Thikana News
০৫ মার্চ ২০২৪
  1. ই-পেপার
  2. চলতি সংখ্যা
  3. বিশেষ সংখ্যা
  4. প্রধান সংবাদ
  5. আমেরিকার অন্দরে
  6. বিশ্বচরাচর
আমেরিকা মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪

তাৎপর্যমণ্ডিত লাইলাতুল মিরাজ বা সশরীরে ঊর্ধ্বগমন রজনী

তাৎপর্যমণ্ডিত লাইলাতুল মিরাজ বা সশরীরে ঊর্ধ্বগমন রজনী
জগদ্বাসীর অজানা নয় যে আখেরি নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মাতৃগর্ভে থাকাবস্থায় তাঁর পিতা আবদুল্লাহ ইহলোক ত্যাগ করেছিলেন। তাই অপরাপর শিশু-কিশোরের মতো পিতার হাত ধরে মক্কা ও তৎসংলগ্ন অলিগলিতে আলুথালু পায়ে চলাফেরার সৌভাগ্য শিশু মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহর হয়নি। ফলে শিশু মুহাম্মদের (সা.) স্নেহবৎসল জননী বিবি আমিনার অন্তরে একটি অতৃপ্তির লু হাওয়া বয়ে যেত। বিশ্বপ্রতিপালক আল্লাহ তায়ালা অকাল-বিধবা বিবি আমিনার মর্মপীড়া হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করেছিলেন। তাই সৃষ্টিজগতের মধ্যে একমাত্র সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদকে (সা.) পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালা ইসরা ও মিরাজের মাধ্যমে সমগ্র সৃষ্টিজগৎ, বেহেশত-দোজখ-আরসে আজিম সশরীরে পরিভ্রমণ করিয়ে লোকান্তরিত বিবি আমিনার অতৃপ্ত হাহাকার নিবৃত্ত করেছিলেন। অপর সৃষ্টিকুলের ক্ষেত্রে মিরাজ বা সশরীরে ঊর্ধ্বগমনের দ্বিতীয় নজির বিশ্বমানবের ইতিহাসে খুঁজে পাওয়া যাবে না। বস্তুত সৃষ্টিজগতের জন্য দয়াময় স্রষ্টার অবিনশ্বর জীবনবিধান পবিত্র আল কোরআনের পঞ্চদশ অধ্যায়ে সুরা বনি ইসরাইলের শুরুতে ইসরা (নৈশ ভ্রমণ) ও মিরাজ প্রসঙ্গে বর্ণিত হয়েছে। ইসরা ও মিরাজ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে : ওই সত্ত্বা (আল্লাহ) পবিত্র, যিনি স্বীয় বান্দাকে (মুহাম্মদ সা.) রাতারাতি মসজিদে হারাম (পবিত্র কাবাগৃহ) থেকে মসজিদে আকসা (বাইতুল মুকাদ্দাস) পর্যন্ত নিয়ে গেলেন। এর চারপাশ (সিরিয়া) নানাভাবে বরকতময় করে রেখেছি; উদ্দেশ্য আমি তাঁকে (মুহাম্মদ সা.) আমার কুদরতের বিস্ময়কর কিছু নিদর্শন প্রদর্শন করাব।
পবিত্র হাদিসে বলা হয়েছে, বাইতুল মুকাদ্দাস নির্মাণ করেছিলেন হজরত সুলাইমান (আ.)। অসংখ্য নবী-রাসুল বাইতুল মুকাদ্দাস-সংলগ্ন এলাকায় সমাহিত রয়েছেন, যাকে ধর্মীয় দৃষ্টিতে এবং তৎসংলগ্ন দিগন্তবিস্তৃত এলাকার ফল উৎপাদক অসংখ্য বৃক্ষরাজি, রাশি রাশি নহর এবং শস্যক্ষেত্রকে পার্থিব দৃষ্টিতে বরকতময় বলা হয়েছে। আবার নেহাত স্বল্প সময় বা মাঝরাত থেকে সুবহে সাদিকের পূর্বমুহূর্তের মধ্যবর্তী সময়ে পবিত্র মক্কা থেকে বাইতুল মুকাদ্দাস ভ্রমণ; বিভিন্ন স্থানে বিরতি শেষে সালাত আদায়; বাইতুল মুকাদ্দাসে ১ লাখ ৪০ হাজার বা ততোধিক নবী-রাসুলের অংশগ্রহণে নামাজে ইমামতি ও আলোচনা করেন মুহাম্মদ (সা.)। অতঃপর বিশেষ যানবাহনে সশরীরের ঊর্ধ্বাকাশ গমন, বিভিন্ন আকাশে নবী-রাসুলদের সঙ্গে সালাম বিনিময় ও আলোচনা; সবশেষে আরশে আজিমে বিশ্বপ্রতিপালকের আতিথ্য গ্রহণ ও ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্য লাভ; দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ এবং রমজান মাসের ফরজ রোজার আদেশ লাভ, স্বচোখে বেহেশত-দোজখ অবলোকন ইত্যাদি কর্মকাণ্ডকে এককথায় মহান আল্লাহর কুদরতের বিস্ময়কর নিদর্শন বলা হয়েছে।
