বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ :
• জীবনযাত্রার ব্যয়  কতটা প্রভাব ফেলল ভোটে • নিউইয়র্ক স্টেটে পার্ক রেঞ্জার পদে নিয়োগ, আবেদন ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত • স্পিকার হওয়ার পথে হাকিম জেফ্রিস, সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ • ভোটাররা ট্রাম্প, অর্থনীতি নিয়ে গভীরভাবে অসন্তুষ্ট • যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর কেইশা ল্যান্স • নিউইয়র্ক ম্যারাথনে ফিনিশিং লাইনের দুই মাইল আগে তরুণীর মৃত্যু • ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের চিত্র • মার্কিন কংগ্রেসে সেনেটের নিয়ন্ত্রণ পেল ডেমোক্র্যাটরা • ভাঙচুরের ভিডিও করায় তৌফিককে হত্যা করেছে আওয়ামী দুর্বৃত্তরা : রাশেদ খান • ইন্দোনেশিয়ায় প্রেসিডেন্টের ফোনে আড়িপাতার সন্দেহে ৩ পুলিশ কর্মকর্তা আটক

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করতে চীনের নতুন ‘এআই জোট’

যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করতে চীনের নতুন ‘এআই জোট’

ছবি সংগৃহীত

বিজ্ঞাপন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করে বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তারে নতুন কৌশল নিয়ে মাঠে নেমেছে চীন। বিশ্বের ২৯টি দেশ নিয়ে গঠিত ‘ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (ওয়াইকো)’ নামের এই জোটের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে বেইজিং।

সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলনে (ডব্লিউএআইসি) চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, এআই কোনো একক দেশের নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত নয়। এটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও যৌথ উন্নয়নের ক্ষেত্র হওয়া প্রয়োজন।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দেওয়া বক্তব্যে পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে প্রযুক্তি খাতে অন্য দেশকে সীমাবদ্ধ করা উচিত নয়। তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন ও ব্যবহার আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া দরকার।

এর আগে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সাংহাইয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ওয়াইকো। ২৯টি দেশ নিয়ে গঠিত এই জোটের সদর দপ্তর সাংহাইয়ে স্থাপন করা হয়েছে। জোটটিতে ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, সেনেগাল, রাশিয়া, পাকিস্তানসহ গ্লোবাল সাউথভুক্ত বিভিন্ন দেশ অংশ নিয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্লেষকদের ধারণা, এই জোটের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এআই-সংক্রান্ত নীতিমালা ও আইন প্রণয়নে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করবে চীন। প্রযুক্তি খাতে নেতৃত্ব নিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। বিশেষ করে, উন্নতমানের সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে, তা ‘চিপ যুদ্ধ’ নামে পরিচিত।

জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে চীনের কাছে উন্নত চিপ রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে চীনও চিপ উৎপাদনে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজ রপ্তানিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে।

উন্নত চিপ উৎপাদনে চীন এখনো কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও বৃহৎ ডাটা সেন্টার, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা এবং খনিজ সম্পদের ক্ষেত্রে দেশটি উল্লেখযোগ্য সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ফলে এআই খাতের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতায় চীনের অবস্থান শক্তিশালী হতে পারে।

কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের গভর্ন্যান্স বিশেষজ্ঞ অরিন্দ্রজিৎ বসু আল-জাজিরাকে বলেন, বৈশ্বিক সাইবার ও এআই নীতি নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্র যখন তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে যাচ্ছে, তখন চীন সেই শূন্যস্থান কাজে লাগিয়ে নিজেদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর সমর্থন নিয়ে এআই শাসনব্যবস্থায় নতুন প্রভাব বলয় তৈরি করতে চায় বেইজিং। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে প্রযুক্তি বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের প্রভাবের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

ঠিকানা/এনআই

নিউজটি শেয়ার করুন


সর্বশেষ আপডেট

 
© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Developed by SolveEz