বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে শক্তিশালী এল নিনো

বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে শক্তিশালী এল নিনো

১ জুন জেনেভায় বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) সদর দপ্তরে, সংস্থাটির জলবায়ু পূর্বাভাস পরিষেবা বিভাগের প্রধান উইলফ্রান মুফুমা-ওকিয়া একটি কম্পিউটার স্ক্রিনে প্রদর্শিত গ্রাফের দিকে নির্দেশ করছেন। ছবি: এএফপি

বিজ্ঞাপন
দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠা এল নিনো আগামী কয়েক মাসে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহ, খরা, দাবানল ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। সংস্থাটি বলছে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে এল নিনোর প্রভাব যুক্ত হওয়ায় বৈশ্বিক আবহাওয়া আরও অস্থির হয়ে উঠছে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩১ জুলাই) প্রকাশিত ডব্লিউএমওর সর্বশেষ প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, বর্তমানে আফ্রিকা ও ইউরোপে ভয়াবহ দাবানল এবং দক্ষিণ এশিয়ায় অতিবৃষ্টিজনিত দুর্যোগ চলমান থাকলেও, এল নিনোর প্রভাবে আগামী মাসগুলোতে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ডব্লিউএমওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে বৈশ্বিক বায়ুমণ্ডলের স্বাভাবিক ভারসাম্যে পরিবর্তন ঘটবে এবং বিশ্বের অধিকাংশ স্থলভাগেই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা বিরাজ করবে।

সংস্থাটির মতে, আফ্রিকা, দক্ষিণ ইউরোপ, ভারতীয় উপমহাদেশ, পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকা সবচেয়ে বেশি তাপপ্রবাহের ঝুঁকিতে থাকবে। পাশাপাশি কিছু অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং অন্য কোথাও অতিবৃষ্টি ও বন্যার প্রবণতা বাড়তে পারে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, এল নিনো এখন আর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কা নয়, এটি ইতোমধ্যেই বিশ্বের আবহাওয়ায় প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।

তার ভাষায়, “এল নিনো এখন আর শুধু আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে না, এটি ইতোমধ্যেই ঘরের ভেতরে ঢুকে তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এটি কেবল শুরু। আগুনে জ্বলতে থাকা পৃথিবীতে এল নিনো আরও জ্বালানি যোগ করছে।”

তিনি বলেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন ও এল নিনোর সম্মিলিত প্রভাব বিশ্বকে আরও ভয়াবহ জলবায়ু সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

গুতেরেস নতুন করে কয়লা, তেল ও গ্যাসভিত্তিক প্রকল্প অনুমোদন বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো ছাড়া বৈশ্বিক উষ্ণায়ন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেন, এল নিনোকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হলেও কেবল পূর্বাভাস দিয়ে দুর্যোগ মোকাবিলা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, “পূর্বাভাস নিজে থেকে কোনো দুর্যোগ ঠেকাতে পারে না; মানুষই তা পারে। আজ আমরা যে সিদ্ধান্ত নেব, আগামী দিনের ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই তার ওপর নির্ভর করবে।”

তার মতে, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে রক্ষায় সরকার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা ও মানবিক সংগঠনগুলোকে এখন থেকেই সমন্বিত প্রস্তুতি নিতে হবে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনোর প্রত্যক্ষ প্রভাব সব দেশে একই রকম না হলেও বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় তাপপ্রবাহের তীব্রতা বৃদ্ধি, অনিয়মিত মৌসুমি বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা এবং কৃষি উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব দেখা দিতে পারে। ফলে খাদ্য নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য এবং বিদ্যুৎ চাহিদার ওপরও চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এল নিনো আরও শক্তিশালী হয়ে রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছাতে পারে। তবে এর সুনির্দিষ্ট তীব্রতা ও স্থায়িত্ব নিয়ে এখনো কিছু বৈজ্ঞানিক অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবুও জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের অভিমত, সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।

ঠিকানা/এসআর

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Developed by SolveEz