* ১ লাখ ৭০ হাজার নথি প্রকাশ; বিষাক্ত বাতাস নিয়ে নতুন প্রশ্ন * হ মামদানিকে স্মরণসভায় যেতে না বললেন জুলিয়ানি * স্মৃতির রাজনীতিতে আবার উত্তপ্ত নিউইয়র্ক
২৫ বছর আগে নিউইয়র্কের আকাশ থেকে ভেঙে পড়েছিল টুইন টাওয়ার। ধ্বংসস্তূপ সরাতে সময় লেগেছিল মাসের পর মাস। কিন্তু সেই ধ্বংসস্তূপের ভেতরে চাপা পড়ে থাকা আরেক গল্প সামনে আসতে সময় লাগল এক চতুর্থাংশ শতাব্দী।
আগামী ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার যখন বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের স্মৃতিস্থলে আবার উচ্চারিত হবে নিহতদের নাম, বাজবে ঘণ্টা, নেমে আসবে নীরবতা, তখন নিউইয়র্ক শুধু ২০০১ সালের সেই সকালকে স্মরণ করবে না। এবার প্রশ্ন উঠবে, হামলার পরের দিনগুলোতে সরকার আসলে কতটা জানত? বিষাক্ত ধুলো ও বাতাসের ঝুঁকি কি জানা ছিল? জানা থাকলে কেন হাজারো পুলিশ সদস্য, দমকলকর্মী, নির্মাণকর্মী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে পুরো সত্য জানানো হয়নি? ২৫তম বার্ষিকীর ঠিক আগে সেই প্রশ্নে নতুন আলোড়ন তুলেছে নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন।
মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসন ৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার প্রথম দফায় প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার পৃষ্ঠার নাইন-ইলেভেন-সংক্রান্ত নগর নথি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘদিন আলোচিত হার্ডিং স্মারক, বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের সাত নম্বর ভবনসংক্রান্ত কাগজপত্র এবং সবচেয়ে রহস্যজনকভাবে, ‘৬৮টি বাক্স’ নামে পরিচিত এমন নথির সংকলন, যেগুলো তথ্য জানার অধিকার আইনে একাধিক আবেদনের পরও খুঁজে পাওয়া যায়নি। নগর প্রশাসনের দাবি, সেগুলো ২০২৫ সালে পাওয়া যায়। আরও নথি আগামী ১২ মাস ধরে প্রকাশ করা হবে। অর্থাৎ ২৫তম নাইন-ইলেভেনের সবচেয়ে বড় খবর হয়তো শুধু স্মরণানুষ্ঠান নয়। সবচেয়ে বড় খবর হলো- নিউইয়র্ক এখনও নাইন-ইলেভেনের ইতিহাস নতুন করে পড়ছে।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার ১৯ জন ছিনতাইকারী চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে। দুটি বিমান আঘাত হানে বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের টুইন টাওয়ারে, একটি আঘাত করে পেন্টাগনে; চতুর্থটি যাত্রীদের প্রতিরোধের পর পেনসিলভানিয়ার শ্যাঙ্কসভিলে বিধ্বস্ত হয়। হামলায় নিহত হন ২,৯৭৭ জন, ছিনতাইকারীদের বাদ দিয়ে। সংখ্যাটি আমেরিকার ইতিহাসে স্থির হয়ে আছে। কিন্তু ২৫ বছর পর স্পষ্ট হচ্ছে, নাইন-ইলেভেনের মানবিক মূল্য শুধু ওই দিনের মৃতের সংখ্যা দিয়ে আর মাপা যায় না।
টাওয়ার ধসে যে ধুলোর মেঘ ম্যানহাটানের দক্ষিণাংশ ঢেকে দিয়েছিল, সেখানে ছিল অ্যাসবেস্টসসহ বহু ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক ও সূক্ষ্ম কণা। নতুন প্রকাশিত নথি ঘিরে আবার সামনে এসেছে একটি পুরোনো প্রশ্ন, সেই সময় বাতাসের নিরাপত্তা নিয়ে সরকারি আশ্বাস এবং ভেতরের উদ্বেগের মধ্যে কি গুরুতর ব্যবধান ছিল? নতুন নথিতে বিভিন্ন স্থানে অ্যাসবেস্টস শনাক্ত হওয়ার তথ্যও রয়েছে। এখন সেই দিনের উদ্ধারকর্মীদের শরীরে চলছে দ্বিতীয় যুদ্ধ।
