বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

​কানাডায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে দাবানল, বহু বাড়িঘর ধ্বংস

​কানাডায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে দাবানল, বহু বাড়িঘর ধ্বংস

বিজ্ঞাপন
কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া দাবানলে ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুনে বেশ কিছু বাড়িঘরও ধ্বংস হয়েছে।

বাল্ড রেঞ্জ দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে প্রায় নয় হাজার ৫০০ হেক্টর (২৩ হাজার ৫০০ একর) এলাকা পুড়িয়ে ফেলেছে। আগুনের কারণে ওকানাগান লেকের পশ্চিমে সামারল্যান্ড, পিচল্যান্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খবর আল জাজিরার। 

স্থানীয় সময় শনিবার (৮ আগস্ট) ভোরে প্রদেশটির প্রিমিয়ার ডেভিড এবি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। ব্রিটিশ কলাম্বিয়াজুড়ে তখন ১০০টিরও বেশি দাবানল সক্রিয় ছিল। এর প্রায় অর্ধেকই নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। তীব্র গরম, ঝোড়ো বাতাস ও দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।

প্রায় ১২ হাজার বাসিন্দার পুরো সামারল্যান্ড শহর রাতেই খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি পিচল্যান্ড ও আশপাশের এলাকায় আরও প্রায় ৮ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ঠিক কতটি বাড়ি পুড়ে গেছে, তা নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

ডেভিড এবি জানান, কিছু বাসিন্দা আগুনের মধ্যে আটকা পড়েছিলেন এবং তাদের উদ্ধার করতে হয়েছে। ফায়ার লাইনের পেছনে কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে উদ্ধারকারী দলগুলো কাজ করছে।

এবি বলেন, মানুষ তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছেন। অনেক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আবার অনেকে প্রিয়জনদের খবরের অপেক্ষায় রয়েছেন।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় বাল্ড রেঞ্জের আগুনের সূত্রপাত হলেও তা অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ছোট্ট ফাউলডার এলাকার ওপর দিয়ে আগুন ছড়িয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টায় প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরের সামারল্যান্ডে পৌঁছে যায়।

বিসি ওয়াইল্ডফায়ার সার্ভিসের পরিচালক ক্লিফ চ্যাপম্যান পরিস্থিতিকে বিস্ফোরক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রদেশের অন্যান্য এলাকাও একই ধরনের দ্রুতগতির দাবানলের মুখে পড়তে পারে।

সড়কপথে বের হতে না পারা বাসিন্দাদের উদ্ধারে দমকলের হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হচ্ছে।

প্রাদেশিক সরকার জানিয়েছে, জরুরি অবস্থা ঘোষণার ফলে ভ্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মতো অতিরিক্ত ক্ষমতা পেয়েছে কর্তৃপক্ষ।

শনিবার আরও কয়েকটি এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে পিচল্যান্ড ওয়াটারশেড, ব্রেন্ডা মাইনস, লোয়ার প্রিন্সটন এবং এর ডাউনটাউন এলাকা।

কানাডায় চলতি গ্রীষ্মে একের পর এক বড় দাবানল দেখা দিয়েছে। অন্টারিও ও কুইবেকসহ বিভিন্ন প্রদেশেও ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দীর্ঘস্থায়ী খরা ও অতিরিক্ত তাপের প্রবণতা বাড়ায় দাবানলের ঝুঁকি আরও তীব্র হচ্ছে।

বর্তমানে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় প্রায়  এক হাজার ৫০০ দমকলকর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। প্রদেশটিতে ৩৯টি এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ এবং ৪৯টি সতর্কতা জারি রয়েছে। মেক্সিকো, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স ও নিউজিল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশও কানাডাকে দাবানল মোকাবিলায় সহায়তা করছে।

ডেভিড এবি স্থানীয় বাসিন্দাদের সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলে দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে হবে, কারণ পরিস্থিতি অত্যন্ত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।

ঠিকানা/এসআর

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Developed by SolveEz