বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

স্যুটকেসে ব্রিটিশ নারীর মরদেহ, গ্রিসে আফগান যুবক আটক

স্যুটকেসে ব্রিটিশ নারীর মরদেহ, গ্রিসে আফগান যুবক আটক

ছবি সংগৃহীত

বিজ্ঞাপন
গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে স্যুটকেসের ভেতর থেকে এক ব্রিটিশ নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ২৬ বছর বয়সী এক আফগান নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে ওই যুবক হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্র আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

রোববার (২ আগস্ট) ডেইলি মেইল জানিয়েছে, নিহত নারীর নাম এলিজাবেথ জেন রস। ৩৮ বছর বয়সী এই নারী ‘লিসা’ নামেও পরিচিত ছিলেন। গত ১৮ জুলাই এথেন্সের কিপসেলি এলাকায় একটি পরিত্যক্ত গাড়ি পার্কিংয়ের স্থান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এক গৃহহীন ব্যক্তি সেখানে একটি স্যুটকেস দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে মরদেহের সন্ধান মেলে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ২৬ বছর বয়সী আফগান যুবকের সঙ্গে লিসার পরিচয় হয়েছিল শরণার্থী ও গৃহহীন মানুষের সহায়তায় তার স্বেচ্ছাসেবী কাজের সূত্রে। পুলিশের তদন্তে জানা যায়, লিসার ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করে ওই যুবক টাকা তুলেছিলেন। এই সূত্র ধরেই তার গতিবিধি শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

তদন্তকারীরা আরও জানান, স্যুটকেসে ওই যুবকের আঙুলের ছাপ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজে তাকে স্যুটকেসটি বহন করে পরিত্যক্ত গাড়ি পার্কিংয়ের স্থানে নিয়ে যেতে দেখা যায়। গত ৩০ জুলাই তাকে এথেন্সের একটি ঠিকানা থেকে আটক করা হয়। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে জানানো হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার পর লিসার মরদেহ স্যুটকেসে ভরে নির্জন স্থানে নিয়ে যান ওই যুবক। পরে তার ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করে নগদ অর্থ তোলেন। গ্রেপ্তার যুবকের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে একটি খেলনা বা নকল পিস্তল এবং একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।

লিসা ছিলেন ধর্মপ্রাণ খ্রিষ্টান এবং গত সাত বছর ধরে নিয়মিত গ্রিসে যাতায়াত করতেন। শরণার্থী ও বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহায়তায় কাজ করা সংগঠনগুলোর সঙ্গে তিনি স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে যুক্ত ছিলেন। গ্রিসে ‘ওয়ান হার্ট’ নামের একটি সংগঠনের সঙ্গেও তিনি কাজ করতেন, যারা বিশেষ করে আফগানিস্তান ও ইরান থেকে আসা শরণার্থীদের চিকিৎসা সহায়তা দিয়ে থাকে।

গত ২৬ জুন লিসা এথেন্সে পৌঁছান এবং কেরাতসিনি এলাকায় গ্রিক বন্ধুদের সঙ্গে থাকছিলেন। গত ১৫ জুলাই তিনি জানিয়েছিলেন, কিপসেলিতে পরিচিত কয়েকজন মার্কিন বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন। এর প্রায় ৭২ ঘণ্টা পর তার মরদেহ উদ্ধার হয়।

তদন্তকারীরা সন্দেহ করেছিলেন, স্বেচ্ছাসেবী কাজের সূত্রে পরিচিত কারও হাতেই লিসা খুন হয়ে থাকতে পারেন। তার মৃত্যুর পরও কেউ তার ফোন থেকে পরিবার ও পরিচিতদের বার্তা পাঠিয়ে তাকে জীবিত দেখানোর চেষ্টা করেছে বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। তার বাবাকে ১৫ থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন বার্তা পাঠানো হয়। পরে ফোনটি বন্ধ হয়ে যায়।

ঠিকানা/এনআই

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Developed by SolveEz