নিউইয়র্ক দমকল বিভাগের ২৫ বছরের স্বাস্থ্যপ্রভাব-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১০ হাজারের বেশি সদস্যের শরীরে অন্তত একটি নাইন-ইলেভেন-সম্পর্কিত শারীরিক অসুস্থতা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত হয়েছে। ১৫ হাজারের বেশি সদস্য উদ্ধার ও ধ্বংসাবশেষ অপসারণের কাজে অংশ নিয়ে বিষাক্ত ধুলো, গ্যাস, রাসায়নিক ও আঁশজাতীয় কণার সংস্পর্শে এসেছিলেন।
আরও নির্মম একটি হিসাব আছে। নাইন-ইলেভেনের দিন নিউইয়র্ক দমকল বিভাগ হারিয়েছিল ৩৪৩ জন সদস্যকে। এরপর বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র-সম্পর্কিত অসুস্থতায় ৪০০-র বেশি দমকলকর্মী মারা গেছেন। অর্থাৎ শুধু দমকল বিভাগেই হামলার পরের ২৫ বছরে সংশ্লিষ্ট রোগে মৃত্যুর সংখ্যা এখন হামলার দিনের মৃত্যুর সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। এই কারণেই এবারের স্মরণানুষ্ঠানে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের স্মৃতিচত্বরে ১১ সেপ্টেম্বরের মূল অনুষ্ঠান শুরু হবে সকাল সাড়ে আটটায়। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা আবার একে একে পাঠ করবেন নাইন-ইলেভেন ও ১৯৯৩ সালের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র বোমা হামলায় নিহতদের নাম। তবে ২৫তম বার্ষিকীতে থাকবে সাতটি নীরবতার মুহূর্ত।
দুটি বিমান টাওয়ারে আঘাত করার সময়, পেন্টাগনে হামলা, চতুর্থ বিমানের পতন এবং দুই টাওয়ার ধসে পড়ার সময় স্মরণ করার পাশাপাশি এবার আলাদাভাবে স্মরণ করা হবে নাইন-ইলেভেন-সম্পর্কিত অসুস্থতা ও আঘাতে পরবর্তী বছরগুলোতে মারা যাওয়া মানুষদেরও। এ যেন ২৫ বছর পর নিউইয়র্ক আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করছে—নাইন-ইলেভেন শেষ হয়নি ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা ২৮ মিনিটে।
কারও জন্য সেটি শেষ হয়েছে ক্যানসারের চিকিৎসাকক্ষে ১০ বছর পরে। কারও ২০ বছর পরে। কারও যুদ্ধ এখনও চলছে। কিন্তু এবার স্মরণের সঙ্গে এমন এক রাজনৈতিক সংঘাতও যুক্ত হয়েছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে নিউইয়র্কের দুই মেয়র—একজন অতীতের, একজন বর্তমানের। রুডি জুলিয়ানি নাইন-ইলেভেনের সময় নিউইয়র্কের মেয়র ছিলেন। ধ্বংসস্তূপের রাস্তায় তাঁর উপস্থিতি এবং হামলার পর নেতৃত্ব তাঁকে একসময় এনে দিয়েছিল ‘আমেরিকার মেয়র’ পরিচিতি।
জুলিয়ানি প্রকাশ্যে বলেছেন, মামদানির নাইন-ইলেভেন স্মরণানুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া তাঁর কাছে আপত্তিকর। নিহতদের বহু পরিবারের সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মামদানির উপস্থিতি তাঁকে আহত করে। আরও কঠোর ভাষায় তিনি মামদানির ধর্মীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থানকে নাইন-ইলেভেনের সন্ত্রাসীদের প্রসঙ্গের সঙ্গে টেনে আনেন, যা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
