সোরোস, নিউইয়র্কের সাবেক মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ এবং লিংকডইনের সহপ্রতিষ্ঠাতা রিড হফম্যান। অর্থের হিসাবে পিছিয়ে থাকলেও ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের মাঝামাঝি এই ফলাফল রিপাবলিকানদের জন্য বড় রাজনৈতিক বিপর্যয়।

শীর্ষ ৫০ অর্থদাতার অনুদান ২৭৭ কোটি ডলার

ফেডারেল ইলেকশন কমিশনের (এফইসি) তথ্যের ভিত্তিতে ওয়াশিংটন পোস্ট, আল-জাজিরা ও ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের নির্বাচনী চক্রে শীর্ষ ৫০ ব্যক্তি ও অর্থদাতা সংগঠন দিয়েছে প্রায় ২৭৭ কোটি ডলার।

এর মধ্যে রিপাবলিকানপন্থীদের অনুদান প্রায় ১৬৭ কোটি ডলার, যা মোট অর্থের ৬০ শতাংশ। বিপরীতে ডেমোক্র্যাটপন্থীরা দিয়েছে ৮৩ কোটি ২০ লাখ ডলার বা প্রায় ৩০ শতাংশ। অবশিষ্ট ২৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার এসেছে উভয় দলকে সমর্থনকারী ও বিশেষ স্বার্থসংশ্লিষ্ট অর্থদাতাদের কাছ থেকে।

অর্থাৎ বড় অর্থদাতাদের এই তালিকায় ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় রিপাবলিকানপন্থীরা প্রায় ৮৪ কোটি ডলার বেশি পেয়েছে।

তবে এই হিসাব ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত প্রকাশিত প্রধান অর্থদাতাদের অনুদানের ভিত্তিতে তৈরি। এটি দুই দলের মোট নির্বাচনী তহবিল কিংবা সামগ্রিক নির্বাচনী ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব নয়।

ইলন মাস্কের একক আধিপত্য

নির্বাচনী অর্থায়নে এবার সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন ইলন মাস্ক। তাঁর মোট অনুদানের মধ্যে নিজ প্রতিষ্ঠিত আমেরিকা পিএসি পেয়েছে প্রায় ২১ কোটি ৬০ লাখ ডলার। রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থীদের সমর্থনকারী সিনেট লিডারশিপ ফান্ড পেয়েছে প্রায় ১৬ কোটি ৮০ লাখ এবং প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান প্রার্থীদের সহায়তাকারী কংগ্রেশনাল লিডারশিপ ফান্ড পেয়েছে প্রায় ৩ কোটি ডলার।

মাস্কের অর্থে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে টেলিভিশন ও ডিজিটাল বিজ্ঞাপন, ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং মাঠপর্যায়ের নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। বিশেষ করে, কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার প্রচেষ্টায় তাঁর আর্থিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কিন্তু বিপুল অর্থব্যয় ও ব্যাপক প্রচারণা সত্ত্বেও রিপাবলিকানদের নির্বাচনী বিপর্যয় ঠেকানো যায়নি।

রিপাবলিকানদের পেছনে ধনকুবেরদের সারি

ইলন মাস্ক ছাড়াও রিপাবলিকানদের বড় অর্থদাতাদের মধ্যে রয়েছেন শিপিং সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইউলাইনের প্রতিষ্ঠাতা রিচার্ড ও এলিজাবেথ উইহলাইন। এই দম্পতির অনুদান প্রায় ১৫ কোটি ডলার।

বিনিয়োগকারী জেফ ইয়াস ও তাঁর স্ত্রী জেনিন ইয়াস দিয়েছেন ১১ কোটি ডলার। প্রযুক্তি বিনিয়োগকারী মার্ক আন্দ্রিসেন ও বেন হরোভিৎজের সম্মিলিত অনুদান ৯ কোটি ২২ লাখ ডলার।

এ ছাড়া ক্যাসিনো ব্যবসায়ী মিরিয়াম অ্যাডেলসন দিয়েছেন ৬ কোটি ৭৬ লাখ, বিনিয়োগকারী পল সিঙ্গার ৫ কোটি ৩৫ লাখ, স্টিফেন শোয়ার্জম্যান ও তাঁর স্ত্রী ৪ কোটি ১৩ লাখ এবং কেন গ্রিফিন ৩ কোটি ২৬ লাখ ডলার।

রিপাবলিকানপন্থী অলাভজনক সংগঠন ওয়ান নেশন দিয়েছে প্রায় ১৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। আর আমেরিকান অ্যাকশন নেটওয়ার্কের অনুদান ৬ কোটি ৪৩ লাখ ডলার।

ডেমোক্র্যাটদের বড় ভরসা সোরোস ও ব্লুমবার্গ

ডেমোক্র্যাটদের প্রধান অর্থদাতাদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন জর্জ সোরোস। তাঁর অনুদান প্রায় ১০ কোটি ২০ লাখ ডলার। নিউইয়র্কের সাবেক মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ দিয়েছেন ৮ কোটি ৪২ লাখ ডলার।

লিংকডইনের সহপ্রতিষ্ঠাতা রিড হফম্যান ও তাঁর স্ত্রী মিশেল ইয়ে দিয়েছেন ৪ কোটি ১২ লাখ ডলার। এ ছাড়া স্টিফেন ম্যান্ডেল ৩ কোটি ৫১ লাখ, ফ্রেড আইকানার প্রায় ২ কোটি ৪২ লাখ এবং ইলিনয়ের গভর্নর জে বি প্রিৎজকার প্রায় ২ কোটি ৩৯ লাখ ডলার দিয়েছেন।

ডেমোক্র্যাটপন্থী সংগঠন মেজরিটি ফরওয়ার্ডের অনুদান ১০ কোটি ২০ লাখ এবং হাউস মেজরিটি ফরওয়ার্ডের ৯ কোটি ৩৭ লাখ ডলার।

এসব অর্থের বড় অংশ ব্যয় হয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোর সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনী প্রচারে।

প্রযুক্তি ও ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের প্রভাব

এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের ব্যবসায়ীদের অর্থায়ন বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে।

ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতিষ্ঠান কয়েনবেস দিয়েছে প্রায় ৫ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, রিপল ৪ কোটি ৯৬ লাখ এবং ক্রিপ্টো ডটকমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ফরিস ডিএএক্স ৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

ডিজিটাল সম্পদের আইনি স্বীকৃতি, ক্রিপ্টোকারেন্সির নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং আর্থিক খাতের ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে এসব প্রতিষ্ঠানের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে।

তবে রাজনৈতিক অনুদান দেওয়ার অর্থ কোনো প্রতিষ্ঠান অবৈধ সুবিধা নিয়েছে কিংবা কোনো প্রার্থী তাদের স্বার্থ রক্ষার নিশ্চয়তা দিয়েছেন—এমন নয়। মূল বিতর্ক হচ্ছে, বিপুল অর্থের কারণে বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলো সাধারণ ভোটারের তুলনায় নীতিনির্ধারণে বেশি প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাচ্ছে কি না।

সুপার পিএসি : সীমাহীন অনুদানের সুযোগ

মার্কিন নির্বাচনী অর্থায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি বা পিএসি। বিশেষ করে সুপার পিএসিগুলো বিপুল অর্থ সংগ্রহ ও ব্যয় করতে পারে।

২০২৫-২৬ নির্বাচনী চক্রে একজন ব্যক্তি কোনো ফেডারেল প্রার্থীকে প্রতিটি নির্বাচনের জন্য সরাসরি সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ ডলার দিতে পারেন। কিন্তু সুপার পিএসিকে যোগ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সীমাহীন অর্থ অনুদান দিতে পারে। শর্ত হলো, তারা প্রার্থীর আনুষ্ঠানিক প্রচারশিবিরের সঙ্গে সমন্বয় না করে স্বাধীনভাবে প্রচার চালাবে।

২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক সিটিজেনস ইউনাইটেড মামলার রায় এবং সংশ্লিষ্ট আদালতের সিদ্ধান্তের পর স্বাধীন রাজনৈতিক ব্যয়ের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসে। এরপর সুপার পিএসিগুলো নির্বাচনী রাজনীতির অন্যতম শক্তিশালী অর্থায়নমাধ্যম হয়ে ওঠে।

মাত্র ৫১৫ অর্থদাতার ৪২০ কোটি ডলার

নির্বাচনী অর্থায়ন পর্যবেক্ষণকারী মার্কিন সংগঠন পাবলিক সিটিজেনের ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত গবেষণায় উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য।

সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৬ সালের নির্বাচনী চক্রে অন্তত ১০ লাখ ডলার করে অনুদান দেওয়া ৫১৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সুপার পিএসিগুলো পেয়েছে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার। এটি ওই সময় পর্যন্ত সুপার পিএসিগুলোর সংগৃহীত মোট অনুদানের প্রায় ৭৩ শতাংশ।

অর্থাৎ বিপুল নির্বাচনী অর্থের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এসেছে মাত্র কয়েক শ ধনাঢ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে।

ব্রেনান সেন্টার ফর জাস্টিসের আরেক গবেষণা অনুযায়ী, অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত মাত্র ৪০ জন শীর্ষ অর্থদাতা দিয়েছেন প্রায় ২৪০ কোটি ডলার। মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের পরও ২০১৪ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের একই সময়ের তুলনায় এই অর্থের পরিমাণ প্রায় আট গুণ।