ইসলামি ইতিহাসের বর্ণনা অনুসারে, নির্জন হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন অবস্থায় বিশ্বপ্রতিপালকের পক্ষ থেকে ৪০ বছর ৬ মাস বয়সে মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ নবুয়ত লাভ করেন এবং পরবর্তী সময়ে ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে অমানুষিক নির্যাতন ও ত্যাগ স্বীকার করেন। সেই চরম অন্ধকারাচ্ছন্ন বা আইয়্যামে জাহেলিয়াত যুগের যুদ্ধলিপ্সু ও প্রতিষ্ঠিত পৌত্তলিক গোত্রপতিদের রক্তচক্ষুর শাসানি উপেক্ষা করে সর্বশ্রেষ্ঠ নবী-রাসুল মুহাম্মদ (সা.) ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে একাধিবার মুমূর্ষু দশায় উপনীত হন। বিশ্বপ্রতিপালকের একত্ববাদ প্রতিষ্ঠিত হলে ও মূর্তিপূজার মূলোচ্ছেদ ঘটলে পৌত্তলিকদের স্থায়ী আয়ের উৎস চিরতের নস্যাৎ হয়ে যাবে, তা ব্যভিচারী আরব গোত্রপতিরা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করেছিল। অনবদ্য কারণে মুহাম্মদের (সা.) আপন চাচা লব্ধপ্রতিষ্ঠ গোত্রপতি আবু জাহেল, আবু লাহাব প্রমুখ ইসলাম প্রচারের পথে পাহাড়সম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করল। সেই বাধার বিন্দাচল মাড়িয়ে এবং যাবতীয় অত্যাচার নির্বিবাদে সহ্য করে মহানবী (সা.) অহর্নিশ ইসলাম প্রচার করেন। তাঁর সহধর্মিণী হজরত খাদিজা (রা.), চাচা আবু তালিব, হজরত আবু বকর (রা.) সহ নবদীক্ষিত মুসলমানগণ যাবতীয় প্রতিকূল পরিস্থিতিতে জীবনঝুঁকি নিয়ে মহানবীর (সা.) পাশে প্রতিরক্ষাব্যূহ তৈরি করতেন। নবুয়ত লাভের দ্বাদশ বর্ষে প্রিয়তমা পত্নী হজরত খাদিজা (রা.) এবং চাচা আবু তালিবের মৃত্যুর পর আখেরি নবী-রাসুল মুহাম্মদ (সা.) অনেকটা মুষড়ে পড়েন। এ বছর তায়েফে ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে পৌত্তলিকদের লেলিয়ে দেওয়া কিশোরদের প্রস্তরাঘাতে মুহাম্মদ (সা.) এর জীবনপ্রদীপ প্রায় নির্বাপিত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। সুন্নি মতাবলম্বীদের ধারণামতে, রহমাতুল্লিল আলামিন মহানবী (সা.) জীবনের সেই বর্ণনাতীত চরম বিপর্যস্ত মুহূর্তেই নবুয়ত লাভের দ্বাদশ বর্ষে ২৭ রজব রাতে দুটি ধাপে পবিত্র মিরাজ সংঘটিত হয়েছিল।