তিনি জানিয়েছেন, ১১ সেপ্টেম্বরের মূল অনুষ্ঠানসহ একাধিক স্মরণ কর্মসূচিতে তিনি উপস্থিত থাকবেন। তাঁর বক্তব্য, তিনি নিউইয়র্ককে ভালোবাসেন এবং নিহতদের পরিবার ও প্রথম সাড়াদানকারী কর্মীদের পাশে দাঁড়াতেই সেখানে যাবেন। এরই মধ্যে মামদানিকে অনুষ্ঠান থেকে দূরে রাখার দাবিতে অনলাইন আবেদনে প্রায় এক লাখ স্বাক্ষর জমা পড়েছে বলে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে। কিছু নিহতের পরিবার বলেছে, মামদানি এলে তারা তাঁকে উপেক্ষা করবে বা পেছন ফিরে দাঁড়াবে।
অন্যদিকে গভর্নর ক্যাথি হোকুলসহ মামদানির সমর্থকেরা বলছেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যের দিনে ধর্মের কারণে একজন নির্বাচিত মেয়রকে বাদ দেওয়ার দাবি উল্টো নাইন-ইলেভেন-পরবর্তী নিউইয়র্কের ঐক্যের চেতনাকেই ক্ষুণ্ন করে।
ফলে এবারের স্মৃতিস্থলে দৃশ্যটি হবে ঐতিহাসিক। ২০০১ সালের মেয়র জুলিয়ানি। ২০২৬ সালের মেয়র মামদানি। একই জায়গা। একই স্মরণসভা। কিন্তু নাইন-ইলেভেনের অর্থ নিয়ে দুই বিপরীত রাজনৈতিক অবস্থান।
আর ঠিক তখনই জুলিয়ানি আমলের নথি খুলে দিলেন মামদানি। ঘটনাটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে মঙ্গলবারের নথি প্রকাশ। মামদানি প্রশাসনের প্রকাশ করা প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার পৃষ্ঠার নথি প্রধানত হামলার পর বাতাসের মান, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও নগর সরকারের প্রতিক্রিয়া নিয়ে।
মামদানি বলেছেন, এত বছর ধরে মানুষকে যেসব সরকারি নথির জন্য লড়াই করতে হয়েছে, সেগুলো তাদের নাগালের মধ্যেই থাকা উচিত ছিল।
কংগ্রেস সদস্য জেরি ন্যাডলার আরও সরাসরি তৎকালীন জুলিয়ানি প্রশাসনের দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁর দাবি, তৎকালীন নগর প্রশাসন ভবিষ্যতে বিপুলসংখ্যক উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্যক্ষতির আশঙ্কা সম্পর্কে অবগত ছিল, কিন্তু যথেষ্ট স্বচ্ছতা দেখায়নি। তবে এটিকে এখনো অভিযোগ হিসেবেই দেখতে হবে। নতুন প্রকাশিত নথিগুলোর পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন পর্যালোচনা এখনও বাকি। অর্থাৎ জুলিয়ানি-মামদানি দ্বন্দ্ব এখন শুধু কে স্মরণসভায় যাবেন, সেই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে জুড়ে গেছে আরও গুরুতর প্রশ্ন- ২০০১ সালের জুলিয়ানি প্রশাসন ঠিক কী জানতো? কখন জানতো? আর নিউইয়র্কবাসীকে কী বলা হয়েছিল?
এই প্রশ্নের পূর্ণ উত্তর ১ লাখ ৭০ হাজার পৃষ্ঠার নথি ঘেঁটে পেতে সময় লাগবে। আরও নথি প্রকাশ হবে আগামী এক বছরে।
আরেকটি প্রায় বিস্মৃত বাস্তবতা হলো, আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে, অথচ কথিত মূল পরিকল্পনাকারীর বিচার এখনও শেষ হয়নি।
খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিরুদ্ধে বিচার এখন ২০২৮ সালের জুনে শুরু হওয়ার কথা।
গোপন হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ, জিজ্ঞাসাবাদের বৈধতা, স্বীকারোক্তি আদালতে ব্যবহার করা যাবে কি না এবং দোষ স্বীকারের বিনিময়ে শাস্তি কমানোর সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে বছরের পর বছর আইনি লড়াই মামলাটিকে আটকে রেখেছে।
অর্থাৎ কোনো শিশু যদি ২০০১ সালে জন্ম নিয়ে থাকে, সে আজ ২৫ বছরের প্রাপ্তবয়স্ক।
কিন্তু নাইন-ইলেভেনের মূল বিচার এখনও শেষ হয়নি।