এই পরিসংখ্যান মার্কিন নির্বাচনী রাজনীতিতে অল্পসংখ্যক ধনাঢ্য ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান আর্থিক প্রভাবের চিত্র তুলে ধরে।

‘ডার্ক মানি’ নিয়ে উদ্বেগ

নির্বাচনী অর্থায়নের আরেক বিতর্কিত বিষয় হলো ‘ডার্ক মানি’ বা এমন রাজনৈতিক অনুদান, যার প্রকৃত উৎস সাধারণ ভোটারদের কাছে প্রকাশিত হয় না।

সুপার পিএসিগুলোকে তাদের সরাসরি অর্থদাতাদের তথ্য নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হয়। কিন্তু কোনো অলাভজনক প্রতিষ্ঠান সুপার পিএসিকে অর্থ দিলে সেই প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অর্থদাতাদের পরিচয় সব ক্ষেত্রে প্রকাশের বাধ্যবাধকতা থাকে না। ফলে রাজনৈতিক প্রচারে ব্যয় করা অর্থের প্রকৃত উৎস অনেক সময় আড়ালেই থেকে যায়।

সমালোচকদের মতে, এই ব্যবস্থা নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক জবাবদিহির জন্য উদ্বেগজনক। অন্যদিকে এর সমর্থকেরা স্বাধীন রাজনৈতিক মতপ্রকাশ এবং নির্বাচনী প্রচারে অর্থব্যয়ের সাংবিধানিক অধিকারের ওপর গুরুত্ব দেন।

অর্থে রিপাবলিকানদের আধিপত্য, ভোটে ডেমোক্র্যাটদের জয়

এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, অর্থের শক্তি শেষ পর্যন্ত ভোটের ফলাফল নির্ধারণ করতে পারেনি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির পক্ষে বড় অর্থদাতাদের বিপুল অনুদান থাকলেও নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।

জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, শুল্কনীতি, ইরান যুদ্ধ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ওপর কংগ্রেসের কার্যকর নজরদারি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তাও ডেমোক্র্যাটদের প্রচারে গুরুত্ব পায়।

৪ নভেম্বরের প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে অন্তত সাতটি আসন রিপাবলিকানদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে দলটি।

এর ফলে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অবশিষ্ট দুই বছরে প্রশাসনের আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন এবং গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্তে ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত ও নজরদারির ক্ষমতাও বাড়বে ডেমোক্র্যাটদের।

তবে বড় অর্থদাতাদের অনুদানে এগিয়ে থেকেও রিপাবলিকানদের পরাজয় প্রমাণ করে না যে নির্বাচনী অর্থের কোনো প্রভাব নেই। রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন, ভোটার সংগঠিত করা এবং মাঠপর্যায়ের প্রচার পরিচালনায় অর্থ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অর্থের পাশাপাশি প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনজীবনের সমস্যা এবং সরকারের প্রতি ভোটারদের আস্থা নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে।

গণতন্ত্রে অর্থের শক্তি, নাকি ভোটারের শক্তি?

২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন আবারও সামনে এনেছে একটি মৌলিক প্রশ্ন—গণতান্ত্রিক নির্বাচনে ধনকুবেরদের অর্থের প্রভাব কতটা, আর সাধারণ ভোটারের সিদ্ধান্তের শক্তিই-বা কতখানি?

একদিকে কয়েক শ ধনাঢ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নির্বাচনী প্রচারে ঢেলেছে কয়েক বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে ভোটাররা এমন একটি ফলাফল দিয়েছেন, যা বড় অর্থদাতাদের সমর্থিত রিপাবলিকানদের প্রত্যাশার বিপরীত।

এই নির্বাচন দুটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা তুলে ধরেছে। প্রথমত, মার্কিন নির্বাচনে অর্থের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে এবং নির্বাচনী প্রচারে বিপুল অর্থব্যয় এখন প্রায় অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। দ্বিতীয়ত, অর্থের আধিপত্য নির্বাচনী বিজয়ের নিশ্চয়তা দিতে পারে না।

ইলন মাস্কের ৪৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার কিংবা রিপাবলিকানপন্থী শীর্ষ অর্থদাতাদের ১৬৭ কোটি ডলারও শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের দলের পরাজয় ঠেকাতে পারেনি।

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের এই ফলাফল তাই শুধু কংগ্রেসের ক্ষমতার পালাবদল নয়; নির্বাচনী অর্থায়ন, ধনকুবেরদের রাজনৈতিক প্রভাব এবং গণতন্ত্রে জনগণের ভোটের শক্তি নিয়ে নতুন করে ভাবারও উপলক্ষ।

শেষ পর্যন্ত অর্থের মহাযুদ্ধে এগিয়ে থেকেও ভোটের যুদ্ধে হেরেছে রিপাবলিকানরা।

ঠিকানা/এনআই

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Developed by SolveEz