বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

​যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞায় কিছুই অর্জিত হবে না : ইরানের প্রেসিডেন্ট

​যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞায় কিছুই অর্জিত হবে না : ইরানের প্রেসিডেন্ট

ছবি : সংগৃহীত

বিজ্ঞাপন
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগে কোনো ফল হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ওয়াশিংটন ইরানের অর্থনীতি ধ্বংসের নতুন পরিকল্পনা প্রকাশের পর ২৭ আগস্ট (বুধবার) তেহরানে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। খবর এএফপির। 

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, এই পর্যায়ে অর্থনৈতিক চাপ দিয়ে আমেরিকা কোনো কিছু অর্জন করতে পারবে না। যুদ্ধেও তারা কিছু অর্জন করতে পারেনি। তিনি আরও যোগ করেন, আগের মতোই সব অর্থনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে ইরান দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখবে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর যুদ্ধ প্রায় ছয় মাসে গড়িয়েছে। তবে দুই পক্ষই বর্তমানে অচলাবস্থায় রয়েছে। ইরান বিশ্ব বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটনও ইরানের বিরুদ্ধে নৌঅবরোধ বজায় রেখেছে। 

যুদ্ধের প্রভাবে ঘরে রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপের বদলে অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে নতুন নিষেধাজ্ঞা এবং এতে যোগ না দেওয়া দেশগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থার সতর্কতা দিয়েছেন। সোমবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট দাবি করেন, তারা ইরানের সামরিক কারখানা ও পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করেছেন। এবার তাদের নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপ ইরানের ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, স্বর্ণ, বিমান ও নৌপরিবহণ খাতকে লক্ষ্যবস্তু করবে।

তবে ইরানের সেনাবাহিনী ও রেভল্যুশনারি গার্ডস জানিয়েছে, ক্ষতি সামলে উঠে সামরিক সক্ষমতা আবার পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। এই চাপ মোকাবিলায় তাদের আগামী দুই বছরের পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারে তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবির মুখে হরমুজ প্রণালির ওপর মার্কিন নৌবাহিনীর ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে বলে উল্লেখ করলেও সেখানে জাহাজ চলাচল সাধারণ সময়ের তুলনায় অনেক কম। ইরানের সঙ্গে আলোচনার সময়সীমা নিয়ে এক প্রশ্নে ট্রাম্প আলজাজিরাকে বলেন, আমার কোনো সময়সীমা নেই, আমি তাড়াহুড়ো করছি না। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু কোনো চুক্তির সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।

সংকট সমাধানে ইরানের বিপরীত পাশে থাকা ওমান মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি জানিয়েছেন, শিগগিরই একটি অস্থায়ী নৌপথ চালুর ঘোষণা আসতে পারে। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি জানান, ওমানের সঙ্গে চুক্তি হলে পরবর্তীতে একটি স্থায়ী নৌপথ নিয়ে আলোচনার জন্য ৩০ থেকে ৬০ দিন সময় পাওয়া যাবে। তবে রেভল্যুশনারি গার্ডস অভিযোগ করেছে, রাজস্ব ভাগাভাগির এই সমঝোতা চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র বাধা সৃষ্টি করছে।

ঠিকানা/এএস 

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Developed by SolveEz