আদালতে চিত্রনায়িকা পরীমনির খামচি-কাণ্ডের পর অসুস্থ বোধ করায় টিটেনাস ভ্যাকসিন নিয়েছেন সাংবাদিক মো. সিয়াম হোসেন। রোববার (৮ নভেম্বর) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে তিনি টিকা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ নেন।
এর আগে গত ৫ নভেম্বর ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে পরীমনির জামিনের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে তার হাতাহাতি ও হেনস্তার অভিযোগ ওঠে।
আহত সিয়াম হোসেন ‘আগামীর সময়’ পত্রিকার মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার। তিনি জানান, ঘটনার পর থেকেই তার শরীর কিছুটা খারাপ লাগছিল। বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর তার মা বারবার হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন। মায়ের পরামর্শে তিনি ঢাকা মেডিকেলে যান।
সিয়াম বলেন, ‘শরীরটা একটু খারাপ লাগছিল। যেদিন ঘটনা, সেদিন থেকেই আম্মু কল দিচ্ছিলেন। বেশি নিউজ হওয়ার কারণে আম্মু জানতে পেরেছেন। আম্মু বারবার বলছিলেন, টিকা নাও বা না নাও, গিয়ে চেকআপ করাও। হাসপাতালে আসার পর টিটেনাস ভ্যাকসিন ও কিছু ওষুধ দিয়েছে।’
মায়ের পরামর্শে ভ্যাকসিন নিয়ে রোববার সন্ধ্যায় ফেসবুক পোস্টে এ সাংবাদিক লেখেন, ‘আম্মুর জন্য আমার ভ্যাকসিন নিতেই হলো।’
উল্লেখ্য, গত ৫ নভেম্বর আদালত থেকে বের হওয়ার সময় পরীমনির সঙ্গে সাংবাদিকদের বাগ্বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
উপস্থিত সাংবাদিকদের অভিযোগ, লিফটে ওঠার সময় ভিড়ের মধ্যে উত্তেজিত হয়ে সামনে থাকা এক সাংবাদিকের শার্টের কলার ধরে তার গলা ও ঘাড়ে খামচি দেন পরীমনি। এ সময় তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীরাও সাংবাদিকদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও মারধরে জড়ান বলে অভিযোগ ওঠে।
ভিড়ের মধ্যে এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করার অভিযোগ তোলেন পরীমনি। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন বলেও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ।
এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং পরীমনিকে বয়কটের দাবিতে চট্টগ্রামে একদল সাংবাদিক তার ছবিতে জুতা নিক্ষেপ করে কর্মসূচি পালন করেন।
এ ছাড়া ‘সমকাল’-এর প্রতিবেদক রবিউল হোসেনসহ কয়েকজন সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগও ওঠে। এ ঘটনায় সেদিন আহত কয়েকজন সাংবাদিক প্রাথমিক চিকিৎসাও নেন।