২৬ বয়সেই ক্যানসারে থামল যুক্তরাষ্ট্রের টিকটক তারকা সিডনির জীবন
ঠিকানা অনলাইন
প্রকাশ : ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩:৪১
•
অনলাইন সংস্করণ
ছবি সংগৃহীত
বিরল ও আক্রমণাত্মক ক্যানসারের সঙ্গে প্রায় তিন বছর লড়াই করে মারা গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় টিকটক তারকা ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার সিডনি টাউল। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল মাত্র ২৬ বছর। পিত্তনালির বিরল ক্যানসার কোলানজিওকারসিনোমা শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ার পর সৃষ্ট জটিলতায় তার মৃত্যু হয়।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় সিডনির ভাই অস্টিন টাউল তাদের মাকে পাশে নিয়ে মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, প্রায় তিন বছর ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ের পর আগের রাতে শান্তিপূর্ণভাবে মারা যান সিডনি। মৃত্যুর কয়েক দিন আগে তাকে হসপিস কেয়ারে নেওয়া হয়েছিল।
নিউইয়র্ক সিটিতে বসবাসকারী সিডনির টিকটকে অনুসারীর সংখ্যা ছিল ১০ লাখের বেশি। ইনস্টাগ্রামেও তাকে অনুসরণ করতেন দুই লাখের বেশি মানুষ। দীর্ঘ এই লড়াইয়ের প্রতিটি ধাপ তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীদের সঙ্গে ভাগ করে নিতেন। কেমোথেরাপি, হাসপাতালের দিনগুলো, শারীরিক যন্ত্রণা, মানসিক সংগ্রাম, আশা-নিরাশা এবং জীবনের ছোট ছোট আনন্দ—কিছুই আড়াল করেননি তিনি।
সিডনির পরিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিরল ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং রোগীদের নিজেদের চিকিৎসা নিয়ে সক্রিয়ভাবে কথা বলার গুরুত্ব তুলে ধরতে তিনি সব সময় কাজ করেছেন। তার এই সচেতনতা তৈরির প্রচেষ্টা ও জীবনদর্শন ভবিষ্যতেও ধরে রাখার প্রত্যয় জানিয়েছে পরিবার।
সিডনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকের ছায়া নেমে আসে। হাজারো অনুসারী তার সাহস, ইতিবাচক মনোভাব ও জীবনপ্রেমের কথা স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানান। অভিনেত্রী অ্যালিসা মিলানোও তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মন্তব্য করেন।
চলতি বছরের মে মাসে হাসপাতাল থেকে প্রকাশিত কয়েকটি ভিডিওতে সিডনি জানিয়েছিলেন, ক্যানসার তার পেরিটোনিয়াম পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। ১৯ মে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তিনি জানান, তার অনকোলজিস্ট আর চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারবেন না এবং তাকে জীবনের শেষ সময়ের জন্য প্রস্তুত হতে পরামর্শ দিয়েছেন। তবে চিকিৎসকের সেই পরামর্শ মেনে নেননি সিডনি। অন্য বিশেষজ্ঞের কাছে গিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
মরণব্যাধির সঙ্গে লড়াইয়ের মধ্যেও জীবনকে উদ্যাপন করতে ভোলেননি এই তরুণী। নাচ, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, সাজগোজ এবং দৈনন্দিন জীবনের আনন্দময় মুহূর্ত নিয়মিত ভাগ করে নিতেন অনুসারীদের সঙ্গে। সম্প্রতি দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্নও পূরণ করেন তিনি। মিয়ামি সুইম উইকে দ্য কেমো ক্লাব এক্স পোস্ট সুইম আয়োজিত ফ্যাশন শোতে সাঁতারের পোশাক পরে র্যাম্পে হাঁটেন সিডনি।
নিজের অস্ত্রোপচারের দাগ নিয়েও কখনো সংকোচ বোধ করতেন না তিনি। বরং সেই দাগকে নিজের লড়াই ও শক্তির প্রতীক হিসেবে দেখতেন। তার একটি বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে—‘প্রিয় আইসক্রিম কিনুন, প্রিয় সিনেমাটি দেখুন। জীবন ভালোও, খারাপও। খারাপ ঘটনা ঘটলেই জীবন খারাপ হয়ে যায় না।’
সিডনি বলেছিলেন, ‘এই শরীরের দৃঢ়তা ও সৌন্দর্য আমি এখন নতুন করে দেখতে শিখেছি।’ তার আরেকটি কথাও অনুসারীদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে—‘স্বপ্নের শেষ তখনই হয়, যখন আপনি নিজেই সেটিকে শেষ হতে দেন।’
মাত্র ২৬ বছরের জীবনে সিডনি হয়তো ক্যানসারের কাছে শারীরিকভাবে হেরে গেছেন, কিন্তু তার লড়াই, সাহস ও জীবনকে ভালোবাসার গল্প ছড়িয়ে দিয়েছেন লাখো মানুষকে। তার রেখে যাওয়া বার্তা হয়ে উঠেছে প্রতিকূলতার মধ্যেও জীবনকে আঁকড়ে ধরার এক অনুপ্রেরণা।