মানহানির অভিযোগে অভিনেত্রী তানজিন নাহার তিশার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ফ্যাশন ডিজাইনার সানায়া আনাম ওয়াফিকাহ চৌধুরী।
রোববার (৮ নভেম্বর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে তিনি এ মামলার আবেদন করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিন বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী শুভ্র সিনহা রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, বাদী এর আগে ঢাকার সিএমএম আদালত ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিনেত্রী তানজিন নাহার তিশার বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেন। বাদীর অভিযোগ, এসব মামলা দায়েরের পর প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে গত ২৭ অক্টোবর তিশা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ‘Tanjin Tisha’ থেকে বাদীকে নিয়ে বিভিন্ন আপত্তিকর ছবি ও ভুল তথ্য প্রকাশ করতে থাকেন। পাশাপাশি বাদী সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য গণমাধ্যমে ভুলভাবে উপস্থাপন করেন।
আরজিতে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর তানজিন তিশা ফেসবুক মেসেঞ্জারে বাদীকে কল করে তার ছবি প্রকাশ করে ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘ফেমাস হইলে বইলো, আমি তোমার ছবি আপলোড করে দিবো নে।’ ওই কথোপকথনের রেকর্ড বাদীর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, এর ধারাবাহিকতায় গত ২৭ অক্টোবর তিশা তার ফেসবুক পেজে বাদীর ছবি প্রকাশ করেন। এর মধ্যে একটি ছবিতে বাদীকে এক নারীকে চুম্বন করতে দেখা যায়। বাদীর দাবি, তার অনুমতি ছাড়াই ছবিটি প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া দুই শিশুর ছবিও প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে বাদীকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়া হয়। সেখানে দুই বোনের মধ্যে সম্পর্ক ও তাদের বিরুদ্ধে মামলার বিষয় নিয়েও মন্তব্য করা হয়।
আরজিতে বলা হয়েছে, গত ২৭ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে পল্লবীতে নিজের বাসায় অবস্থানকালে ফেসবুক ব্যবহারের সময় বাদী এসব ছবি ও বক্তব্য দেখতে পান। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমেও বিষয়গুলো প্রকাশিত হতে দেখেন তিনি।
এরপর বাদী তার আইনজীবীর মাধ্যমে গত ২৮ অক্টোবর রেজিস্ট্রি ডাকযোগে তানজিন তিশাকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। নোটিশে দুই দিনের মধ্যে আপত্তিকর ছবি ও বক্তব্য সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেগুলো সরানো হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।
মামলার আরজিতে আরও দাবি করা হয়েছে, তানজিন তিশা বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বাদী সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। বাদী তার জনপ্রিয়তা ব্যবহার করে ভাইরাল হওয়ার উদ্দেশ্যে মামলা করেছেন বলেও মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। বাদীর দাবি, তিনি একজন পরিচিত ফ্যাশন ডিজাইনার এবং দেশে-বিদেশে বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছেন।
বাদীর অনুমতি ছাড়া তার ও অন্য ব্যক্তিদের ছবি প্রকাশ, লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোর পরও সেগুলো সরিয়ে না নেওয়া এবং আরও ছবি প্রকাশের হুমকির অভিযোগ এনে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। এসব ঘটনায় তার সামাজিক মর্যাদা ও সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করেছেন বাদী।