ভ্রমণের প্রথম ধাপ : পাশ্চাত্যের দিনপঞ্জি অনুসারে ৬২১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে আখেরি নবী মুহাম্মদ (সা.) উম্মে হানির (রা.) গৃহে শায়িত ছিলেন। মাঝরাতের ক্ষণিক পূর্বে হজরত জিবরাইল (আ.) সশরীরে গৃহে প্রবেশ করলেন এবং প্রিয় নবীজিকে (সা.) কাবাগৃহের গোলাকার স্থান বা হিজরে নিয়ে গেলেন। সেখানে ক্ষুরধার ছোরার সাহায্যে জিবরাইল (আ.) আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদের (সা.) বক্ষদেশ বিদীর্ণ করলেন এবং দেহাভ্যন্তরের হৃৎপিণ্ডসহ নাড়িভুঁড়ি বের করে আনেন। হজরত জিবরাইল (আ.) স্বয়ং নাড়িভুঁড়ি পবিত্র জমজমের বারিতে ভালোভাবে ধৌত করলেন এবং পুনরায় সবকিছু মুহাম্মদের (সা.) বক্ষের অভ্যন্তরে যথাস্থানে স্থাপন করে বক্ষদেশ সেলাই করে দেন। মহানবীর (সা.) বর্ণনা অনুসারে, হজরত জিবরাইল (আ.) সোনালি একটি ট্রেতে আনা জ্ঞান-প্রজ্ঞা এবং বিশ্বাসও আখেরি নবীর (সা.) বক্ষদেশে প্রবেশ করান। অতঃপর হজরত জিবরাইল (আ.) আখেরি নবী মুহাম্মদ (সা.) সমভিব্যাহারে বুরাক নামক একটি বিশেষ বাহনযোগে বাইতুল মুকাদ্দাসের উদ্দেশে যাত্রা করেন।
লক্ষণীয়, বুরাক আকারে গাধার চেয়ে সামান্য বড় এবং খচ্চর থেকে সামান্য ছোট এবং সেকেন্ডে আলোর গতি তথা ১ লাখ ৮৪ হাজার মাইলের চেয়ে অধিক দ্রুতগতিসম্পন্ন বিশেষ ধরনের বাহন। মক্কা থেকে বাইতুল মুকাদ্দাস যাত্রাকালে হজরত জিবরাইল (আ.) এবং নবীজি (সা.) সমেত বাহনটি চারটি স্থানে ক্ষণিকের জন্য থামে। এ পর্যায়ে জিবরাইলের (আ.) পরামর্শে প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) বাহন থেকে অবতরণ করেন এবং প্রতিটি স্থানে দুই রাকাত করে সালাত আদায় করেন। বাহনটি সর্বপ্রথম ইয়াসরিব বা মদিনায় থামল এবং জিবরাইলের (আ.) পরামর্শে মহানবী (সা.) সেখানে বুরাক থেকে অবতরণ শেষে দুই রাকাত সালাত আদায় করেন। হজরত জিবরাইল (আ.) ইঙ্গিতে মহানবীকে (সা.) পূর্বাভাস দেন, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বিশ্বপ্রতিপালকের হুকুমে মুহাম্মদকে (সা.) স্বীয় মাতৃভূমি মক্কা ত্যাগ করতে এবং ইয়াসরিবে স্থায়ীভাবে বসতি গড়তে হবে। মুহাম্মদের (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত এর বাস্তব নিদর্শন। বুরাকের দ্বিতীয় দফা যাত্রাবিরতি এবং মুহাম্মদকে (সা.) বুরাক থেকে অবতরণ ও দুই রাকাত সালাত আদায় করতে হয় সিনাই পর্বতে। এই পর্বতেই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বনি ইসরাইলের নবী হজরত মুসার (সা.) ওপর তওরাত নাজিল হয়েছিল।
আখেরি নবী মুহাম্মদকে (সা.) তৃতীয় দফা যাত্রাবিরতি এবং দুই রাকাত সালাত আদায় করতে হয়েছিল বেথলেহামে, যেখানে মরিয়মপুত্র হজরত ঈসা (আ.) জন্মগ্রহণ করেছিলেন। চতুর্থ দফা যাত্রাবিরতি এবং দুই রাকাত সালাত আদায় করতে হয়েছিল মসজিদ আল-আকসার সন্নিকটবর্তী হজরত মুসার (আ.) (৯-এর পাতার পর)
কবরের পাশে। সেখানে হজরত মুসাকে (আ.) নিজ কবরের মধ্যে দাঁড়িয়ে সালাত আদায়রত দেখতে পান আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.)। এতে স্পষ্টই প্রতীয়মান হয়, নবী ও রাসুলগণ নিজ নিজ কবরের মাঝে জীবিত অবস্থায় রয়েছেন। অবশেষে মহানবী (সা.) আল-কুদস বা জেরুজালেমে পৌঁছান এবং বাইতুল মুকাদ্দাস বা মসজিদে আকসায় প্রবেশ করেন এবং ১ লাখ ২৪ হাজার মতান্তরে ততোধিক নবী-রাসুলের অংশগ্রহণে দুই রাকাত তাহিয়াতিল মসজিদ নামাজে ইমামতি করেন। বাইতুল মুকাদ্দাস মসজিদে প্রবেশের পূর্বে হজরত জিবরাইলের (আ.) পরামর্শে অঙ্গুলিসংকেতে একটি পাথরে দুটি ছিদ্র করেন হজরত মুহাম্মদ (সা.) এবং ছিদ্রযুক্ত পাথরের সঙ্গে বুরাককে বেঁধে রাখেন।
