সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ :
• ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির দুই সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি • ইনানীতে গ্যাসের আগুন কমতে লাগবে ১৫ দিন • ফেসবুকে ছেলের এইচএসসি পাসের খবর চুয়াডাঙ্গা ছাত্রদল সভাপতির, কমিটি বিলুপ্ত • শ্রমিকদের ব্যবহার করে অনেকেই সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন যোগাচ্ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী • যুদ্ধ শুরু হলে তা হবে দীর্ঘস্থায়ী ও ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণের বাইরে : ইরান • এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা বৃদ্ধি বড় কূটনৈতিক সাফল্য : হুমায়ুন কবির • পোশাক কারখানা চালু রেখে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর • পোশাক শ্রমিক আন্দোলন নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠক শুরু • যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযানের জন্য নতুন লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করছে ইরান : আইআরজিসি • সাভার-আশুলিয়ায় ১৭৭ কারখানায় ছুটি

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

বিজ্ঞাপন
​চীনের লাইফলাইন কানেকশন ★ ভারতের চাণক্য বুমেরাং

ইস্ট লুকে আশা সাইবারে হতাশা

ইস্ট লুকে আশা সাইবারে হতাশা

এআই জেনারেটেড ছবি।

বিজ্ঞাপন
গণমাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রাসঙ্গিক করার বিষয়ে ঘোর আপত্তি সরকারের। সমান্তরালে সরকার ও বিএনপির একটি হার্ড কোরের সঙ্গে শেখ হাসিনার বিশেষ কানেকশনের গুজবের ঢেউও বেশ উত্তাল। এমন উতাল সময়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান মঙ্গলবার দিয়েছেন চিকন-কঠোর একটি বার্তা। শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কোনো কোনো গণমাধ্যম এটা মানছে না বলে ক্ষোভ জানিয়েছেন। গণমাধ্যমগুলোকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বাস্তবে ঘটনা ও বাস্তবতার ধারা কারও আহ্বান, আবেদন, নিবেদনের ধার ধারছে না। মূলধারার গণমাধ্যমে ইনিয়ে-বিনিয়ে হলেও নানা খবরাখবরে শেখ হাসিনাকে প্রাসঙ্গিক করে রাখা হচ্ছে। আর সোশ্যাল মিডিয়া এখন শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগে সয়লাব। সেই সঙ্গে পিলে চমকানো গুজবের ছটা। সত্য-মিথ্যা নির্ণয় কঠিন।
কখনো কখনো সঠিক তথ্য জানতে জানতে ঘটন-অঘটনের ঘনঘটা ঘটে যাচ্ছে। গুজব-অপতথ্য মেলানো নানা কনটেন্টের পুরো বেনিফিশিয়ারি হচ্ছে আওয়ামী লীগ। তা রোখার শত চেষ্টা বিফলে যাচ্ছে। সামনে বড় রকমের সাইবার আক্রমণের শঙ্কা সরকারের অন্দরমহলকে চরম ভাবিয়ে তুলেছে। রাজধানী লাগোয়া তুরাগ নদে লাশের পর লাশের ভয়ানক গুজবের কয়েক মিনিটেই সেদিন দেশে লঙ্কাকাণ্ড ঘটে যাওয়ার অবস্থা হয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতা-কর্মী এবং দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামাজিক মাধ্যমের পেজগুলো দাবি করছে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির পর কয়েকজন নিখোঁজ হয়েছেন এবং উদ্ধার হওয়া লাশগুলো তাদেরই।
এর মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ও অভিযোগ করেছেন, ‘তুরাগের ঘটনা’ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি একটি গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে নিহতদের মৃত্যুকে অপমৃত্যু হিসেবে দেখানোর চেষ্টার অভিযোগও তুলেছেন। তবে তার দেওয়া অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। এ নিয়ে পানি-রক্ত মেলানো ফুটেজ মেলানো কনটেন্টে ফোরাত আর তুরাগ নদ একাকার করে ফেলা হয়। যদ্দুর সম্ভব সরকার পরিস্থিতি সামলিয়েছে। এভাবে কোন দিন কোনটা