বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ :
• ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের চিত্র • মার্কিন কংগ্রেসে সেনেটের নিয়ন্ত্রণ পেল ডেমোক্র্যাটরা • ভাঙচুরের ভিডিও করায় তৌফিককে হত্যা করেছে আওয়ামী দুর্বৃত্তরা : রাশেদ খান • ইন্দোনেশিয়ায় প্রেসিডেন্টের ফোনে আড়িপাতার সন্দেহে ৩ পুলিশ কর্মকর্তা আটক • এসআরবির নতুন মহাপরিচালক ফারুক আহমেদ • কোটি টাকা ঘুষ চাওয়া সেই প্রসিকিউটর দেশ ছেড়েছেন • শ্রমিক আন্দোলনের ভিডিও ধারণের সময় হামলার শিকার তৌফিকের মৃত্যু • ‘২৪ এর রাজাকারকে ফুল দিয়ে বরণ করে নিলো ৭১ এর রাজাকার’ • চলতি বছরের পর ইসরায়েলকে অর্থ-সহায়তা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের • প্রথমবার পর্তুগাল অনূর্ধ্ব-১৭ দলে ডাক পেলেন রোনালদো জুনিয়র

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

বিজ্ঞাপন
​দেশে ফিরলে কি হবে, আইন কী বলছে?

হাসিনাকে নিয়ে ভাবনায় ভারত

হাসিনাকে নিয়ে ভাবনায় ভারত

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও আইনি আলোচনা।  ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে তিনি ভারত চলে যাওয়ার পর থেকে সেখানেই অবস্থান করছেন। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়। এর পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে-দেশে ফিরলে তার জন্য কী ধরনের আইনি প্রক্রিয়া অপেক্ষা করছে এবং এ ইস্যুতে ভারতের অবস্থান কী হতে পারে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধ-সংক্রান্ত একটি মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ অবস্থায় তিনি দেশে ফিরলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হওয়ায় দেশে ফিরলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাকে প্রথমে কারাগারে যেতে হবে। পরবর্তীতে আইনজীবীর মাধ্যমে তিনি কোনো আইনি প্রতিকার চাইতে পারেন কি না, সেটি আদালতের বিবেচনার বিষয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর ২১ ধারা অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করার বিধান রয়েছে। শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে সেই সময়সীমা অতিক্রান্ত হয়েছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করে ‘কনডোনেশন অব ডিলে’ বা বিলম্ব মার্জনার আবেদন করা হলে আদালত তা গ্রহণ করতে পারেন। আবার অন্যদের মতে, এটি একটি বিশেষ আইন হওয়ায় নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর আপিল গ্রহণযোগ্য হবে কি না, তা সম্পূর্ণভাবে আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আদালত যদি বিলম্ব মার্জনা করেন, তাহলে মামলার মূল বিষয়ে শুনানির পথ খুলতে পারে। অন্যদিকে আবেদন গ্রহণ না হলে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আর কোনো আপিলের সুযোগ নাও থাকতে পারে। এ কারণে দেশে ফিরে সম্ভাব্য আপিলের প্রশ্নটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি ইস্যু হিসেবে সামনে এসেছে।
অন্যদিকে শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারতের অবস্থানও আলোচনায় রয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে ভারত এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্ক, অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক-এই দুই বিবেচনার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে হচ্ছে নয়াদিল্লিকে।
তবে খোদ ভারতীরাই বলতে শুরু করেছেন হাসিনাকে দিল্লিতে রেখে বাংলাদেশে কেন আমরা ভারত বিদ্বেষের চাষ করব। কেন্দ্রীয় সরকার যদি ভারত থেকে অবৈধ বাংলাদেশিদের বিতাড়িত করতে চায়, তাহলে শেখ হাসিনাকে দিয়েই সেটা শুরু করা উচিত। বিক্ষুব্ধ ভারতীয়দের প্রশ্ন হচ্ছে আমাদের করের টাকায় বাংলাদেশ থেকে গণঅভ্যুত্থানে জনগণের রোষানল থেকে পালিয়ে আসা প্রধানমন্ত্রীকে ভরণপোষণ করে কেন আমরা বাংলাদেশি পর্যটক হারাব। এর জন্য কেন হাজার হাজার কোটি রুপি লোকসান দিতে হবে। নিজ দেশের মানুষের এ ধরনের প্রতিক্রিয়ায় শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভাবনায় পড়েছে ভারত সরকার।
ভারতের কিছু গণমাধ্যম ও বিশ্লেষকের বক্তব্যেও এ নিয়ে ভিন্নমত দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ মনে করছেন, শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া ভারতের জন্য একটি কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। আবার অন্যদের মতে, বিষয়টি মানবিক ও রাজনৈতিক উভয় দিক থেকেই সংবেদনশীল। একই সময়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন, চীন ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের প্রচেষ্টাও দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন মহলে জল্পনা রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন কি না, ফিরলে কবে ফিরবেন এবং ফিরে কী ধরনের আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হবেন-এসব প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর নির্ভর করবে আদালতের সিদ্ধান্ত, কূটনৈতিক বাস্তবতা এবং সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর অবস্থানের ওপর। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট-তার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতি ও দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন


সর্বশেষ আপডেট

 
© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Developed by SolveEz