নড়বড়ে হয়ে পড়েছে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আজিজের অবস্থান। ছাত্রদল নেতা হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ছেলে গ্রেপ্তার এবং নারী কেলেঙ্কারির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নানা গুঞ্জন উঠেছে তার সম্পর্কে।
আগামীকাল শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) জেলা বিএনপি জরুরি সভা আহ্বান করেছে। সভায় তার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, দুটি কারণে ভাগ্য বিপর্যয় ঘটতে পারে এমপি আব্দুল আজিজের। ওই সূত্র জানিয়েছে, তাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হতে পারে এবং কেন্দ্রে তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত পাঠানো হতে পারে।
এ ছাড়া নানা আলোচনায় বিপর্যস্ত হয়ে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন এমপি আব্দুল আজিজ।
গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলামকে হত্যার ঘটনায় আব্দুল আজিজের বড় ছেলে নূরুজ্জামান মিন্টুকে গত ২৬ অক্টোবর হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরের দিন তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেয় পুলিশ।
নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। তবে অধিকতর তদন্ত এবং হত্যার রহস্য উন্মোচনের কারণে এখনই সব বিষয় প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও জানান, খুব দ্রুতই সাংবাদিকদের সামনে সবকিছু প্রকাশ করা হবে।
এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের নেতৃত্বে ছাত্রদল নেতারা প্রথমে উপজেলার খামার চাঁচকৈড় কেন্দ্রীয় কবরস্থানে পৌঁছে শাকিলের কবর জিয়ারত করেন। এরপর তারা শাকিলের বাসায় গিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম এ হত্যার ইন্ধন ও অর্থ জোগানদাতাদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
তিনি বলেন, শাকিলের জানাজার পর একটি শপিংমল ভাঙচুর ও লুটপাটের মতো স্পর্শকাতর বিষয় ঘটে গেছে। এটি ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের শামিল। ছাত্রদল এমন ঘটনাকে কখনোই সমর্থন করে না। এ ঘটনায় যারা জড়িত আছে, তাদের খুঁজে বের করে শাস্তির দাবিও জানান তিনি।
ছাত্রদল নেতারা থাকা অবস্থায় সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলসহ জেলা বিএনপির নেতারাও শাকিলের বাসায় উপস্থিত হন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী পুতুল বলেন, এই হত্যার সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক, তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী পুতুল এবং ছাত্রদল সভাপতি রাকিবের উপস্থিতিতে এ সময় স্থানীয় ছাত্রদল, যুবদলের নেতাকর্মীরা প্ল্যাকার্ড ফেস্টুন হাতে সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের পদত্যাগের ব্যাপারে স্লোগান দিতে থাকেন। যদিও আব্দুল আজিজের সমর্থকরা বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে ব্যানার-ফেস্টুন কেড়ে নিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেন।
উল্লেখ্য, গত ১৪ অক্টোবর রাতে উপজেলার চাঁচকৈড় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে হেলমেটধারী সন্ত্রাসীরা শাকিলকে প্রথমে গুলি ও পরে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়। সেখান থেকে শাকিলকে গুরুতর অবস্থায় প্রথমে উপজেলা হাসপাতাল ও পরে রাজশাহী মেডিকেল থেকে ঢাকার পিজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ অক্টোবর রাতে মারা যান শাকিল।