বার্লিনে প্রাইড উৎসবে ভিড়ের ওপর চলন্ত গাড়ি, নিহত ১
ঠিকানা অনলাইন
প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১:১২
•
অনলাইন সংস্করণ
বার্লিনের টিয়ারগার্টেন পার্কে ভিড়ের মধ্যে একটি গাড়ি ঢুকে পড়লে বেশ কয়েকজন আহত হন। ঘটনাস্থলে জরুরি উদ্ধারকর্মীরা একজনকে সহায়তা করেন। ছবি: রয়টার্স
জার্মানির রাজধানী বার্লিনে সমকামী, উভকামী, হিজড়া ও রূপান্তরকামী জনগোষ্ঠীর প্রাইড উৎসবের কাছে ভিড়ের মধ্যে চলন্ত গাড়ি তুলে দেওয়ার ঘটনায় একজন নিহত ও ১৭ জন আহত হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার জন্য দায়ীদের ধরতে অভিযান শুরু করা হয়েছে। এ ঘটনার পর বার্ষিক ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে প্রাইড প্যারেডটি বাতিল করা হয়।
রয়টার্স জানিয়েছে, আপাতভাবে হামলা বলে ধরে নেওয়া এ ঘটনার অনেক বিস্তারিত এখনও পরিষ্কার হয়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, নগরীর কেন্দ্রস্থলে ব্র্যান্ডেনবার্গ গেটের কাছে টিয়ারগার্টেন পার্কে গাড়িটি ঢুকে পড়ার পর বহু মানুষকে আঘাত করে। পরে তারা জানায়, তারা এ ঘটনার সন্দেহভাজন হিসেবে একজন ইসলামপন্থিকে শনাক্ত করেছে আর তাকে গ্রেপ্তার করার জন্য খুঁজছে।
ঘটনাস্থলে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, “আমাদের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গাড়িটি আনুমানিক রাত ১০টার দিকে টিয়ারগার্টেনে ঢুকে পড়ে, তারপর বেশ কয়েকজনকে আহত করার পর একটি গাছে ধাক্কা খেয়ে থেমে যায়। আমরা গিয়ে গাড়িটি খালি দেখতে পাই আর সে কারণেই অপরাধী বা অপরাধীদের ধরার জন্য নিবিড়ভাবে কাজ করছি।”
আটজন গুরুতর আহত
দমকলের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, আহত ১৭ জনের মধ্যে আটজন গুরুতর আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন সঙ্কটজনক অবস্থায় রয়েছে।
পুলিশের এক মুখপাত্র বলেছেন, “আমরা এখন একজন সন্দেহভাজন অপরাধীকে শনাক্ত করেছি। সন্দেহভাজন এই অপরাধীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছি যে এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। এই সন্দেহভাজন অপরাধীকে এখানে বার্লিনে তৎপর ইসলামপন্থিদের একজন সদস্য হিসেবে চেনে পুলিশ।”
তিনি জানান, যে গাড়িটি পার্কে ঢুকে পড়ে সেটির রঙ সাদা। সেটিকে তিনি গাড়ি, মিনিভ্যান বা মিনিবাস হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
জার্মানির ট্যাবলয়েড সংবাদপত্র বিল্ড এক প্রত্যক্ষদর্শীকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, গাড়িটি একটি মাইক্রোবাস আর সেটি থেকে এক ব্যক্তি বের হয়ে এসে হেঁটে পালিয়ে যায়।
বার্ষিক ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে প্রাইড প্যারেড উদযাপনের জন্য কয়েক হাজার মানুষ জার্মান রাজধানীতে শান্তিপূর্ণভাবে জড়ো হয়েছিল। এটি ইউরোপের বৃহত্তম এলজিবিটিকিউ ইভেন্টগুলির মধ্যে একটি। কিন্তু ওই সম্ভাব্য হামলার ঘটনা উৎসবটিতে আকস্মিকভাবে সমাপ্তি টেনে দেয়।