বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশে নিষিদ্ধ সংগঠন ‘একিউআইএস’র ইউনিট প্রতিষ্ঠার চেষ্টা, জাতিসংঘের সতর্কতা

বাংলাদেশে নিষিদ্ধ সংগঠন ‘একিউআইএস’র ইউনিট প্রতিষ্ঠার চেষ্টা, জাতিসংঘের সতর্কতা

জাতিসংঘের লোগো। ছবি: সংগৃহীত।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ সংগঠন ‘আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট’(একিউআইএস) ইউনিট প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। সম্প্রতি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ‘অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিম’-এর এক প্রতিবেদন থেকে এ সতর্কবার্তা পাওয়া গেছে।
জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আফগানিস্তানে আল-কায়েদার অবস্থান ও সক্ষমতা এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে। সংগঠনটির ভারতীয় উপমহাদেশীয় শাখা ‘আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট’ (একিউআইএস) ও খণ্ডিত একটি গোষ্ঠী থেকে ধীরে ধীরে আঞ্চলিক সংগঠনে রূপ নিয়েছে। তারা বড় ইউনিটের পরিবর্তে ছোট ও বিচ্ছিন্ন সেল গঠন করে রসদ সরবরাহ এবং আর্থিক নেটওয়ার্ক বিস্তারের চেষ্টা করছে।
গত ১০ আগস্ট (সোমবার) প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মূল্যায়নের ভিত্তিতে এতে ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ৯ জুন পর্যন্ত আল-কায়েদা ও সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম ও পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আল-কায়েদা ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (একিউআইএস)-এর কর্মকাণ্ডের একটি উদাহরণ হিসেবে দিল্লির লাল কেল্লায় হামলার কথা বলা হয়েছে। গত বছরের নভেম্বরের ওই হামলার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে সংগঠনটিকে দায়ী করা হয়। 

এ প্রসঙ্গে বর্ণনার এক পর্যায়ে বাংলাদেশেও একিউআইএস-এর সেল বা ছোট সাংগঠনিক ইউনিট প্রতিষ্ঠার চেষ্টা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, সংগঠনটি বাংলাদেশকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করছে।

একিউআইএস এখনও নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত নয় বলে উল্লেখ করেছে স্যাংশনস মনিটরিং টিম। তারা লিখেছে, একিউআইএস ‘ইত্তিহাদ-উল-মুজাহিদিন পাকিস্তান’ বা আইএমপি-এর মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। এই গোষ্ঠীটি বেশ কয়েকটি হামলার জন্য দায়ী। এর মধ্যে গত ৯ মে’র একটি ঘটনা অন্যতম। সেদিন পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বান্নুতে একটি নিরাপত্তা চৌকির কাছে আত্মঘাতী বোমা হামলা ও বিস্ফোরকভর্তি যান বিস্ফোরিত হয়। এতে নিহত হন ২১ জন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, একিউআইএস-এর শীর্ষ নেতৃত্ব আফগানিস্তানের কাবুলে অবস্থান করছে। তাদের তাজকিরা (তালেবানের দেওয়া পরিচয়পত্র) দেওয়া হয়েছে। এটি ইঙ্গিত দেয়, তালেবান ও একিউআইএস-এর মধ্যে সহযোগিতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে।

মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্ত অতিক্রম করে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে হামলা অব্যাহত থাকায় দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক উত্তেজনা বহাল আছে। তালেবান সরকার ‘তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান’ বা টিটিপিকে সমর্থন দেওয়া অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু প্রকাশ্যে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার কথা অস্বীকার করে আসছে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর উদ্বেগ, এই সংঘাত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। যা এই অঞ্চলে অতিরিক্ত নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। 

ঠিকানা/এসআর

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Developed by SolveEz