বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

মার্কিন হেফাজতে ২৩ অভিবাসীর মৃত্যু, জবাবদিহিতার আহ্বান জাতিসংঘের

মার্কিন হেফাজতে ২৩ অভিবাসীর মৃত্যু, জবাবদিহিতার আহ্বান জাতিসংঘের

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক সোমবার জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের ৬৩তম অধিবেশনে বক্তব্য দিচ্ছেন। ছবি : এএফপি

বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে জবাবদিহিতার দাবি জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক। একই সঙ্গে মানুষের ‘অপূরণীয় ক্ষতি’ হতে পারে এমন জায়গায় নির্বাসন দেওয়া বন্ধ করতে ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে ভলকার তুর্ক উল্লেখ করেন, গত জুনে পরিষদের কাছে তার দেওয়া শেষ প্রতিবেদনের পর থেকে মার্কিন অভিবাসন হেফাজতে আরও চারজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এর অর্থ দাঁড়ায় যে, কেবল ২০২৬ সালেই মোট ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভলকার তুর্ক জোর দিয়ে বলেন, ‘এই মৃত্যুগুলোর জন্য উপযুক্ত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ হাজার হাজার মানুষকে আটক করছে এবং ডিটেনশন সেন্টারগুলোর পরিধি বাড়াচ্ছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস-এর জুন মাসের একটি যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ট্রাম্পের কঠোর অভিযানের মধ্যে আইস (আইসিই)-এর হেফাজতে মানুষের মৃত্যুর হার গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) মার্কিন অভিবাসন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর আরও বেশ কয়েকটি পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও সম্পর্কহীন তৃতীয় কোনো দেশে অভিবাসীদের জোর করে ফেরত পাঠানোর মতো বিষয়গুলো।

ভলকার তুর্ক মানবাধিকার কাউন্সিলকে বলেন, ‘আমি যুক্তরাষ্ট্রকে হাইতিসহ এমন জায়গায় মানুষদের ফেরত পাঠানো বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি যেখানে তারা নানা অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে এবং তৃতীয় কোনো দেশে যেকোনো পাঠানোর ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার অনুরোধ করছি।’ মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্সির অভিবাসন কর্মকর্তাদের ইলেকট্রিক শক গ্লাভসে সজ্জিত করার সাম্প্রতিক তথ্যের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান।

তিনি সতর্ক করে বলেন, এতে করে তাদের অভিযানের সঙ্গে জড়িত সহিংসতার মাত্রা আরও বাড়বে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) তাদের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, এই ‘শক গ্লাভস’ কেনার পরিকল্পনায় আইস-এর অভিভাবক সংস্থা ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) তাদের ভাষায় ‘মনোযোগ নষ্ট করা ও পরিস্থিতি শান্ত করার সরঞ্জাম’ হিসেবে ১ থেকে ২ কোটি ডলার ব্যয় করতে যাচ্ছে। অভিযান চলাকালীন বেশ কিছু মারাত্মক গুলিবর্ষণের ঘটনার জন্য আইস ইতোমধ্যে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।

যার মধ্যে চলতি বছরের জানুয়ারিতে মিনেসোটায় আইস-বিরোধী বিক্ষোভে জড়িত দুই মার্কিন নাগরিককে গুলি করে হত্যার ঘটনাও রয়েছে। সমালোচকরা এক্ষেত্রে অভিবাসীদের আটক করতে আইস কর্মকর্তাদের বলপ্রয়োগের কৌশল এবং নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের মান কমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

ঠিকানা/এএস

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Developed by SolveEz