ভ্রমণের দ্বিতীয় ধাপ : সালাত শেষে আবার হজরত জিবরাইলের (আ.) সঙ্গে বুরাকযোগে সর্বশ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ (সা.) সপ্তম আসমান ও সিদরাতুল মুনতাহা গমন করেন। ঊর্ধ্বাকাশ গমনকালে প্রথম আসমানে জীবিত অবস্থায় আদি পিতা হজরত আদম (আ.), দ্বিতীয় আসমানে হজরত ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ.) ও হজরত ইয়াহিয়া (আ.), তৃতীয় আসমানে হজরত ইদ্রিস (আ.), চতুর্থ আসমানে হজরত ইউসুফ (আ.), পঞ্চম আসমানে হজরত হারুন (আ.), ষষ্ঠ আসমানে হজরত মুসা (আ.) এবং সপ্তম আসমানে হজরত ইবরাহিম (আ.) এর সঙ্গে পরিভ্রমণরত আখেরি নবী মুহাম্মদ (সা.) এর সাক্ষাৎ, সালাম ও কুশল বিনিময় হয়। সপ্তম আসমানে হজরত জিবরাইল (আ.) আখেরি নবী মুহাম্মদের (সা.) আপ্যায়নের জন্য এক গ্লাস মধু এবং এক গ্লাস দুধ আনয়ন করেন। আখেরি নবী (সা.) দুধ পান করায় হজরত জিবরাইল (আ.) আবেগ উদ্বেলিত কণ্ঠে বলে উঠলেন, ‘আপনার উম্মত বা অনুসারীরা হবেন ফিতরা বা প্রকৃতির অনুসারী। আর আপনি মধু পান করলে আপনার উম্মতগণ হতেন উন্মাদ বা পাগল।’ এরপর জিবরাইল (আ.) সমভিব্যাহারে আখেরি নবী (সা.) আস-সাখরাহ আল-মুশাররফ নামক অভিনব পাথরের দিকে এগিয়ে গেলেন। বর্তমানে ওই পাথরখণ্ড আল আকসার আল-হারাম আস-শারিফের রক মসজিদের পবিত্র গম্বুজের শোভা বর্ধন করছে। এরপর হজরত জিবরাইলের (আ.) সাহচর্যে মুহাম্মদ (সা.) বায়তুল মুকাদ্দাস এবং সিদরাতুল মুনতাহা গমন করেন। এখানেই হজরত জিবরাইলের (আ.) যাত্রার ইতি ঘটে এবং অবশিষ্ট গন্তব্যস্থল সর্বশ্রেষ্ঠ নবী-রাসুল মুহম্মদ (সা.) রফরফ নামক বিশেষ যানযোগে একাকী পাড়ি দিয়ে আরসে আজিমে পৌঁছান। সেখানে তাশাউদের মাধ্যমে মহান আল্লাহ এবং তার প্রিয় হাবিব পারস্পরিক সালাম বিনিময় করেন এবং সাইয়্যেদিল মুরসালিন মুহাম্মদ (সা.) বিশ্ববিধাতার সান্নিধ্য ও আতিথ্য লাভে ধন্য হন। অত্যন্ত প্রীতিঘন পরিবেশে দয়াময় আল্লাহ তায়ালা তাঁর হাবিবকে সাদর সম্ভাষণ জানান এবং পরস্পর সালাম বিনিময় করেন। যথারীতি কুশলাদি-সালাম বিনিময় শেষে করুণাময় আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রিয় হাবিবের উম্মতের জন্য প্রথমে দৈনিক ৫০ রাকাত এবং পরে পর্যায়ক্রমে ৫ রাকাত ফরজ সালাত এবং রমজান মাসের সাওম পুরস্কার হিসেবে মুহাম্মদ (সা.) কে উপহার দেন।