রটিয়ে দেশে কোন সর্বনাশ ঘটিয়ে দেওয়া হয়, সেই তাড়নায় ভেতরে ভেতরে কাবু দশা সরকারের। এ ছাড়া সরকার বড় রকমের কোনো আপদ দেখছে না। স্থানিক-আন্তর্জাতিক সব মুশকিল ইস্ট লুকে ফয়সালার ছকে এগোচ্ছে সরকার। ইস্ট লুক দেশের অর্থনীতিকে রাইট ট্র্যাকে ফেরাবে বলে আশাও করছে সরকারের হিডেন কোর। মাত্র কয়েক মাসের শিশু সরকারকে এরই মধ্যে বিশ্বব্যাংক ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি জরুরি ঋণ দিয়েছে। মানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব বাংলাদেশকে গুড বুকে নিয়েছে। তার ওপর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। ব্রিকসের সদস্য হতে চীনের সহযোগিতা, আসিয়ানের সদস্য হতে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা বাংলাদেশের লুক ইস্ট পলিসি বেশ কাজে দিচ্ছে।
বাংলাদেশ মিয়ানমার চীনের সরাসরি সড়ক যোগাযোগে এক্সট্রা বেনিফিটের আশা তো রয়েছেই। বিশেষ করে, মালাক্কা প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইন্দোনেশিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা চুক্তি চীনকে নতুন করে ভাবাচ্ছে তার বিকল্প সরবরাহ লাইন ঠিক করার। ঠিক এই জায়গায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশ হতে যাচ্ছে চীনের জন্য বিকল্প লাইফলাইন। তা বাংলাদেশকে চাপে রাখতে ভারতের চাণক্য নীতিকে বরবাদ করবে। সেই নমুনা বুঝেই ভারত তার পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতি বাঁচাতে দুই বছর পর বাংলাদেশের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা উন্মুক্ত করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর শেষ হতে না হতেই প্রেসিডেন্ট শি’র বয়ান উচ্চাশার পারদ আরও জাগিয়ে দিয়েছে। শি উল্লেখ করেছেন, বিশ্ব যত পরিবর্তিতই হোক, চীন সর্বদা বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু, ভালো প্রতিবেশী ও ভালো অংশীদার।
চীন বাংলাদেশকে জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা সমুন্নত রাখতে, বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করতে সমর্থন দেবে বলেও জানানো হয়েছে। আলোচিত তিস্তা মহাপ্রকল্প নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছে চীন। বলা হয়েছে, বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে টার্গেট করে পরিচালিত হয় না এবং এতে বাইরের কোনো দেশের প্রভাব বিস্তার করা উচিত নয়। চীনের ঢাকাস্থ দূতাবাসের ফেসবুক পেজ থেকে জানানো হয়েছে, ‘বৃহত্তর আঞ্চলিক সংযোগের জন্য চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোরের উন্নয়নে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। এ করিডোর স্থাপিত হলে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন কার্যত বাংলাদেশের প্রতিবেশী হিসেবে আবির্ভূত হবে, যা বাংলাদেশের আরেক প্রতিবেশী ভারতের পছন্দ নয়। তারা স্পষ্ট দেখছে, ভারত-বাংলাদেশের স্বাভাবিক সম্পর্কের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেওয়া হয়েছে। স্পষ্টত, বাংলাদেশের জনগণ বন্ধু হিসেবে এখন ভারতের বিকল্প খুঁজছে। চীনের প্রেসিডেন্ট বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়ার দুই মেয়াদের বিভিন্ন পর্যায়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন, ‘লুক ইস্ট পলিসি’র মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়টি প্রাধান্য দেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে তা আর রূপ নিতে পারেনি। অপরদিকে আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে বিএনপির এ কূটনৈতিক বিপর্যয়ের সুযোগ নেয়। এ সময় কোনো স্নায়ুযুদ্ধ না থাকায় ভারত আঞ্চলিক মোড়ল হয়ে ওঠার সুযোগ পায়। এ সুযোগে আওয়ামী লীগ চীনের সঙ্গে বন্ধুত্ব গভীর করে ফেলে। এই চীনের সঙ্গেই আওয়ামী লীগের বন্ধুত্ব এমন পর্যায়ে পৌঁছায়, ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর চীনের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা বার্তার স্মারক হিসেবে সর্বপ্রথম গণভবনে উপস্থিত হয়ে শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে নৌকা প্রতীক উপহার দেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিতর্কিত বিজয়ের পরও ২০২৪ সালের ৮ জানুয়ারি গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন অভিনন্দন বার্তা পৌঁছে দেন এবং শেখ হাসিনার হাতে একটি চীনা নৌকার রেপ্লিকা উপহার হিসেবে তুলে দেন। কিন্তু ভেতরে ভেতরে পরিস্থিতি বদলে যেতে শুরু করে ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর। যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টি নিবদ্ধ হয় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ওপর। শেখ মুজিবের শাসনামলে স্বীকৃতি না দেওয়া চীন কীভাবে মুজিব-কন্যা শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হলো, তা নিয়ে রয়েছে অনেক আলোচনা। এটা সম্ভব হয়েছিল স্নায়ুযুদ্ধবিহীন পরিস্থিতিতে। একক বিশ্বের নেতৃত্ব দেওয়া যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক নেতৃত্ব তুলে দিয়েছিল ভারতের হাতে। ভারত মনে করেছিল, যুক্তরাষ্ট্র সঙ্গে থাকলে চীন কোনো চাপ দিতে পারবে না।
২০১৭ সালে নতুন স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হলে চীন ও রাশিয়ার মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরি হয় এবং ভারতের চিরশত্রু পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আগের স্নায়ুযুদ্ধের সময়ের মতো শক্তিশালী করে তোলে। যুক্তরাষ্ট্র বুঝতে পারে, চীনকে মোকাবিলা করার ক্ষমতা ভারতের নেই। তাই চীনের বলয়ে থাকা দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র নিজের দিকে টানতে শুরু করে। শেখ হাসিনাবিহীন বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের বন্ধুত্ব নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে ভারত। আলামত বুঝেই আবার মোচড় দেওয়া শেখ হাসিনার। এ বছরের মধ্যেই দেশে ফেরার আওয়াজ। জনগণের সঙ্গে আছেন, থাকবেন এবং আওয়ামী লীগের আবার জেগে ওঠার বার্তা। ঘোষণা বা বার্তাটি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় রয়েছে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং দলের শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ মামলা, গ্রেপ্তার বা আত্মগোপনে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ ইমেইল সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না... সব বাধা উপেক্ষা করে আমি চলতি বছরই দেশে ফিরব।’ তার এই বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশে তার প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা জল্পনা চলছিল। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাও গত কয়েক মাসে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, দলীয় সভাপতি দেশে ফিরতে পারেন। এবার প্রথমবারের মতো শেখ হাসিনা নিজেই সময়সীমা উল্লেখ করে দেশে ফেরার ঘোষণা দিলেন। এর অল্প সময়ের মাঝেই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত কূটনীতিক, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সাবেক ডেপুটি চিফ অব মিশন জন এফ. ড্যানিলোভিচির টুইট। বলে দিয়েছেন, ‘হাসিনা হয় জেলে নয়তো নির্বাসনে মারা যাবেন। নতুন বাংলাদেশে তার ও তার পরিবারের কোনো জায়গা নেই।’

নিউজটি শেয়ার করুন


সর্বশেষ আপডেট

 
© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Developed by SolveEz