বিশ্বকাপ ফুটবলে আর্জেন্টিনাকে ন্যাংটা করেছে স্পেন। নিশ্চিত বিজয়কে পরাজয়ের গ্লানিতে ডুবিয়েছে। ম্যাচ জিতে সোয়া ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার ঘরে তুলেছে। ‘ফুটবলের ঈশ্বর’ মেসিকে শেষ দিনে কাঁদিয়েছে। মিডিয়া বলছে, মানুষ কখনও ঈশ্বর নয়। সেই সত্যটিই নিউ জার্সির সবুজ মাঠ প্রমাণ করলো। বাংলাদেশের পলাতকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও উল্টো আক্রমণে। আশ্রয়দাতা দেশ ভারত দিচ্ছে নতুন চাল। একদা শেখ হাসিনা ছিলেন ‘সম্পদ’। ধীরে ধীরে ‘বঙ্গকন্যা’ হয়ে উঠছেন ‘দায়’।
ভারতের কৌশলে নতুন ঘোষণা দেন শেখ হাসিনা। বলেন ডিসেম্বরেই সদলবলে দেশে ফিরবেন। তিনি আওয়ামী লীগের দেশান্তরী নেতা-কর্মীদেরও ফিরতে বলেন। পরে বুঝতে পারেন ঘোষণাটি বুমেরাং হয়েছে। কারণ ফাঁসির আসামীর প্রত্যাবর্তন সহজতর নয়। তাছাড়া ভারতের সঙ্গে আছে বাংলাদেশের বন্দিবিনিময় চুক্তি। রাষ্ট্রীয়ভাবে সেভাবে ফিরলে শেষ ঠিকানা হবে কারাগার।
ফাঁসির রায় চ্যালেঞ্জ করে
রিট পেশের তারিখও শেষ
আমি কিছু জানতাম না বলেও আবেদনের সুযোগ নেই। কারণ শেখ হাসিনা ফাঁসির আদেশ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। ফলে আইনি সুরক্ষার পথগুলো মূলত ইতি টেনেছে। এমন নাজুক পরিস্থিতিতে তিনি ফিরতে চেয়েছেন। এমন ঘোষণার নেপথ্যে রয়েছে ভিন্ন পটভূমি।
আওয়ামী লীগের বিশাল সংখ্যক নেতা-কর্মী ভারতে আশ্রয়রত। মোদী সরকার তাদের ফেরত পাঠাতে চায়। কিন্তু কি প্রক্রিয়ায়, তা নিয়েই মহাকৌশল। ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের নাটুকে ঘোষণা। ফলে আবেগ-প্রধান পলাতক নেতা-কর্মীরা ফেরার প্রস্তুতিতে সোচ্চার।
ভারতের নতুন ঘোষণায় কপাল পুড়েছে শেখ হাসিনার। পলায়ন পরিস্থিতির গোপন তথ্য ফাঁস করে দিয়েছে। জাতীয় সংসদ বা লোকসভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয় শংকরের অভিভাষণ। বললেন, ২০২৪-এর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা নিজেই ফোন দেন। আমার কাছে কিছুদিনের জন্যে আশ্রয় প্রার্থনা করেন। সে মতে আমরা ওনার আকাঙ্খাকে গুরুত্ব দেই।
এই একটি বক্তব্যই অসংখ্য বিতর্কের সমাধানসূচক। শেখ হাসিনা বলতেন তিনি গোপালগঞ্জ যাচ্ছিলেন। প্লেন কেনো দিল্লি গেলো তিনি বুঝতে পারেন না। সমমনাদের কারো মতে তিনি পালাননি। আর্মিরা নিজেরা ভারতের হিন্দন বিমানবন্দরে রেখে এসেছে।
সমমনাদের মতে, তিনি এখনও প্রধানমন্ত্রী। কারণ উনি কোথায়ও পদত্যাগপত্র জমা দেননি। কিন্তু ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লোকসভায় দিলেন উল্টো বয়ান। রহস্যজনক কারণে ন্যাংটা করলেন শেখ হাসিনার ভাবমূর্তি!
‘সিজেপি’ ন্যাংটা করছে বিজেপি’কে
এনসিপি ন্যাংটা করছে বিএনপি’কে
বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানে অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরমে। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে বিশাল আন্দোলন দুই দেশে। বাংলাদেশের এহসানুল হক মিলন জেনজি’র রোষানলের শিকার। প্রবল বর্ষায় পরীক্ষা গ্রহণে বিড়ম্বনায় পরীক্ষার্থীরা। তাদের আবার ‘ফার্মের মুরগি’ আখ্যা দেয়া। ফলে, সাবেক সফল মন্ত্রী মিলন চরম বিতর্কে। তরুণদের মিলনবিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে ওঠে। বহু কষ্টে তারেক সরকার পরিস্থিতি সামাল দেয়। তবে সরকারের পতন ঠেকাতে গ্রহণ করে কৌশল। দ্রুত সমমনা দলগুলোকে নিয়ে সভা করে। নৈশভোজে দাওয়াত করে সবার সহযোগিতা চেয়ে বসে। মৈত্রীশক্তির ঐক্য দেখে বিরোধীরা আপাতত চুপ।
না, জুলাই যোদ্ধাদের দল ‘এনসিপি’ নীরব নয়। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করায় গড়ছে মহা-আন্দোলন। জেলায় জেলায় শুরু করেছে জোরালো পথসভা। বিএনপি ও সরকারকে ন্যাংটা করার সরব প্রক্রিয়া। ‘আক্রমণ সম্রাট’ নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীর তীব্র ভাষণ। তারকা বক্তা সারজিস আলমের নাটকীয় কণ্ঠস্বর। সীমান্ত এলাকা তেঁতুলিয়া থেকে সভার শুরু। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে জোরালো কর্মসূচি। প্রধান ভাষ্য ‘তিস্তা মহাপ্রকল্প’ বাস্তবায়নে সরকার ব্যর্থ। মহাচীনকে সম্পৃক্ত করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ।
ভারতে ‘ককরোচ জাতীয় পার্টি’ বা সিজেপি সক্রিয়। দিল্লির ‘যন্তর মন্তর’ থেকে সংসদ ভবন ঘেরাও। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে লাখো তরুণের মহা-আন্দোলন। উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী মোদির সংসদ ত্যাগ। মিছিলে গুলিবর্ষণ, ব্যাপক মারধর। অনেকের মতে, সরকার পতনের ‘গ্রিন সিগন্যাল’ স্পষ্ট। পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে চলছে স্বাধীনতার আন্দোলন। সেখানে ‘একাত্তরের মুজিবরকে’ স্মরণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ যেভাবে স্বাধীনতা পেয়েছে, সেভাবে আজাদী চায়। পাকিস্তান সরকার কাশ্মীর রক্ষা নিয়ে চরমভাবে তটস্থ।
তাদের অভিযোগ, আন্দোলনে ভারত মদদ দিচ্ছে। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল বা ন্যাংটা করতে বদ্ধপরিকর। দেশে আন্দোলন দেখলেই ড. ইউনূস সরকার বৈঠক ডাকতেন। প্রধান দলগুলোকে ডেকে পরিস্থিতি অবহিত করতেন। অন্তর্বর্তী সরকার হিসেবে অসহায়ত্বও প্রকাশ করতেন। অতঃপর পারস্পরিক সৌহার্দ্যরে মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দিতেন। একই স্টাইল এখন তারেক সরকারের হাতে। ঐক্যমতের ভিত্তিতে এগিয়ে চলার কৌশল নিয়েছেন। তা সাময়িক ফল দিচ্ছে বলে সচেতন মহলের অভিমত।