জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের একাশিতম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক থাকলে ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার তিনি নিউইয়র্কে পৌঁছবেন। এরপর তাঁর সান ফ্রান্সিসকো যাওয়ারও কথা রয়েছে, যেখানে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর নয় দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রস্তুতি চলার কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। কাজ চলছে তার সফরসঙ্গীদের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা সংগ্রহের।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে পাঠানো একটি নোট ভার্বালে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারপ্রধান হিসাবে প্রথমবারের মত জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া, সাধারণ অধিবেশনের সাইডলাইনে বিভিন্ন আয়োজনেও যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে সরকারপ্রধানের।
সানফ্রান্সিসকোতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভাতেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
এমন এক সময়ে জাতিসংঘে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী, যখন সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার কথা এর আগে জানিয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর ভারতে যাওয়ার আলোচনা চললেও বিষয়টি পরে আর এগোয়নি। তার প্রেস সচিব সালেহ শিবলী শুক্রবার রয়টার্সকে বলেছেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বিদেশ সফরে গত জুনের তৃতীয় সপ্তাহে মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন তারেক রহমান। এ হিসাবে যুক্তরাষ্ট্র হতে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর তৃতীয় কোনো দেশ সফর।
দুই সপ্তাহের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি : জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরকে কেন্দ্র করে সেপ্টেম্বরে দুই সপ্তাহের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে এবং তার নিউইয়র্ক অবস্থানকালে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের লক্ষ্যে বিএনপি অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন গুলোর পক্ষ থেকে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
গত ২৪ আগস্ট সোমবার অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি সাবেক নেতৃবৃন্দ, নিউইয়র্ক স্টেট, নিউইয়র্ক মহানগর উওর-দক্ষিণ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের এক যৌথ ভার্চুয়াল সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর ঘিরে বিস্তারিত কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা এবং নেতৃবৃন্দের মধ্যে বিভিন্ন দায়িত্ব বণ্টন করা হয়।
বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও উত্তর আমেরিকা সমন্বয়ক আনোয়ার হোসেন খোকনের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল লতিফ সম্রাট, জিল্লুর রহমান জিল্লু, গিয়াস আহমদ ও মিজানুর রহমান ভূঁইয়া মিল্টন,শরাফত হোসেন বাবু, সোলেমান ভুইয়া,নেয়াজ আহমেদ জুয়েল, জামাল আহমেদ জনি, আনোয়ার হোসেন, মনজুর চৌধুরী, আনোয়ারুল ইসলাম আনোয়ার, গিয়াস উদ্দিন, আক্তারুজ্জামান বাদল, মোশাররফ হোসেন সবুজ, কাজী আজম, ফিরোজ আহমেদ, জসিম ভুইয়া , মুশফিকুর রহমান খসরু, আব্দুস সবুর, সাইদুল হক, সালেহ আহমেদ মানিক, শফিকুর রহমান দুলাল, গোলাম ফারুক শাহিন, মাজহারুল ইসলাম মিরু, মো: মহসিন, মো: শাহজাহান প্রমুখ। সভায় আরও বক্তব্য দেন নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সভাপতি মাওলানা অলি উল্লাহ আতিকুর রহমান, নিউইয়র্ক মহানগর (দক্ষিণ) বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা, নিউইয়র্ক মহানগর (উত্তর) বিএনপির সভাপতি আহবাব চৌধুরী, নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান সাইদ এবং নিউইয়র্ক মহানগর (দক্ষিণ) বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম।
জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আবু সাইদ আহমদ, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক মকসুদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাইফুর খান হারুন, খোরশেদ আলম, জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক সভাপতি জাকির এইচ চৌধুরী, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের আহ্বায়ক বাবর উদ্দিন, জাসাসের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সায়েম এবং সদস্য সচিব মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর সরোয়ার্দী প্রমুখ সভায় বক্তব্য রাখেন।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, প্রধানমন্ত্রী যতদিন নিউইয়র্কে অবস্থান করবেন, ততদিন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন গুলোর নেতাকর্মীরা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সক্রিয় থাকবেন। এর অংশ হিসেবে ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ ভবনের সামনে সুশৃঙ্খলভাবে বৃহৎ শান্তি সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সমাবেশে ব্যাপক লোকসমাগম নিশ্চিত করতে নিউইয়র্ক স্টেট ও নিউইয়র্ক মহানগর উওর-দক্ষিণ বরোতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠগুলোর পক্ষ থেকে জনসংযোগ চালানো হবে। এ লক্ষ্যে নেতৃবৃন্দের মধ্যে বিভিন্ন এলাকার দায়িত্বও বণ্টন করা হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।
প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক অবস্থানকালের পুরো সময় জুড়ে স্বাগত কর্মসূচি, শান্তি সমাবেশ, জনসংযোগসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো। সভায় আগামী ৩০ আগস্ট উত্তর আমেরিকা সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে চুড়ান্ত কর্মসুচি ঘোষণা করা হবে।