এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা বৃদ্ধি বড় কূটনৈতিক সাফল্য : হুমায়ুন কবির
ঠিকানা অনলাইন
প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ২১:১৪
•
অনলাইন সংস্করণ
ছবি : সংগৃহীত
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জন্য বড় কূটনৈতিক সাফল্য বলে মন্তব্য করেছেন ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। ১ নভেম্বর (রবিবার) টেলিফোনে বার্তা সংস্থা ইউএনবির সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এলডিসি থেকে উত্তরণের সময় বাড়ানো বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দক্ষ নেতৃত্বে সরকার গঠনের মাত্র আট মাসের মধ্যে এ সাফল্য অর্জিত হলো।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা জাতিসংঘ ও বিশ্ব সম্প্রদায়কে যথাযথভাবে এর প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে সক্ষম হয়েছি।’
প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ১ থেকে ৪ নভেম্বর অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডায় অনুষ্ঠেয় কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠকে অংশ নেওয়ার আগে এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে, যেখানে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাংলাদেশকে আরও তিন বছর বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে উত্তরণের সময়সীমা ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার জানায়, এই সিদ্ধান্ত বর্তমান সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জন। এর ফলে অর্থনৈতিক সক্ষমতা জোরদার, রপ্তানি প্রতিযোগিতা বাড়ানো এবং এলডিসি-সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সুবিধা ও আন্তর্জাতিক সহায়তা হারানোর আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ অতিরিক্ত সময় পাবে।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান বলেন, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণ ঘটাচ্ছে আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ার কারণে নয়, বরং এটি জনগণের আকাঙ্ক্ষা। এটি একটি জাতীয় অপরিহার্য লক্ষ্য এবং সরকার তা অর্জনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
নতুন সরকার গঠনের পর বাংলাদেশ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে সময় বাড়ানোর আবেদন করে। আবেদনে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, পরিবর্তিত বাণিজ্য পরিস্থিতি, জ্বালানি ও সরবরাহব্যবস্থার ঝুঁকি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করা হয়।
জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি বাংলাদেশের আবেদনটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার সুপারিশ করে। এরপর ২১ জুলাই জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বিষয়টি সাধারণ পরিষদে পাঠানোর সুপারিশ করে।
আলোচনা সহজ করতে সরকার একটি তিন বছর মেয়াদি রূপরেখা তৈরি করে, যেখানে মসৃণ ও টেকসই উত্তরণ নিশ্চিতে পরিমাপযোগ্য বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরা হয়।
বর্ধিত এই সময় বাংলাদেশকে কাঠামোগত দুর্বলতা মোকাবিলা, রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা, অবকাঠামো ও সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নের বাড়তি সুযোগ দেবে।
এ ছাড়া নতুন নির্ধারিত উত্তরণের সময়সীমার আগে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন এবং আরও প্রতিযোগিতামূলক, বহুমুখী ও স্থিতিশীল অর্থনীতি গড়ে তোলার জন্য এই সময় বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ করে দেবে।