বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

১১ পলিথিনে নারীর খণ্ডিত লাশ, মাথা-পা এখনো উদ্ধার হয়নি

১১ পলিথিনে নারীর খণ্ডিত লাশ, মাথা-পা এখনো উদ্ধার হয়নি

ছবি সংগৃহীত

বিজ্ঞাপন
কুমিল্লার দেবীদ্বারে নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টা পর এক গৃহবধূর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যার পর মরদেহ টুকরা করে ১১টি পলিথিনের প্যাকেটে ভরে বস্তাবন্দী করে বাড়ির পেছনে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। তবে এখনো নিহতের মাথা ও পা উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নিহতের বাসার ভাড়াটে লাইলী বেগমকে (৩৫) স্থানীয়রা আটক করে মারধরের পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লাইলী হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং আরও কয়েকজনের নাম বলেছেন।

শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর মোহনা আবাসিক এলাকায় দেবীদ্বার দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার মালিকানাধীন বাড়ি থেকে মরদেহের প্যাকেটগুলো উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত ফরিদা বেগম (৫৫) শনিবার সকাল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। ডায়াবেটিসের কারণে তিনি প্রতিদিন হাঁটতে বের হতেন। সকালে ছোট মেয়ে মরিয়ম আক্তার বাবার বাড়িতে এসে মাকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। স্বজনেরা আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নেন। পরে এলাকায় মাইকিংও করা হয়।

একপর্যায়ে বিকেলে ফরিদা বেগমের বোনের ছেলে মামুন বাড়ির পেছনে পলিথিনে মোড়ানো কয়েকটি প্যাকেট দেখতে পান। সন্দেহ হওয়ায় তিনি পুলিশকে খবর দেন। সন্ধ্যায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তাবন্দী অবস্থায় ফরিদা বেগমের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতের স্বজনদের দাবি, ফরিদাকে খুঁজে না পেয়ে থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি করতে গেলে পুলিশ তা নেয়নি।

ফরিদা বেগম (৫৫) দেবীদ্বার পৌর এলাকার ফতেহাবাদ ভূঁইয়াবাড়ির মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার (৬৫) স্ত্রী। প্রায় ৩০ বছর আগে তারা মোহনা আবাসিক এলাকায় বাড়ি করে বসবাস শুরু করেন। মফিজুল ইসলাম চট্টগ্রামে একটি জাহাজে চাকরি করেন। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় ফরিদা বাড়িতে একাই থাকতেন। বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া দেওয়া হয়েছিল লাইলী বেগমকে।

ঘটনার পর স্থানীয়রা লাইলী বেগমকে আটক করে মারধর করে একটি বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে বিক্ষুব্ধ লোকজন অবস্থান নিলে পরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ গিয়ে তাকে থানায় নিয়ে যায়।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, পলিথিনে মোড়ানো ফরিদা বেগমের খণ্ডিত মরদেহের কয়েকটি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মাথা ও পা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

ওসি জানান, আটক লাইলী বেগমকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরও চারজনের নাম পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে লাইলীর স্বামী আবুল কালাম আজাদ, রবিউল, সোহেল ও ইমনের নাম রয়েছে। তাদের সম্পৃক্ততা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে জড়িত অন্যদের আটকের চেষ্টা চলছে।

ঠিকানা/এনআই

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Developed by SolveEz