ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন টকশো জ্বালানির সংকটে বিদ্যুতে সমস্যা
ঠিকানা রিপোর্ট
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:২৮
•
অনলাইন সংস্করণ
জ্বালানি সংকটের কারণে মূলত বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়েছে। আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের জন্য এলএনজি আমদানি কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে দেশে বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কেন্দ্র বেশি থাকলেও সেগুলো সচল রাখা যাচ্ছে না। এসব কথা বলেছেন বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল।
ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন টকশোতে তিনি আরো বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ২০১৬ সালের পর দেশে গ্যাসের নতুন কোনো কূপ খনন করেনি। এর পরিবর্তে তারা আমদানি-নির্ভর জ্বালানি নীতি গ্রহণ করে। বাইরে থেকে এলএনজি আনার এই উদ্যোগ ছিল ভুল সিদ্ধান্ত। এই কারণে এখন বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হয়েছে। তাই বিএনপি সরকার দেশেই ১৫০টি নতুন গ্যাস কূপ খননের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এগুলো করতে অবশ্য এই সরকারকে সময় দিতে হবে।’
১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার এই টকশোতে অতিথি হিসেবে আরো ছিলেন জাতীয় নারী শক্তির আহ্বায়ক ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন। নিউইয়র্ক সময় বেলা ১২টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা) যা সরাসরি সম্প্রচারিত হয় ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন ইউটিউব চ্যানেলে। দেশের সমসাময়িক নানা বিষয়ে কথা বলেন দুই অতিথি।
জ্বালানি সংকটের জন্য একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, অন্যদিকে বিগত সরকারগুলোর ভুল সিদ্ধান্তকে দায় দিচ্ছে বিএনপি সরকার। কিন্তু ছয় মাস পার হলেও নতুন সরকারের নিজস্ব কোনো পরিকল্পনা স্পষ্ট হচ্ছে না কেন, সেই প্রশ্ন তুললেন এনসিপির নেত্রী মনিরা শারমিন। তিনি বলছেন, ‘এই সরকারের শুরুর দিকে আমরা দেখেছি, পেট্রোল পাম্পে লম্বা লাইন। কিন্তু দাম বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই লাইন উধাও হয়ে গেছে। সারের ক্ষেত্রেও সরকার বলছে, মজুদে সমস্যা নেই। অথচ সার না পেয়ে উত্তরবঙ্গে ক্ষুব্ধ কৃষকরা ডিলারের গুদাম থেকে সার লুট করে নিয়েছে। সমস্যা না থাকলেও এটা হচ্ছে কেন? এক্ষেত্রেও দাম বাড়ানো কিংবা দলীয় লোকদের সুবিধা দেওয়ার পর কী সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে?’
তিনি আরো যোগ করেন, ‘আমরা চাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশে জ্বালানি সংকট দূর হবে। কৃষকরা ঠিকমতো সার পাবে। দেশে লোডশেডিং থাকবে না, ফ্যানটি ঠিকমতো ঘুরবে। এখানে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, দেশে ফিরেই বিএনপির প্রধান তারেক রহমান বলেছিলেন, আই হ্যাভ আ প্ল্যান। কিন্তু জ্বালানির ক্ষেত্রে সেই পরিকল্পনা আসলে কোথায়?’
কৃষকরা গুদাম থেকে সার লুটবে করবে, পরিস্থিতি এতোটা নাজুক হয়নি, দাবি করছেন বিএনপির সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল। তিনি বলেন, কুড়িগ্রামেও সার আছে, কিন্তু দিতে দেরি হয়েছে। এর পেছনে কোনো একজন ব্যক্তির ষড়যন্ত্র ছিল, অভিযোগ রাখেন তিনি।
‘বিএনপি সরকার জ্বালানি তেল নিয়ে ঝামেলার সময় বলেছিল তেলের সংকট নেই, যথেষ্ট মজুদ আছে। পরে কিন্তু তার বাস্তবতা পাওয়া গেছে। আবার এখন গ্যাসের সংকটের কথা সরকার নিজেই কিন্তু স্বীকার করে নিচ্ছে। সারের ক্ষেত্রে সংকট নেই। তবে একটি সরকার ছয় মাসেই নতুন ডিলার নিয়োগ দিতে পারে না। এ নিয়ে কাজ চলছে। আবার পুরনো ডিলারদেরও বাদ দেওয়া হচ্ছে না। এটার সমাধান দ্রুত হয়ে যাবে বলে আমরা মনে করি’- বলেন বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল।