নিউইয়র্কের আকাশে টুইন টাওয়ার নেই ২৫ বছর। কিন্তু স্বজনহারা মানুষের চোখের জল, দমকলকর্মীদের আত্মত্যাগ আর সেই ভয়াল সকালের স্মৃতি আজও যেন একই রকম জীবন্ত। ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র গভীর শ্রদ্ধা ও শোকের মধ্য দিয়ে পালন করেছে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা নাইন ইলেভেনের ২৫তম বার্ষিকী।লোয়ার ম্যানহাটনের ন্যাশনাল সেপ্টেম্বর ১১ মেমোরিয়াল প্রাঙ্গণে সকাল থেকেই জড়ো হন নিহতদের পরিবারের সদস্য, বেঁচে যাওয়া মানুষ, ফার্স্ট রেসপন্ডার এবং দেশের শীর্ষ নেতারা। সকাল ৮টা ৪৬ মিনিটে—ঠিক যে মুহূর্তে ২০০১ সালে আমেরিকান এয়ারলাইন্স ফ্লাইট ১১ নর্থ টাওয়ারে আঘাত হেনেছিল—নীরবতার মধ্য দিয়ে শুরু হয় স্মরণ। এরপর একে একে স্মরণ করা হয় দ্বিতীয় বিমান সাউথ টাওয়ারে আঘাত, পেন্টাগনে হামলা, ফ্লাইট ৯৩-এর পতন এবং দুই টাওয়ার ধসে পড়ার মুহূর্তগুলো।স্বজনরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে পাঠ করেন ২০০১ সালের হামলা এবং ১৯৯৩ সালের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার বোমা হামলায় নিহত মোট ২,৯৮৩ জন নারী, পুরুষ ও শিশুর নাম। কারও নামের সঙ্গে উচ্চারিত হয় ‘বাবা’, কারও ‘মা’, ‘ভাই’, ‘বোন’ কিংবা ‘আমার জীবনের ভালোবাসা’—২৫ বছর পরও প্রতিটি নাম যেন ফিরে আনে একটি অসমাপ্ত জীবনের গল্প।এবারের স্মরণানুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো যোগ হয় সপ্তম নীরবতা—গ্রাউন্ড জিরোর বিষাক্ত ধুলো ও দূষণের কারণে ক্যানসারসহ বিভিন্ন ৯/১১-সম্পর্কিত রোগে পরবর্তী বছরগুলোতে মারা যাওয়া ফার্স্ট রেসপন্ডার, উদ্ধারকর্মী ও অন্যদের সম্মানে। শুধু FDNY-তেই ৯/১১-সম্পর্কিত অসুস্থতায় পরবর্তীতে ছয় শতাধিক সদস্যের মৃত্যু হয়েছে।গ্রাউন্ড জিরোর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, জর্জ ডব্লিউ বুশ, বারাক ওবামা ও জো বাইডেন, নিউইয়র্ক গভর্নর ক্যাথি হোকুল, মেয়র জোহরান মামদানি এবং ৯/১১-এর সময়কার নিউইয়র্ক মেয়র রুডি জুলিয়ানি। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প পেন্টাগনের স্মরণানুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।একই দিনে ভার্জিনিয়ার পেন্টাগন এবং পেনসিলভানিয়ার ফ্লাইট ৯৩ ন্যাশনাল মেমোরিয়ালেও পৃথক স্মরণানুষ্ঠান হয়। ২০০১ সালের সেই চারটি ছিনতাই করা বিমানের হামলায় নিউইয়র্ক, পেন্টাগন ও পেনসিলভানিয়ায় মোট ২,৯৭৭ জন মানুষ নিহত হন—হামলাকারীদের বাদ দিয়ে।দিন শেষে আবারও নিউইয়র্কের রাতের আকাশ চিরে উঠে যায় দুটি নীল আলোর স্তম্ভ—‘Tribute in Light’। যেখানে একদিন দাঁড়িয়ে ছিল টুইন টাওয়ার, সেখান থেকে আকাশের দিকে উঠে যাওয়া সেই আলো যেন ২৫ বছর পরও একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়—সময় এগিয়েছে, নিউইয়র্ক ঘুরে দাঁড়িয়েছে; কিন্তু ১১ সেপ্টেম্বরের মানুষগুলোকে এই শহর ভোলেনি।
ঠিকানা/শই
নিউজটি শেয়ার করুন