মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ :

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

ওজন কমাতে যেসব ভুল করবেন না

ওজন কমাতে যেসব ভুল করবেন না

ছবি সংগৃহীত

বিজ্ঞাপন
সুস্থ থাকতে খাবারের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। কিন্তু স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে গিয়ে অনেক সময় আমরা বিপদ ডেকে আনি। তাই খাওয়ার ব্যাপারে এমন কিছু অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে, যা শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ না হয়ে দাঁড়ায়। কেউ ওজন কমাতে ভাত ছেড়ে দেন, কেউ ফলের চিনিকে ভয় পান, আবার কেউ স্বাস্থ্যকর খাবার বলে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খেয়ে ফেলেন। অথচ সুস্থ থাকার জন্য দরকার সুষম খাবার, পরিমিতি ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস।

ভাত পুরোপুরি বাদ দেওয়া

ওজন কমানোর জন্য ভাত বাদ দেওয়াকে অনেকে প্রথম পদক্ষেপ মনে করেন। কিন্তু ভাত শরীরের শক্তির গুরুত্বপূর্ণ উৎস। শুধু ভাত খেলেই ওজন বাড়ে, এমন ধারণাও ঠিক নয়। বরং মোট কতটা খাবার খাওয়া হচ্ছে, খাবারে কী ধরনের উপাদান আছে এবং দৈনন্দিন শারীরিক পরিশ্রম কতটা হচ্ছে, সেগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। ভাতের সঙ্গে শাকসবজি, ডাল, মাছ, ডিম কিংবা পরিমিত মাংস খেলে খাবারে ভারসাম্য রাখা সহজ হয়।

ফল খেতে ভয় পাওয়া

ফলে প্রাকৃতিক চিনি থাকে বলে কেউ কেউ ওজন কমানোর সময় ফল খাওয়া কমিয়ে দেন। কিন্তু ফলে ভিটামিন, খনিজ, পানি ও আঁশ থাকে, যা শরীরের জন্য উপকারী। ফলের প্রাকৃতিক চিনি আর কোমল পানীয় বা মিষ্টিজাতীয় খাবারে যোগ করা চিনিকে একভাবে দেখা ঠিক নয়। তাই চিকিৎসকের বিশেষ নিষেধ না থাকলে খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণে গোটা ফল রাখা ভালো। ফলের রসের বদলে গোটা ফল খাওয়াও ভালো অভ্যাস।

সব ধরনের চর্বি এড়িয়ে চলা

চর্বি মানেই ক্ষতিকর—এ ধারণাও ভুল। শরীরের স্বাভাবিক কাজ, কিছু ভিটামিন শোষণ এবং কোষের গঠনের জন্য চর্বি প্রয়োজন। তবে সব ধরনের চর্বি সমান উপকারী নয়। অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স ফ্যাটের বদলে বাদাম, বীজ ও মাছের মতো খাবার থেকে স্বাস্থ্যকর চর্বি গ্রহণ করা ভালো। ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার কমিয়ে আনা উচিত।

স্বাস্থ্যকর খাবার বলে বেশি খাওয়া

বাদাম, ওটস, ফল কিংবা অলিভ অয়েল স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। কিন্তু স্বাস্থ্যকর বলেই এগুলো ইচ্ছেমতো খাওয়া যাবে, এমন নয়। বাদাম ও তেলে ক্যালরি বেশি থাকে। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণ কঠিন হতে পারে। তাই খাবারের গুণাগুণের পাশাপাশি পরিমাণের দিকেও নজর দিতে হবে।

খাবার বাদ দিয়ে ওজন কমানোর চেষ্টা

দ্রুত ওজন কমানোর আশায় সকালের নাশতা বা দুপুরের খাবার বাদ দেন অনেকে। এতে কারও কারও অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগতে পারে, ফলে পরে বেশি খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা সবার জন্য উপযোগীও নয়। বরং নিজের দৈনন্দিন কাজ, ক্ষুধা ও শারীরিক প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত সুষম খাবার খাওয়া ভালো।

সবশেষে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মানে প্রিয় খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়া নয়। বরং পরিমিত পরিমাণে বিভিন্ন ধরনের খাবার খাওয়া, শাকসবজি ও ফল রাখা, অতিরিক্ত লবণ-চিনি কমানো এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের অভ্যাস গড়ে তোলাই সুস্থ থাকার বাস্তবসম্মত পথ।

ঠিকানা/এনআই

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Developed by SolveEz