বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

​হরমুজ নিয়ে ইরান-ওমানের সমঝোতা, যুক্তরাষ্ট্র শর্ত না মানলে খুলবে না প্রণালি : আইআরজিসি

​হরমুজ নিয়ে ইরান-ওমানের সমঝোতা, যুক্তরাষ্ট্র শর্ত না মানলে খুলবে না প্রণালি : আইআরজিসি

ছবি সংগৃহীত

বিজ্ঞাপন
হরমুজ প্রণালির জলসীমা ও সেখান থেকে পাওয়া রাজস্বের অংশীদারত্ব নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের শর্ত মেনে না নিলে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ কোনোভাবেই খুলে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে তেহরান। ২৬ আগস্ট (বুধবার) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বক্তব্যে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি এসব কথা জানান।

তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি ইরান ও ওমানের। আমরা প্রায় এক মাস ধরে ওমানের সঙ্গে আলোচনা করছি এবং উভয় পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য ফলাফলে পৌঁছেছি।

মোহেবি জানান, আলোচনায় হরমুজ প্রণালির জলসীমায় ইরান ও ওমানের অংশ এবং প্রণালি থেকে পাওয়া রাজস্বে দুই দেশের অংশ নিয়ে সমঝোতা হয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরান-ওমানের আলোচনায় বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে আইআরজিসি। তাদের দাবি, ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপের কারণেই সমঝোতা বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে।

মোহেবি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি বাধা দেওয়া বন্ধ করে এবং সমঝোতায় ফিরে আসে, তাহলে চুক্তির কাঠামোর মধ্যেই আমরা হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে পারি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র আমাদের শর্ত মেনে না নিলে কোনো পরিস্থিতিতেই হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না।

এদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অনেকটাই কমে এলেও যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা থমকে আছে। পাশাপাশি জাহাজে হামলার ঘটনাও অব্যাহত রয়েছে। ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল এখনও ঝুঁকিপূর্ণ।

যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অধিকাংশ জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামও বেড়েছে।

হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র আলাদাভাবে অবরোধ আরোপ করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

গত ২৩ আগস্ট (রবিবার) ইরান ৪৫টি জাহাজকে কালো তালিকাভুক্ত করে। ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের অবরোধ এড়িয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি উৎপাদকদের জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের কার্যক্রম বন্ধ করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কালোতালিকাভুক্ত জাহাজ ব্যবহার বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে কিছু কোম্পানি।

অন্যদিকে, ইরানের অর্থনীতির ওপর চাপ আরও বাড়াতে চলতি সপ্তাহের শুরুতে দেশটির সঙ্গে ব্যাবসা চালিয়ে যাওয়া দেশগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

তবে, নতুন নিষেধাজ্ঞায় ইরান থেকে তেল রফতানিতে সহায়তার অভিযোগ থাকা চীনের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

আর নিজেদের অর্থনীতিকে বিচ্ছিন্ন করার মার্কিন উদ্যোগকে ‘চরম বেআইনি কর্মকাণ্ড’ বলে আখ্যা দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে অনেক দেশই যুক্তরাষ্ট্রের এই চাপ প্রয়োগের প্রচারণায় যোগ দেবে না বলে আশাবাদ জানিয়েছে তেহরান।

এদিকে যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার মাধ্যমে নতুন করে আলোচনার উদ্যোগের আভাস পাওয়ায় বিশ্ববাজারে টানা তৃতীয় দিনের মতো তেলের দাম কমেছে। ব্যারেলপ্রতি ২ ডলারের বেশি কমে দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে তেলের দাম।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বাজারে এই প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

ঠিকানা/এএস 

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Developed by SolveEz