এক ম্যাচে পাঁচ সেঞ্চুরি—ওয়ানডে ক্রিকেটের ৫৫ বছরের ইতিহাসে এমন দৃশ্য এবারই প্রথম।
গুয়াহাটিতে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দুই দলের পাঁচ ব্যাটার মিলে গড়েছেন এই কীর্তি।
ভারত টস জিতে আগে ব্যাট করতে পাঠায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। শুরু থেকেই ভারতীয় বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে একে একে সেঞ্চুরি করেন জন ক্যাম্পবেল, শাই হোপ ও আমির জাঙ্গু। ক্যাম্পবেল ৬৮ বলে ১০১, হোপ ৯৪ বলে ১০৪ এবং জাঙ্গু ৭৭ বলে ১১৪ রান করেন।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতও পাল্টা জবাব দেয়। রোহিত শর্মা করেন ১০১ রান। অধিনায়ক শুবমান গিল তো ডাবল সেঞ্চুরি করে ফেলেন। ১৩৩ বলে ২৬ চার ও ৮ ছক্কায় তিনি করেন ২২৩ রান।
ভারতের সামনে লক্ষ্যটা ছিল পাহাড়সম। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের পর তাই খোদ ভারতের ভক্তরাও আশা ছেড়ে দিয়েছিল প্রায়। কিন্তু রোহিত শর্মা ও শুভমান গিলের দারুণ ব্যাটিংয়ে পাহাড়সম লক্ষ্যটাকেও মামুলি বানিয়ে ফেলল স্বাগতিকেরা। রেকর্ড গড়ে জয় তুলে নিল ভারত।
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮ উইকেটে হারাল ভারত। এই জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতল গিলের দল। এর আগে প্রথম এক দিনের ম্যাচে ৮ উইকেটে জিতেছিল ভারত। ৩ অক্টোবর চণ্ডীগড়ে সিরিজের শেষ ম্যাচ খেলতে নামবে দুই দল।
বর্ষাপাড়া ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে তিন সেঞ্চুরিতে ৪০৫ রানে করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। রান তাড়ায় গিল ও রোহিতের জোড়া সেঞ্চুরিতে ৩৯ বল হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে ভারত। ওয়ানডে ইতিহাসে এটা তাদের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের নতুন রেকর্ড। এর আগে ২০১৩ সালে জয়পুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩৬০ রান তাড়া করে জিতেছিল ভারত।
ভারতের বিপক্ষে করা ৪০৫ রান ওয়ানডের এক ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বোচ্চ। কিন্তু ভারতের ব্যাটিং দাপটে রেকর্ড গড়েও জেতা হলো না শাই হোপের দলের।
ভারতের জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান গিলের। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন তিনি। ১১৭ বলে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন। যা ওয়ানডেতে দ্রুততম। ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন ভারতীয় দলপতি। এর আগে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০৮ রান করেছিলেন এই ব্যাটার।
লক্ষ্য তাড়ায় ওপেনিং জুটিতে ২৫৫ রান তোলেন গিল ও রোহিত। ওয়ানডেতে এটা ভারতের হয়ে উদ্বোধনী জুটিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। আগের রেকর্ডটি ছিল শচীন টেন্ডুলকার ও সৌরভ গাঙ্গুলীর দখলে। ২০০১ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে পার্লে ২৫৮ রান করেছিলেন তারা। অল্পের জন্য সাবেক দুই তারকার রেকর্ড ভাঙতে পারলেন না গিল ও রোহিত।
সেঞ্চুরির পরপরই রোহিত জেডন সিলসের বলে এলবিডব্লু হলে ভারতের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে। প্যাভিলিয়নের পথ ধরার আগে ৭৫ বলে ১০ চার ও ৬ ছক্কায় ১০১ রান এনে দেন সাবেক অধিনায়ক। রোহিত ফিরলেও ঝড় অব্যাহত রাখেন গিল। বিরাট কোহলি ও গায়কোয়াদকে নিয়ে বাকি কাজটুকু সারেন তিনি। জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ার সময় তার নামের পাশে শোভা পাচ্ছিল ২২৩ রান। ১৩৩ বলের ইনিংসটি সাজানো ২৬ চার ও ৮ ছক্কায়। গায়কোয়াদ অপরাজিত থাকেন ৩১ রানে। এ ছাড়া বিরাট কোহলির ব্যাট থেকে আসে ২৯ রান।
ভারতের পতন হওয়া উইকেট দুটি ভাগাভাগি করেছেন সিলস ও শামার জোসেফ। ৮ ওভারে ৮৯ রান দিয়ে সবচেয়ে বেশি খরুচে ছিলেন আলজারি জোসেফ।
এর আগে এক ওয়ানডেতে চার ব্যাটারের সেঞ্চুরি দেখা গেছে তিনবার। ১৯৯৮ সালে লাহোরে পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে, ২০১৩ সালে নাগপুরে ভারত-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে এবং ২০২৩ বিশ্বকাপে হায়দরাবাদে পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা ম্যাচে।