নিউইয়র্কজুড়ে স্মরণ কর্মসূচি : ২৫তম বার্ষিকী ঘিরে নিউইয়র্কজুড়ে ইতোমধ্যেই স্মরণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। দমকল বিভাগ বছরব্যাপী বিভিন্ন আয়োজন হাতে নিয়েছে। নিহত ও পরবর্তী সময়ে নাইন-ইলেভেন-জনিত রোগে মারা যাওয়া সদস্যদের পরিবারের জন্য আলাদা অনুষ্ঠানও রাখা হয়েছে।
১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের স্মৃতিস্থলের মূল অনুষ্ঠানের পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন দমকলকেন্দ্রে স্মরণ, পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন থাকবে। রাতে ম্যানহাটানের আকাশ চিরে আবার জ্বলে উঠবে দুটি নীল আলোর স্তম্ভ—যা বহু বছর ধরে টুইন টাওয়ারের প্রতীকী উপস্থিতি বহন করছে।
এবার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও জনকল্যাণমূলক আয়োজনেও প্রথম সাড়াদানকারী কর্মী এবং নাইন-ইলেভেন-পরবর্তী অসুস্থতায় আক্রান্তদের সহায়তার বিষয়টি সামনে আসছে। এমন ছোট ছোট গল্পই সম্ভবত ২৫ বছর পর নাইন-ইলেভেনকে সংখ্যার বাইরে নিয়ে যায়।
নাইন-ইলেভেনের পর বিমানবন্দর নিরাপত্তা থেকে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা দপ্তর থেকে যাত্রী তল্লাশি ব্যবস্থা—আমেরিকার দৈনন্দিন জীবনের বহু প্রতিষ্ঠান ও নিয়মের জন্ম বা আমূল পরিবর্তন হয়েছিল সেই হামলার পর। কিন্তু ২৫ বছর পর নতুন প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে—নিরাপত্তা বাড়াতে গিয়ে আমেরিকা কী পেয়েছে, কী হারিয়েছে, আর কোন কাজ এখনও অসম্পূর্ণ? অন্যদিকে হামলার সময় বিষাক্ত ধুলোর সংস্পর্শে আসা মানুষদের জন্য বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র স্বাস্থ্য কর্মসূচি ২০৯০ সাল পর্যন্ত চালু রাখার অনুমোদন রয়েছে। এটিই বলে দেয়, নাইন-ইলেভেনের স্বাস্থ্যগত প্রভাব আরও কয়েক দশক ধরে চলতে পারে। ‘কখনও ভুলব না’। কিন্তু আমরা কি পুরো সত্যটাই মনে রেখেছি? প্রতি বছর ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক একটি অঙ্গীকার পুনরাবৃত্তি করে—কখনও ভুলব না। ২৫ বছর পর সেই কথার অর্থ সম্ভবত বদলাচ্ছে।
ভুলে না যাওয়া মানে শুধু টুইন টাওয়ারে আগুনের ছবি মনে রাখা নয়। শুধু ২,৯৭৭টি নাম পড়া নয়। শুধু ৩৪৩ জন দমকলকর্মীর আত্মত্যাগ স্মরণ করাও নয়। ভুলে না যাওয়া মানে সেই নির্মাণকর্মীকে মনে রাখা, যিনি ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করে ১৫ বছর পর ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন। সেই শিক্ষার্থীকে মনে রাখা, যে ম্যানহাটানের দক্ষিণাংশের বিষাক্ত বাতাসে স্কুলে গেছে। সেই পরিবারকে মনে রাখা, যার স্বজন হামলার দিন বাড়ি ফিরেছিলেন, কিন্তু ২০ বছর পরে নাইন-ইলেভেন-সম্পর্কিত রোগে মারা গেছেন।
১১ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা ৪৬ মিনিটে বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের স্মৃতিস্থলে প্রথম নীরবতা নেমে আসবে, ঠিক যে সময়ে ২৫ বছর আগে প্রথম বিমানটি উত্তর টাওয়ারে আঘাত করেছিল। কিন্তু এবার নিউইয়র্কের নীরবতার মধ্যে থাকবে নতুন একটি শব্দহীন প্রশ্ন- টুইন টাওয়ারের ধ্বংসস্তূপ আমরা বহু আগেই সরিয়েছি। সত্যের ধ্বংসস্তূপ সরাতে কেন লাগল ২৫ বছর?