যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর। ব্যক্তিগত জীবন ও বিয়ে নিয়ে তার পুরনো বিতর্ক এখন নতুন করে সামনে এসেছে।
২০০৯ সালের তার একটি বিয়ে নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিজের ভাই বলে সন্দেহ করা এক ব্যক্তিকে গ্রিন কার্ড পেতে সহায়তা করতে তিনি ভুয়া বিয়ের আশ্রয় নিয়েছিলেন কি না। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।
কর্মকর্তারা জানান, ২০১৬ সালের গ্রীষ্মে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনের সময় এফবিআই ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বিয়েটি নিয়ে তদন্ত করেছিল। সে সময় বিয়েতে জালিয়াতির কিছু প্রমাণও পাওয়া যায়। তবে সম্ভাব্য অপরাধটি গুরুতর অপরাধের (ফেলনি) আওতায় পড়লেও এর জন্য নির্ধারিত পাঁচ বছরের তামাদি মেয়াদ পার হয়ে যাওয়ায় মামলাটি আর এগোয়নি।
মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে ভাইকে বিয়ে করে অভিবাসন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ এক দশকের বেশি সময় ধরে আলোচনায় রয়েছে। গত সপ্তাহেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একই অভিযোগ পুনরায় তুলেছেন।
তবে ওমর বরাবরই এ অভিযোগকে ডানপন্থীদের ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। তার দাবি, ২০১৬ সালে প্রথমবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময়ই কেন্দ্রীয় কর্মকর্তারা এ অভিযোগ খণ্ডন করেছিলেন।
বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন আবারও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। সোমালিয়ার যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতি থেকে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর ইলহান ওমর ও তার পরিবারের সদস্যদের অভিবাসনপ্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তৃত তদন্তের অংশ হিসেবে এ অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ইলহান ও হিরসির ২০০২ সালে একটি ইসলামি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিয়ে হয়। তাদের দুটি সন্তান থাকার সময় ২০০৯ সালে তারা আলাদা হয়ে যান। একই বছর ইলহান ব্রিটিশ নাগরিক এলমিকে আইনগতভাবে বিয়ে করেন। ওই বিয়ে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বহাল ছিল। তবে এলমিকে বিয়ে করার উদ্দেশ্য নিয়ে বহু বছর ধরে বিতর্ক রয়েছে।
হিরসির এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলেন, এলমি মিনেসোটায় আসার পর সোমালি সম্প্রদায়ের মধ্যে তাকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তার পোশাক-পরিচ্ছদ ও চলাফেরা নিয়ে অনেকে কথা বলতেন বলেও দাবি করেন ওই ব্যক্তি।
নিজের পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, এলমির পোশাক দেখে তিনি হিরসির কাছে বিষয়টি জানতে চেয়েছিলেন। তখন হিরসি তাকে বলেছিলেন, এলমি তার স্ত্রীর ভাই এবং লন্ডন থেকে এসেছেন। এলমিকে সেখানে নিয়ে আসায় ইলহান পুরো সম্প্রদায়কে বিব্রত করেছেন বলেও হিরসি মন্তব্য করেছিলেন বলে দাবি করেন ওই বন্ধু।
ওই ব্যক্তির ভাষ্য, মিনিয়াপোলিসের সোমালি সম্প্রদায়ের অনেকে এলমির পরিচয় জানার চেষ্টা করেছিলেন। পরে তারা জানতে পারেন, এলমি নুর সাঈদ এলমির ছেলে এবং ইলহান ওমরের ভাই বলে পরিচিত।
হিরসির ওই বন্ধু আরও দাবি করেন, এলমিকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে থাকার কাগজপত্র পেতে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে ইলহান তাকে আইনগতভাবে বিয়ে করেছিলেন বলে হিরসি অভিযোগ করতেন।
তার দাবি, এলমিকে নিয়ে ইলহান ও হিরসির মধ্যে প্রায়ই তর্ক হতো। এমনকি জনসম্মুখেও তাদের চিৎকার করে কথা বলতে দেখেছেন তিনি। এলমি ২০১২ সালের দিকে মিনেসোটা ছেড়ে চলে গেলে হিরসি স্বস্তি পেয়েছিলেন বলেও দাবি করেন ওই ব্যক্তি।
এর আগে ১৯৯৫ সালে সোমালিয়া থেকে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন ইলহান ওমর। তার প্রথম স্বামী হিরসির সঙ্গে ২০০২ সালে বিয়ের আবেদন করা হলেও ইলহান পরে বলেছিলেন, আবেদনটি চূড়ান্ত করা হয়নি এবং তাদের আইনগত বিয়েও হয়নি।
ইলহানের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয় এবং প্রায় চার বছর পর তারা আবার একত্র হন। ২০১৮ সালে তারা আইনগতভাবে বিয়ে করেন।
অন্যদিকে এলমির সঙ্গে ইলহানের আইনগত বিয়ে ছিল ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত। ইলহানের দাবি, এলমির সঙ্গে তাদের বিচ্ছেদ হয় ২০১১ সালে, তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের প্রক্রিয়া শেষ করতে আরও কয়েক বছর লেগেছিল।
ইলহান ও হিরসি ২০১৪ ও ২০১৫ সালে যৌথভাবে করসংক্রান্ত নথি জমা দিয়েছিলেন, যখন ইলহানের সঙ্গে এলমির আইনগত বিয়ে বহাল ছিল। পরে ওই নথিগুলো সংশোধন করা হয়।
ইলহান ও হিরসি শেষ পর্যন্ত ২০১৯ সালে আলাদা হয়ে যান। বর্তমানে ইলহান তার সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা টিম মাইনেটকে বিয়ে করেছেন।
এলমি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাওয়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকায় কিছু সময় কাটান এবং পরে যুক্তরাজ্যে ফিরে যান। বর্তমানে তিনি ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত। ২০২৩ সাল থেকে সেখানে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের কাজ করেছেন এবং গবেষণা সহকারী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তার গবেষণার আগ্রহের মধ্যে রয়েছে কুইয়ার গবেষণা, উপনিবেশমুক্তকরণ এবং লিঙ্গবিষয়ক গবেষণা।