ডায়াবিটিস ও প্রি-ডায়াবিটিসের রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তাই অনেকেই বাড়িতে গ্লুকোমিটার দিয়ে নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা মাপছেন। তবে দিনের সব সময়ে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা এক থাকে না। কী খাচ্ছেন, কতটা শরীরচর্চা করছেন, ঘুম কেমন হচ্ছে এবং মানসিক চাপ রয়েছে কি না—এসবের ওপরও রক্তে শর্করার মাত্রা নির্ভর করে।
তাই চিকিৎসকেরা প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে রক্তে শর্করা পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। খালি পেটে, খাবারের পর কিংবা গত তিন মাসের গড় শর্করার মাত্রা—কোন পরীক্ষায় কী বোঝা যায়, তা জানিয়েছেন মধুমেহ রোগের চিকিৎসক আশিস মিত্র।
খালি পেটে ও খাবারের পর সুগার পরীক্ষা
ফাস্টিং ব্লাড সুগার বা এফপিজি পরীক্ষা করতে অন্তত ৮ ঘণ্টা না খেয়ে থাকতে হয়। শরীর খাবার না পেলে কীভাবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করছে, এই পরীক্ষায় তার ধারণা পাওয়া যায়।
অন্যদিকে, পোস্ট-প্র্যান্ডিয়াল বা ভরা পেটে রক্তে শর্করা পরীক্ষা করা হয় খাবার খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর। এতে খাবার থেকে পাওয়া গ্লুকোজ শরীর কতটা দক্ষতার সঙ্গে সামলাতে পারছে, তা বোঝা যায়।
চিকিৎসকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রক্তে শর্করার মাত্রার তালিকা—
খালি পেটে: রক্তে শর্করা ১১০-এর নিচে থাকলে তা স্বাভাবিক। ১১০ থেকে ১২৫-এর মধ্যে হলে প্রি-ডায়াবিটিস এবং ১২৬ বা তার বেশি হলে ডায়াবিটিসের ইঙ্গিত দেয়।
খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর: রক্তে শর্করা ১৪০-এর নিচে থাকলে স্বাভাবিক। ১৪০ থেকে ১৯৯-এর মধ্যে হলে প্রি-ডায়াবিটিস এবং ২০০ বা তার বেশি হলে ডায়াবিটিসের ইঙ্গিত দেয়।
এইচবিএ১সি: গত তিন মাসের গড় রক্তে শর্করার মাত্রা বোঝার জন্য এই পরীক্ষা করা হয়। ৫.৭ শতাংশের নিচে থাকলে স্বাভাবিক, ৫.৭ থেকে ৬.৪ শতাংশ হলে প্রি-ডায়াবিটিস এবং ৬.৫ শতাংশ বা তার বেশি হলে ডায়াবিটিসের ইঙ্গিত দেয়।
কোন মাত্রায় সুগার রাখার চেষ্টা করা উচিত?
চিকিৎসক আশিস মিত্র বলেন, ‘‘খালি পেটে ব্লাড সুগার ৯০ থেকে ১১০-এর মধ্যে আর ভরা পেটে সাধারণত ১৪০ থেকে ১৬০-এর মধ্যে রাখার চেষ্টা করা উচিত। বাড়িতে যাঁরা সুগার মাপেন, তাঁদের জন্য পরামর্শ, কেবল দিনে এক বার করে পরীক্ষা করলে হবে না। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে করতে হবে। কারণ, কোনও কোনও রোগীর ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, ফাস্টিং ব্লাড সুগার বা খালি পেটে রক্তে শর্করার মাত্রা এবং ভরা পেটে সুগারের মাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে, কিন্তু এইচবিএ১সি ৬.৫ শতাংশের বেশি। এটা কেন হয়? যদি কেবল মধ্যাহ্নভোজের পর সুগার চেক করেন, তা হলে সম্পূর্ণ ধারণা পাওয়া যায় না। হয়তো বা প্রাতরাশ বা নৈশভোজের পর সুগারের মাত্রা বেড়ে যায়, কিন্তু পরীক্ষা করেন না বলে জানতে পারেন না। এমনও হতে পারে, সুগার কমে গিয়ে খিদে পাচ্ছে, তখন পেট ভরে খাবার খেয়ে নিচ্ছেন, আর সেই সময়ে সুগারটা অনেকটা বেড়ে যাচ্ছে।’’
তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রতিবার খাবার খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর কিংবা বিভিন্ন বেলার খাবারের পর ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে রক্তে শর্করা মাপা উচিত। কেবল এক বেলার পরীক্ষায় পুরো দিনের সুগারের মাত্রা সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া যায় না।
সুগার কমে গেলেও বিপদ
রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি কমে যাওয়ার বিষয়েও সতর্ক থাকা জরুরি। চিকিৎসকের মতে, সুগার ৭০-এ নেমে গেলে তা হাইপোগ্লাইসেমিয়া হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই রক্তে শর্করার মাত্রা সব সময় ৮০-এর ওপরে রাখার চেষ্টা করা দরকার।
তবে রক্তে শর্করার লক্ষ্যমাত্রা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই পরীক্ষার ফলাফল, ওষুধ ও শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত। সূত্র: আনন্দবাজার