যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করলেও যুদ্ধপ্রস্তুতি কমাচ্ছে না ইরান
প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও বাড়ানোর ঘোষণা
ঠিকানা অনলাইন
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬, ১০:১৩
•
অনলাইন সংস্করণ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও সামরিক প্রস্তুতিতে কোনো ধরনের শিথিলতা আনছে না ইরান। বরং দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধপ্রস্তুতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও জোরদার করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে তেহরান।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেশটির সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানি সামরিক মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা বাস্তবায়নের সময়েও দেশের সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকবে এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উন্নয়নের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, “সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তুতির স্তরকে আমরা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে উচ্চ পর্যায়ে ধরে রাখব। একই সঙ্গে দেশের প্রতিরক্ষা অবকাঠামো ও সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার কার্যক্রম চলতে থাকবে।”
চুক্তি লঙ্ঘনের সম্ভাবনা নিয়েও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন ওই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, সমঝোতা স্মারকের কোনো ধারা ভঙ্গ করা হলে ইরান দ্রুত ও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে।
তার ভাষায়, “যদি শত্রুপক্ষ এই চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করে, তাহলে আমরা খুব দ্রুত এবং শক্তিশালী পদক্ষেপের মাধ্যমে আঞ্চলিক সামরিক পরিস্থিতিকে চুক্তির আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেব।”
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে যে কূটনৈতিক অগ্রগতি হয়েছে, এই বক্তব্য তার মধ্যেও তেহরানের গভীর অবিশ্বাসের ইঙ্গিত বহন করে। ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চায় যে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতাকে তারা সামরিক দুর্বলতার প্রতীক হিসেবে দেখছে না।
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও অস্থির। পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালি, ইরাক, সিরিয়া ও ইয়েমেনকে ঘিরে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা অব্যাহত রয়েছে। ফলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নিলেও ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, ড্রোন সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী রাখার কৌশল থেকে সরে আসছে না।
সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে দুই দেশ উত্তেজনা কমানো, সামরিক সংঘাত এড়ানো এবং পারস্পরিক কিছু নিরাপত্তা উদ্বেগ নিরসনের বিষয়ে কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে। তবে উভয় পক্ষই এখনো একে পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তি হিসেবে দেখছে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, চুক্তি বাস্তবায়নের পুরো সময়জুড়েই ইরান ‘সতর্ক সহযোগিতা’ নীতি অনুসরণ করবে। অর্থাৎ কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও সামরিক প্রস্তুতি ও প্রতিরক্ষা বিনিয়োগে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সূত্র: ফার্স নিউজ এজেন্সি, মিডল ইস্ট আই