মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

আশুলিয়ায় শতাধিক কারখানায় ছুটি, ৫০ পুলিশ সদস্য আহত

আশুলিয়ায় শতাধিক কারখানায় ছুটি, ৫০ পুলিশ সদস্য আহত

ছবি সংগৃহীত

বিজ্ঞাপন
সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনায় এ পর্যন্ত পুলিশের প্রায় ৫০ জন সদস্য আহত হয়েছেন। বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের কারণে ০৩ নভেম্বর (মঙ্গলবার) দুপুর পর্যন্ত শতাধিক পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

৩ নভেম্বর (মঙ্গলবার) দুপুরে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে দেওয়ান পাম্পের পাশে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান শিল্প পুলিশ-১ এর এসপি মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া। তিনি জানান, শিল্পাঞ্চলের অধিকাংশ কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চলছে।

আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া। বলেন, সাধারণ শ্রমিকেরা কাজে থাকতে চান।

কিন্তু বহিরাগত কিছু লোকের ইন্ধনে একটি পক্ষ প্রতিদিন সকালে কাজে যোগ দিতে আসা শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে কারখানা থেকে বের করে আনার চেষ্টা করছে।

শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিল্প পুলিশ তৎপর রয়েছে জানিয়ে এসপি বলেন, শ্রমিকরা যাতে নিরাপদে কাজ করতে পারেন, সে জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তার কারণে কিছু কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে পুলিশ বল প্রয়োগ করছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা সঠিক নয়।

শিল্প পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা আদায়ের বিষয়েও পুলিশ তাদের পাশে থেকে কাজ করে। এক মালিক শ্রমিকদের চার মাসের বেতন না দিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। পরে তাকে আটক করে আশুলিয়া থানার মাধ্যমে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ জন্য শ্রমিকেরা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা শুধু শ্রমিকদের সুষ্ঠুভাবে কাজের পরিবেশ বজায় রাখার জন্য দায়িত্ব পালন করছি।

কিন্তু কিছু লোকের ইন্ধনে শ্রমিকদের একটি অংশ কারখানা থেকে বেরিয়ে এসে পুলিশের ওপর এবং অন্য কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষার্থে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা তাদের ছত্রভঙ্গ করি। আমরা কোনোভাবেই শ্রমিকদের প্রতিপক্ষ নই।'
সরকার ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও শিল্প পুলিশ শ্রমিকদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে কাজ করবে বলে জানান তিনি।

কারখানা বন্ধের বিষয়ে এসপি জানান, তার আওতাধীন আট শতাধিক কারখানার মধ্যে শতাধিক কারখানা বন্ধ রয়েছে। নরসিংহপুর, নিশ্চিন্তপুর ও জিরাবো এলাকার কিছু কারখানা ছাড়া সাভারের অন্যান্য এলাকার অধিকাংশ কারখানায় কাজ চলছে। কিছু কারখানায় সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

দুপুরের পর কয়েকজন মালিক ফোন করে কারখানা চালু করতে চান এবং নিরাপত্তা চান বলে জানান পুলিশ সুপার। বলেন, পুলিশ নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কারখানা খুলে কাজ শুরু করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার বিষয়ে মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, এ পর্যন্ত তাদের প্রায় ৫০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার আহত হন প্রায় ২০ জন। আজ একজন পুলিশ সদস্যের মাথায় ইটের আঘাত লেগেছে। তার মাথায় চারটি সেলাই দিতে হয়েছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঠিকানা/এএস 

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Developed by SolveEz