মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন মার্কিন রণতরিসহ ১০ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন মার্কিন রণতরিসহ ১০ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি সংগৃহীত

বিজ্ঞাপন
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অষ্টম মাসে গড়াচ্ছে। এমন এক সময় মধ্যপ্রাচ্যের অভিমুখে নিজেদের তৃতীয় বিমানবাহী রণতরি (এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার) স্ট্রাইক গ্রুপ পাঠাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যা ওই অঞ্চলে ওয়াশিংটনের নজিরবিহীন সামরিক শক্তির প্রদর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক এক মাস আগে পেন্টাগনের এই বিশাল সেনাবহর পাঠানোর খবর নিশ্চিত করেছেন মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তা।

২ অক্টোবর (শুক্রবার) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর আলজাজিরার। 

মার্কিন সামরিক সূত্রে জানা গেছে, সান ডিয়াগো ঘাঁটি থেকে বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট’ স্ট্রাইক গ্রুপ ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। এর একদিন পর ২ হাজারের বেশি মেরিন সেনা বহনকারী ‘মেকিন আইল্যান্ড’ মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটও যাত্রা শুরু করেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপে নতুন করে প্রায় ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার মার্কিন নৌ ও মেরিন সেনা এই অঞ্চলে যুক্ত হবেন।

অক্টোবর ও নভেম্বরের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যে একই সঙ্গে তিনটি বিমানবাহী রণতরি এবং দুটি উভচর ল্যান্ডিং গ্রুপ অবস্থান করবে। ওয়াশিংটন থেকে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মোতায়েনে এফ-৩৫ স্টিলথ ফাইটার জেটসহ অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান সংযুক্ত থাকবে, যা বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনার শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। ওয়াশিংটন কূটনীতির পথ খোলা রাখলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে সামরিক আক্রমণের সম্ভাব্য সব পথ ‘টেবিলে রাখাই’ এই বিপুল সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ও অতীতের সেনা বিন্যাস

মধ্যপ্রাচ্যে অন্তত ১৯টি স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি বা উপস্থিতি রয়েছে। যার মধ্যে বাহরাইন, মিশর, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৮টি স্থায়ী ঘাঁটি রয়েছে। চলতি ২০২৬ সালের শুরুর দিকে ইরান যুদ্ধ ঘনীভূত হওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র দফায় দফায় যুদ্ধজাহাজ ও সেনাবল বাড়িয়ে চলেছে। গত ফেব্রুয়ারির পর থেকে ১২০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছে, যা ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের পর সর্বোচ্চ বোমারু ও যুদ্ধবিমানের সমাবেশ।

কূটনৈতিক অচলাবস্থা ও নতুন সংঘাতের ইঙ্গিত

এই বিশাল সেনা পাঠানোর উদ্দেশ্য নিয়ে দুটি ব্যাখ্যা সামনে আসছে। প্রথমত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, নভেম্বরের নির্বাচনের পর ইরানে আবার বিমান হামলা জোরদার করা ‘সম্ভব’। দ্বিতীয়ত, এটিকে কূটনৈতিক দরকষাকষির মার্কিন কৌশল হিসেবেও দেখছেন অনেক বিশ্লেষক।

গত সপ্তাহে কাতারের মধ্যস্থতায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরান এক সপ্তাহের জন্য ‘হরমুজ প্রণালি’ খুলে দেওয়াসহ পারমাণবিক আলোচনা শুরুর শর্তসাপেক্ষ একটি প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে, কারণ ওয়াশিংটন চায় কেবল হরমুজ প্রণাল নয়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর বিষয়েও চূড়ান্ত ফয়সালা হোক।

সংঘাত যখন নতুন মোড় নিচ্ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও এই অজনপ্রিয় যুদ্ধ নিয়ে রিপাবলিকান পার্টি রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে। তবে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান একটি সঠিক ও বুদ্ধিমত্তার সিদ্ধান্ত না নিলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চরম রূপ নিতে পারে।

ঠিকানা/এএস 

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Developed by SolveEz