পাশাপাশি চিতায় গণপতি চক্রবর্তী, স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ
ঠিকানা অনলাইন
প্রকাশ : ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০১:১৩
•
অনলাইন সংস্করণ
ছবি সংগৃহীত
রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে চারজনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। হাসপাতালের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহগুলো নিয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর দখীগঞ্জ মহাশ্মশানে পৌঁছান স্বজনরা।
সেখানে চারজনের মরদেহ স্নান করিয়ে নতুন পোশাক পরানো হয়। পরে পাশাপাশি চারটি চিতা প্রস্তুত করা হয়। একে একে চারটি চিতায় মরদেহ তোলা হলে স্বজনরা মুখাগ্নি করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে চারজনের দাহকার্য শেষ হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, চারজনকে চিতায় তোলার সময় সেখানে স্বজনদের কান্নায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। এ সময় পরিবারের বাইরেও যারা এসেছিলেন, তারাও চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। চিতায় আগুন দেওয়ার সময় স্বজনরা নিহতদের নাম ধরে বিলাপ করছিলেন।
এর কিছুক্ষণ পর শ্মশানে এক অদ্ভুত নীরবতা নেমে আসে। চারদিক থেকে শুধু আগুনের কুণ্ডলী দেখা যাচ্ছিল।
দাহকার্যের সঙ্গে যুক্ত একজন বলছিলেন, তার জীবনে এ ধরনের দৃশ্য কখনো তিনি দেখেননি। একই পরিবারের চারজনকে একসঙ্গে দাহ করা অনেক কষ্টের।
দাহকাজ শেষে চিতায় জল দিয়ে চারজনের ‘অস্থি’ নিয়ে যান স্বজনরা। পরে আগুন ভালোভাবে নেভানোর জন্য শ্মশানের দায়িত্বরতদের পাইপ দিয়ে ফের জল ঢালতে দেখা যায়।
শনিবার রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী এবং মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর (প্রার্থী) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাদের শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর থেকে পরিবারটির সঙ্গে স্বজনদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। স্বজনদের মাধ্যমে খবর পেয়ে শনিবার রাতে বাসায় গিয়ে চারটি মরদেহ পায় পুলিশ।
দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলেন মাছুয়াপাড়ার মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯)। রোববার ভোরে তাদের আটক করা হয়।
তিনি দাবি করেন, ‘মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস পাশের একটি ভবনের ওপর দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে প্রবেশ করেন। সেখানে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। পরে একে একে হত্যা করা হয় তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকে।’