বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ :
• বন্ধুকে হত্যার দায়ে কুয়েতে বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড • কক্সবাজারে ভাড়া বাসা থেকে স্পা কর্মীর মরদেহ উদ্ধার • ৭ নভেম্বর বিএনপির শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান • মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ে বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়া • ৫ কারণে ট্রাম্পের দলের ভরাডুবি • ইলন মাস্কের ৪৪ কোটি ৬০ লাখ ডলারেও রক্ষা হলো না রিপাবলিকানদের • যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে মুসলিম প্রতিনিধিত্বের নতুন ইতিহাস: বিজয়ী অন্তত সাত আইনপ্রণেতা • যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ছয় প্রার্থীর বিজয় • পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা • নিউইয়র্কের নির্বাচনী লড়াইয়ে ডেমোক্র্যাটদের জয়জয়কার

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

​হরমুজ প্রণালিকে শিগগিরই মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করা হবে : ট্রাম্প

​হরমুজ প্রণালিকে শিগগিরই মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করা হবে : ট্রাম্প

ছবি : সংগৃহীত

বিজ্ঞাপন
প্রায় ছয় মাস ধরে চলা সংঘাতের মধ্যেই ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিকে খুব শিগগিরই ‘মার্কিন ভূখণ্ড’ হিসেবে ঘোষণার কথা জানিয়েছেন তিনি।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিকভাবে তেহরানের ওপর বড় ধরনের আঘাত হানতে যাচ্ছে। এর আগে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছিলেন, আগামী সপ্তাহেই ইরানের বিরুদ্ধে এমন সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। এদিকে নিউইয়র্কের একটি পুলিশ একাডেমিতে আয়োজিত রাজনৈতিক সমাবেশে ট্রাম্প হাসতে হাসতে বলেন, ‘খুব শিগগিরই আমি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করতে যাচ্ছি।’ তবে তিনি কথাটি কতটা গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে ইরান। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিদাবাদি এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে বলেন, হুমকি বা শক্তি প্রদর্শনে তেহরান ভীত নয়। হরমুজ প্রণালি খোলা বা বন্ধ রাখা একান্তই ইরানের নিজস্ব এখতিয়ার। তিনি লেখেন, ‘যতক্ষণ না আপনারা পরাজয়ের বাস্তবতা মেনে নিচ্ছেন, ইরান এই অবরোধ অব্যাহত রাখবে। কোনো টুইট, বিমানবাহী রণতরী, নির্দেশ বা নির্বাচনী ভাষণের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি দখল করা যাবে না।’

গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। শুক্রবার মাত্র দুটি জাহাজ এই পথ অতিক্রম করেছে বলে জানিয়েছে জাহাজ ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান কেপলার। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার দুটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে, যার দায় ইরানের ওপর চাপিয়েছে আবুধাবি। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে ১৩০টির বেশি জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করত। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও এলএনজি এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

জ্বালানি পরিবহনে এই ব্যাপক বিঘ্নের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রে গ্যালনপ্রতি জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৪ ডলারে পৌঁছেছে। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিনিদের সামান্য বেশি দামে জ্বালানি কেনার আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, একটি ‘দুষ্ট দেশকে’ পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার জন্যই এই মূল্য চোকাতে হচ্ছে। তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এর আগে জানিয়েছিলেন, পারমাণবিক ইরান ঠেকানোর চেয়ে মার্কিনিদের জন্য কম দামে জ্বালানি নিশ্চিত করাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি ট্রাম্পের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

অন্যদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে মোতায়েন করা মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর নাবিকদের দুর্দশা ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ওঠা উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। গত নয় মাস ধরে সাগরে থাকা এই রণতরীর অবস্থা নিয়ে নাবিকদের পরিবার শঙ্কা প্রকাশ করলেও ট্রাম্প দাবি করেছেন, এমন কোনো বিষয় নেই এবং এই রণতরীর মোতায়েনকাল ‘যথেষ্ট দীর্ঘ নয়’। তবে রণতরীটি শিগগিরই পরিবর্তন করে সেখানে একই ধরনের অন্য একটি জাহাজ পাঠানো হবে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।

উল্লেখ্য, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন গণমাধ্যমে বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে একাধিক নাবিকের সাগরে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টার কথা উল্লেখ করা হয়। মার্কিন নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী হাং কাও এক বিবৃতিতে মানসিক অবসাদে ভোগা কয়েকজনকে চিকিৎসা দেওয়ার কথা স্বীকার করলেও পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রচারের জন্য গণমাধ্যমকে দুষেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত নিরসনে গত জুনে হওয়া চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর নতুন করে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা শুরু হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুক্রবার জানিয়েছেন, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কেবল বার্তা আদান-প্রদান চলছে। তবে এটি যুদ্ধ বন্ধের কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা নয়। মূলত চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর থেকেই ইরান তাদের অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী জাহাজগুলোর ওপর হামলা পুনরায় শুরু করেছে।

ঠিকানা/এএস 

নিউজটি শেয়ার করুন


সর্বশেষ আপডেট

 
© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Developed by SolveEz