উল্লেখ্য, মহানবীর (সা.) উম্মতগণ বিধি মোতাবেক দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করলে পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালা তাদের আমলনামায় ৫০ ওয়াক্তের সওয়াব দানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আবার পবিত্র রমজানের সাওমের পুরস্কারও স্বহস্তে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। মহান আল্লাহর দিদার শেষে ফেরার পথে প্রিয় নবী (সা.) বেহেশত-দোজখ ভ্রমণ করেন এবং পাপীদের শাস্তিভোগের বর্ণনাতীত দৃশ্য স্বচক্ষে অবলোকনের পর নিজ পথভ্রান্ত উম্মতদের দুর্ভোগের কথা ভেবে অশ্রুপাত শুরু করেন। সাক্ষাৎ পাপাচারের বধ্যভূমি বর্তমান বিশ্বে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানই শয়তানের প্ররোচনায় কিংবা নানা খোঁড়া যুক্তিতে পারলৌকিক পাথেয় সঞ্চয়ের স্থলে জাগতিক ক্ষণস্থায়ী সুখ-ঐশ্বর্য-অর্থবিত্ত এবং ইন্দ্রিয়ের অবৈধ চাহিদা মেটানোকে প্রাধান্য দিচ্ছে। তথাকথিত অভিজাত এবং অঢেল বিত্তশালী মুসলিম পরিবারের আদরের দুলাল এবং ললনাদের বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড জাতীয় শয্যাসঙ্গী নিয়ে দিন গুজরানোর খবরে বোবা কান্নায় বুক ভাসাতে হচ্ছে। পরিশ্রমের বিনিময়ে জীবিকার্জন ও স্বাবলম্বী হওয়ার প্রচেষ্টার স্থলে উৎকোচের লেনদেনে রাতারাতি বড়লোক হওয়ার প্রতিযোগিতা এবং মনুষ্যত্ববোধকে নির্বাসনে পাঠিয়ে অবৈধ উপায়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করার মরণখেলা জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে বিশ্ববাসীকে গ্রাস করেছে। নানা অজুহাতে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ আদায়ে আমাদের উদাসীনতাও দিনে দিনে সহ্যসীমা অতিক্রম করতে চলেছে।
যাহোক, মুসলিম ক্যালেন্ডারের রজব, শাবান ও রমজান অত্যন্ত মহিমান্বিত মাস। ইসলামের ভাষায় রজবকে বলা হয় আল্লাহর মাস; শাবানকে নবীর (সা.) মাস এবং রমজানকে বলা হয় উম্মতের মাস। সেই চরম আইয়্যামে জাহেলিয়াত যুগের যুদ্ধলিপ্সু এবং পাপাচারে লিপ্ত মক্কাবাসী এ তিনটি মাসে যাবতীয় অপরাধ থেকে নিজেদের মুক্ত রাখত। ইসলামি চিন্তাবিদদের বর্ণনা অনুসারে, ইমান-আকিদাসহ কোনো মুসলমান রজব মাসে সাতটি রোজা রাখলে তার জন্য সাতটি দোজখের দুয়ার বন্ধ হয়ে যায়। আর আটটি রোজা রাখলে তার জন্য বেহেশতের আটটি দরজা খোলা হয়ে যায়। আর রোজাদারদের বেহেশতের রজব নামক বিশেষ ঝরনার সুমিষ্ট পানীয় দ্বারা আপ্যায়ন করা হবে। বিশেষত কোনো মুসলমান ২৭ রজব রোজা রাখলে তাকে এক বছর রোজা রাখার সওয়াব প্রদান করার কথাও পবিত্র হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।
কথায় বলে, তরঙ্গবিক্ষুব্ধ সাগরে ভাসমান মানুষ নিছক খড়কুটো ধরেও বাঁচতে চায়। আর বাস্তবতার বিচারে বর্তমান মুসলিম উম্মাহ অতলস্পর্শী পাপসাগরে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম। তাই জায়েজ/না জায়েজের খণ্ডযুদ্ধে লিপ্ত না হয়ে আসুন আমরা সবাই কমপক্ষে ২৭ রজব তারিখের রোজাটি রাখার চেষ্টা করি এবং নিজেদের পাহাড়তুল্য পাপমুক্তি ও কবরবাসী পূর্বপুরুষদের জন্য অনুশোচনাগ্রস্ত চিত্তে ও সাশ্রু নয়নে মহান আল্লাহর রহমত ভিক্ষা করি। আমিন!
লেখক : সহযোগী সম্পাদক, ঠিকানা, নিউইয়র্ক।
৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

কমেন্ট বক্স