‘আমি এই দেশে আর নাই’, দেশ ছাড়ার দাবি শিশুটির বাবা রুমির
ঠিকানা অনলাইন
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২০
•
অনলাইন সংস্করণ
গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসার এক শিক্ষককের বিরুদ্ধে সাত বছর বয়সী শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এবং পরবর্তী সময়ে পাল্টাপাল্টি মামলার ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। আলোচিত এই ঘটনার মধ্যে শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি দাবি করেছেন, তিনি দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। সোমবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক খুদেবার্তায় তিনি এ তথ্য জানান। তবে তিনি বর্তমানে কোন দেশে অবস্থান করছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে গণমাধ্যমে পাঠানো খুদেবার্তায় শাহজালাল রুমি লেখেন, ‘আমি এই দেশে আর নাই। এগুলা নিয়ে আর ভাবছি না, যা হয় হোক, আপনারা ভালো থাকেন।’
একই বার্তায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগও তোলেন তিনি। রুমি লেখেন, ‘একজন আলেম হয়েও তিনি অনেক মিথ্যা বলেছেন এবং এখনো বলে যাচ্ছেন।’
ঘটনার সূত্রপাত গত ২১ অক্টোবর। টঙ্গীর মধ্য আউচপাড়া এলাকার ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট মাদ্রাসার শিক্ষক ও উপাধ্যক্ষ মোসলেম উদ্দিনের বিরুদ্ধে সাত বছর বয়সী ওই শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানার পর ক্ষুব্ধ হয়ে শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করেন।
খবর পেয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষক মোসলেম উদ্দিনকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। পরে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় মোসলেম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
এরপর শিক্ষককে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। যৌন নিপীড়নের অভিযোগের পাশাপাশি অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধরের ঘটনাও বিতর্কের জন্ম দেয়।
এদিকে মোসলেম উদ্দিন কারাগারে যাওয়ার পর মাদ্রাসার অধ্যক্ষের পক্ষ থেকে শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমির বিরুদ্ধে টঙ্গী পশ্চিম থানায় পাল্টা মামলা করা হয়। ওই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে মাদ্রাসায় অনধিকার প্রবেশ, ভাঙচুর এবং ১৭ লাখ টাকা চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে।
পাল্টা মামলা দায়েরের পর থেকেই জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছিল না শাহজালাল রুমিকে। এ অবস্থায় তাঁর অবস্থান নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। এর মধ্যেই সোমবার রাতে গণমাধ্যমে খুদেবার্তা পাঠিয়ে তিনি দেশ ছেড়ে যাওয়ার দাবি করেন।
তবে রুমি সত্যিই দেশ ছেড়েছেন কি না, কিংবা ছেড়ে থাকলে বর্তমানে কোন দেশে অবস্থান করছেন, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তাঁর দেশত্যাগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো দায়িত্বশীল সূত্র থেকেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
শিশুটির ওপর যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধরের ঘটনা এবং পরবর্তী পাল্টা মামলাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে রুমির দেশ ছাড়ার দাবি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা ও মামলাগুলোর অগ্রগতি নির্ধারণে তদন্ত এবং আইনগত প্রক্রিয়ার ফলাফলই হবে গুরুত্বপূর্ণ।