বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

আজ থেকে শুরু হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন, পাবে ৩৪ লাখ শিশু

আজ থেকে শুরু হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন, পাবে ৩৪ লাখ শিশু

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশে হামের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই আবারও বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।
 
এই ক্যাম্পেইনে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হবে। পাশাপাশি নিয়মিত টিকাদানে যেসব শিশু বাদ পড়েছে, তাদেরও টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। টিকা দেওয়া হবে ৩৪ লাখ শিশুকে। 

এদিকে সংক্রমণের এলাকা শনাক্ত করে সব ঝুঁকিপূর্ণ শিশুকে সুরক্ষা দেওয়া এবং রোগী থেকে সংক্রমণ ঠেকানোর উদ্যোগ ছাড়া হাম নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে বলে ধারণা করছেন জনস্বাস্থ্যবিদেরা।

শুক্রবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, আজ রাজধানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে দেশব্যাপী বিশেষ হাম–রুবেলার টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬–এর উদ্বোধন করবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সঙ্গে থাকবেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। এই ক্যাম্পেইন চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। এই সময় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। এই শিশুরা ৫ এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত চলা হাম–রুবেলার টিকার মূল ক্যাম্পেইন থেকে বাদ পড়েছিল। উল্লেখ্য, হামের টিকার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে ভুল করেছিল স্বাস্থ্য বিভাগ।

টিকা নেওয়ার বিষয়ে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. হালিমা জানান, ৯ থেকে ১৫ মাসে যে দুটি টিকা আমরা যেটিকে এমআর ভ্যাকসিন বলি, অবশ্যই সেটা নিতে হবে। যথারীতি, সরকারের ইপিআই শিডিউল অনুযায়ী টিকা নেবে এবং অতিরিক্ত ডোজটিও নিয়ে রাখবে। মা-বাবাদের বলতে চাই, আপনারা আপনাদের বাচ্চাদের অবশ্যই টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসবেন এবং হাম-রুবেলার যে ভ্যাকসিনটা, অবশ্যই আপনারা সবাই দেবেন।

এদিকে, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মির্জা মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম বলেন, যেটা শুরু হবে, এটাকে বলে মপআপ প্রোগ্রাম। মপআপ মানে হচ্ছে, যারা বাদ পড়ে গিয়েছে, বা যারা জানত না, বা কোনো কারণে তাদের লজিস্টিক প্রবলেমে আসতে পারেনি, তাদেরকে ক্যাচ করা। সুতরাং, এটাও একটা বিরাট ফ্যাক্টর।

এর আগে ইউনিসেফ, গ্যাভি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত সারাদেশে হামের টিকাদান কর্মসূচি চলে । এসময় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

এর আগে, মার্চ মাসের শুরুতে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। সাত মাস পরেও হাম নিয়ন্ত্রণে আসেনি। 

সাত মাসের হিসাবে দেখা যাচ্ছে, চলতি বছর হামে ১ হাজার ৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৮৩ জন এবং নিশ্চিত হামে ১০১ জন মারা গেছে। এই সময় সারা দেশে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৮৩৩ জন হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসে। এই সময় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয় ২১ হাজার ১৫ জনের। গতকাল সারাদেশে পাঁচ হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় প্রধান উপায় টিকা। আমরা ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে টিকার আওতায় আনতে চাই। ইপিআইয়ের মাধ্যমে নিয়মিত টিকাদান চলবে, পাশাপাশি ক্যাম্পেইনও চলবে।’

জনস্বাস্থ্যবিদেরা জানান, হাম নিয়ন্ত্রণের মূল লক্ষ্য হতে হবে হাম পরিস্থিতি প্রাদুর্ভাবের পূর্বের অবস্থায় নিয়ে যাওয়া। প্রাদুর্ভাবের আগের বছর হামে কোনো মৃত্যু ছিল না, এক বছরে আক্রান্ত ছিল মাত্র ১৩২ জন। অনেকে মনে করছেন, বাংলাদেশের জন্য ওই পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়া অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

ঠিকানা/এসআর

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Developed by SolveEz