বিশ্বকাপসহ ফিফার সব আসর বর্জনের সিদ্ধান্ত ইউরোপের ৫৫ দেশের
ঠিকানা অনলাইন
প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৬, ২৩:২১
•
অনলাইন সংস্করণ
ছবি সংগৃহীত
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বহিরাগত বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনার প্রতিবাদে বিশ্বকাপসহ ফিফার অন্যান্য প্রতিযোগিতা বর্জনের পক্ষে সর্বসম্মতিক্রমে ভোট দিয়েছে উয়েফার সদস্য দেশগুলো।
ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ফিফা তাদের প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল না করা পর্যন্ত এই অবস্থান বহাল থাকবে।
গতকাল বুধবার ফিফার সাবেক সভাপতি সেপ ব্লাটার বিশ্বকাপ পরিচালনার জন্য প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বিশ্বকাপ কোনো বাণিজ্যিক সম্পদ নয়, যা কয়েকজন নির্বাহীর নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
২০১৫ সাল পর্যন্ত টানা ১৭ বছর ফিফার সভাপতির দায়িত্ব পালন করা ব্লাটার বলেন, বর্তমান সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর এই পরিকল্পনা ফুটবলকে অতিরিক্ত বাণিজ্যিকীকরণের দিকে নিয়ে যাবে।
৯০ বছর বয়সী ব্লাটার রয়টার্সকে বলেন, ‘ফুটবল কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি নয়। এটি জনগণের সম্পত্তি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফিফাকে যদি একটি মুনাফামুখী করপোরেট কাঠামোয় রূপান্তর করা হয়, তাহলে সংস্থাটি তার স্বকীয়তা হারাবে।’ ব্লাটারের দাবি, তিনি দায়িত্বে থাকাকালে এমন কোনো পদক্ষেপের কথা কখনো ভাবেননি।
ফিফা গত মঙ্গলবার জানায়, বিশ্বকাপ ও তাদের অন্যান্য বড় ইভেন্ট পরিচালনার জন্য একটি নতুন সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে বহিরাগত বিনিয়োগকারীদের কাছে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হবে।
এই পরিকল্পনা প্রকাশের পর থেকেই বিশ্ব ফুটবলের প্রভাবশালী সংস্থাগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ফুটবলের ঐতিহ্য ও প্রশাসনিক স্বাধীনতা রক্ষার কথা বলে উয়েফা এর বিরোধিতা করছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) উয়েফার ৫৫টি সদস্যদেশ একযোগে এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পক্ষে ভোট দেয়।
উয়েফা জানায়, ফুটবল বা বিশ্বকাপ কোনো বিক্রয়যোগ্য পণ্য নয় এবং এর নিয়ন্ত্রণ ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
উয়েফার বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ফিফা যতক্ষণ না এই প্রস্তাব পুরোপুরি বাতিল করছে এবং ভবিষ্যতে ফুটবলের মালিকানা ব্যক্তিগত খাতে হস্তান্তর করা হবে না—এমন আইনি নিশ্চয়তা দিচ্ছে, ততক্ষণ উয়েফার কোনো দল ফিফার আয়োজিত কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নেবে না।’
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের এই পরিকল্পনাকে ঘিরেই মূলত বিরোধের সূত্রপাত।
সমালোচকদের মতে, এই উদ্যোগ বিশ্ব ফুটবলের বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামো ও সুশাসনের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
এশিয়াতেও এ নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল-খলিফা এক চিঠিতে জানান, এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে কোনো ধরনের পরামর্শ করা হয়নি।
তিনি সতর্ক করে বলেন, সব কনফেডারেশনের ঐকমত্য ছাড়া এমন প্রস্তাব অনুমোদন করা উচিত নয়। উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনকাকাফও ফিফার পরিকল্পনার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।
এদিকে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সদস্যদেশগুলোর সমর্থন পেতে ফিফা আর্থিক প্রণোদনার প্রস্তাব দিচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রস্তাবে সম্মতি দিলে প্রতিটি ফুটবল সংস্থাকে ৪০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় সংগঠন ফিফপ্রোসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক খেলোয়াড় ইউনিয়ন এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে। তাদের বক্তব্য, খেলোয়াড় ও সমর্থকদের আবেগ ও স্বার্থ উপেক্ষা করে ফুটবলকে কেবল ব্যবসায়িক পণ্যে পরিণত করা যাবে না।